ক্রিকেটের মহাকাব্যিক লেখক বলেছিলেন স্কোরবোর্ড একটা গাধা। অর্থাৎ সে যা দেখায় ক্রিকেটের মাহাত্ম্য আরো গভীরে। এখানে আমি মানসিক রোগ নিয়ে কিছু পরিসংখ্যান দেব। কিন্তু মানসিক রোগের সমস্যা আরো গভীরে।
আমরা শরীরের রোগকে যতটা গুরুত্ব দিই ততটা গুরুত্ব মনের রোগকে দিইনা। অথচ এই মুহূর্তে অন্তত ১০০ কোটি মানুষ মানসিক রোগে ভুগছেন। সাধারণত যে রোগের মারণ ক্ষমতা বেশী সেই রোগকে তত ভয়ংকর ভাবা হয়। কিন্তু রোগের ভয়ংকরতা মাপার জন্যে বর্তমানে যে স্কেলটি ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় DALY বা Disability Adjusted Life Years এখানে মারণ ক্ষমতার সাথে সাথে নেওয়া হয়েছে না মেরেও মানুষটাকে রোগটা কতটা পঙ্গু করে দেয় যাতে সে পরিবারের কাছে একটি বোঝা হয়ে যায় সেই বিষয়টিও। এই মাপকাঠিতে সবথেকে ভয়ংকর প্রথম পনেরটার মধ্যে তিনটি মানসিক রোগ আছে। ডিপ্রেশন বা অবসাদ রোগ আছে দ্বিতীয় স্থানে।
দেখা গেছে মানসিক রোগের জন্যে একটি মানুষের গড় আয়ু প্রায় ১০ বছর কমে যায়। প্রতি ১০ জন মানসিক রোগীর মধ্যে ৮ জন গরিব দেশগুলির বাসিন্দা। LGBTQ, ST এবং দলিতদের আত্মহত্যার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। সারা পৃথিবীতে মোটামুটি ৮ লাখ লোক আত্মহত্যা করেন। তার মধ্যে প্রায় এক চতুর্থাংশ ভারতের। ভারতবর্ষে গড়ে প্রায় ২৮ জন নেশাড়ু আত্মহত্যা করেন। ভারতবর্ষের সমস্যা গভীর কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। প্রতি ৩ লাখ মানুষ প্রতি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ( সাইকিয়াট্রিস্ট ডাক্তার) আর প্রতি ১৪ লাখ মানুষ পিছু একজন মনোবিদ ( সাইকোলজিস্ট)। এমনিতেই চিকিৎসা বাজেট ভীষণ কম। জি ডি পির এক থেকে দেড় পার্সেন্টের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। তার মধ্যে প্রতি একশ টাকায় পাঁচ পয়সা আসে মানসিক চিকিৎসা খাতে। প্রয়োজন সিন্ধু আসে বিন্দু। তাই আমাদের দেশে শারীরিক স্বাস্থ্যের থেকেও মানসিক স্বাস্থ্য আরো বেশী অবহেলিত।










