হাইকোর্টের নির্দেশে দুই জুনিয়র ডাক্তার এর বেআইনি পোস্টিং বাতিল হয়ে নতুন পোস্টিং এর অর্ডার এল স্বাস্থ্যভবন থেকে। মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং অনুযায়ী যে পোস্টিং তারা পেয়েছিল সেই প্রাপ্য জায়গায় তাদের জয়েনিং অর্ডার বেরোল দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জয়ের পর।
ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়া ও ডাঃ দেবাশিস হালদার এর প্রতিহিংসামূলক বেআইনি পোস্টিং পরিবর্তনের শুরু থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট সংগঠনগতভাবে এই লড়াই চালিয়েছে, কিন্তু আজকের এই জয় প্রতিটি মানুষের যারা এই অসম যুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন সোচ্চার হয়ে। প্রসঙ্গত,”এরা গ্রামে যেতে চায় না তাই প্রতিবাদ করছে” -এই তৃণমূলী প্রোপাগান্ডাকে চুরমার করে এই জুনিয়র ডাক্তারেরা পরিবর্তিত পোস্টিং এই জয়েন করে এতদিন রোগী পরিষেবা দিয়েছে এবং সেখানকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছে।
ডাঃ দেবাশিস হালদারের অর্ডার দিন কয়েক আগে বের হলেও ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়ার অর্ডার কাল রাত অবধি না বেরোনোয় আজ আমাদের প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন দেয় স্বাস্থ্য ভবনে। ইতিমধ্যে সেই অর্ডার প্রকাশিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং বাতিল করে নতুন যে SOP বানানো হয়েছে তার প্রতিবাদেও আমাদের প্রতিনিধিদল ডি এম ইর সাথে দেখা করেছে।
আমরা আমাদের লিখিত দাবি জানিয়েছি। আশা করব নবগঠিত স্বাস্থ্যদপ্তর সমস্ত দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন।
কিন্তু তার আগে, নারায়ণ স্বরূপ নিগম, প্রিন্সিপাল হেলথ সেক্রেটারি যিনি এই প্রতিহিংসামূলক পোস্টিং এর পরিকল্পনাকারী তো বটেই, গত শাসকের আমলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ঘটা সমস্ত দুর্নীতির সাক্ষী ও সন্দীপ ঘোষ – অভীক – বিরূপাক্ষ – নর্থবেঙ্গল লবির সিন্ডিকেটরাজ এর পৃষ্ঠপোষক, যিনি অপার ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেছিলেন চাইলে যা খুশি করতে পারেন, তাকে নিয়ে কথা হওয়া প্রয়োজন।আমাদের দশ দফা দাবির দ্বিতীয় দাবি ছিল এই ব্যক্তির অপসারণ। এই মুহূর্তে আমাদের দাবি কেবল অপসারণ নয়, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি তৈরি করতে হবে, তদন্তের আওতায় আনতে হবে! তার প্রতিটি দুর্নীতির কুকীর্তি জনগণের সামনে প্রকাশ্যে আসুক।
আমাদের রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর রাজ্যের সমস্ত মানুষ নির্ভরশীল কোনো না কোনো মাত্রায়। এই ক্ষেত্রে দুর্নীতির মানে হল সমস্ত রাজ্যের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। যার উদাহরণ আমরা দেখেছি জাল স্যালাইন কাণ্ডে। ফলে, অতি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনতে হবে প্রিন্সিপাল হেলথ সেক্রেটারিকে। যাতে কোনো ক্ষেত্রে তথ্য প্রমাণ লোপাটের কোনো সুযোগ না থাকে।











