মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহাশয়,
আজ আমরা গভীর ক্ষোভ, বেদনা ও আশঙ্কা নিয়ে এই স্মারকলিপি পেশ করতে বাধ্য হচ্ছি।
বার বার প্রমাণিত হচ্ছে “বিলম্বিত বিচার মানে বিচারহীনতা”। দেশে কোটি কোটি মানুষ আজ বিশ্বাস হারাচ্ছেন যে আইন সবার জন্য সমান। সাধারণ নাগরিকরা বছরের পর বছর ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করেন, অথচ ক্ষমতাবান ও শাসকদল-ঘনিষ্ঠরা শাস্তি এড়িয়ে যায়।
আর.জি. কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাদের সমাজকে শিহরিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বলেছেন ঘটনার বীভৎসতায় তিনি স্তম্ভিত। শিয়ালদহ কোর্টের বিচারক বলেছেন ১৯৪৫ এর ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি তে বোমা বর্ষণ যেমন পৃথিবীর ইতিহাসে এক ভয়াবহ ঘটনা, ২০২৪ এর ৯ অগাস্টের ঘটনার ভয়াবহতাও সারা ভারত তথা পৃথিবী কে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
অথচ এই নজিরবিহীন নৃশংস ঘটনার এক বছর অতিক্রান্ত হলেও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হয়নি কাউকে।
এই জঘন্যতম অপরাধের পর আমরা আশা করেছিলাম বিচারব্যবস্থা কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু আমরা দেখলাম তদন্তকারী সংস্থার গড়িমসি, নিষ্ক্রিয়তা এবং সর্বোচ্চ আদালতেরও নির্দিষ্ট ও দৃঢ় হস্তক্ষেপে অনীহা। এতে শুধু শোক নয়, প্রবল ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ভাবছে—যদি এই ভয়ঙ্কর অপরাধেও বিচার না হয়, তবে কার জন্য এই আদালত, কার জন্য এই আইন? এই ভয়ঙ্কর ঘটনার এখনো কোন বিচার না হওয়ায় সর্বত্র অপরাধ ক্রমবর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে- কুলতলি,গৌরাঙ্গ নগর,জয়গাঁও, কোন্নগর, ব্যারাকপুর, ক্যানিং,হরিদেবপুর, দুর্গাপুর,দত্তপুকুর,সোনারপুর, কালিগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় – পশ্চিম বঙ্গের বাইরে হরিয়ানার নয়ডা, মহারাষ্ট্রের সাতারা এবং আরো অসংখ্য জায়গায় গুরুতর নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন এবং সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে।
মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আজ যদি অপরাধীরা বুঝে যায় যে শাসকদলের নেতাদের আশীর্বাদ থাকলে আদালত, পুলিশ, তদন্ত সংস্থা তাদের কিছুই করতে পারবে না—তাহলে আগামী দিনগুলোতে সমাজ আরও অরাজক হবে। গণতন্ত্রের ভিত্তি ভেঙে পড়বে, আইন গুরুত্ব হারাবে, আর দেশের নাগরিকরা সম্পূর্ণভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
আশঙ্কা রয়েছে দেশের আইন ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগের ওপর আস্থা হারানোর। আমরা সেই ভয়ঙ্কর দিনের কথা কল্পনা করতেও চাই না। জনগণের পক্ষ থেকে আমাদের সুস্পষ্ট আবেদন ও অনুরোধ:
১. আর.জি. কর মামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করুন।
২ কোন রাজনৈতিক শক্তি যেন কোনভাবেই আদালতের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত না করতে পারে।
৩ তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাদের সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনি উদ্যোগ নিন।
৪ সংবিধান অনুযায়ী প্রভাবশালী ক্ষমতাবান বা কোন রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, আমলা কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় এই বিষয়টি নিশ্চিত ভাবে প্রয়োগের বিষয়ে আপনার সক্রিয় ভূমিকা জনগণের মধ্যে ভারতীয় সংবিধানের উপর আস্থা কে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। আইনের সমতা নিশ্চিত করে ঘোষণা করুন যে কোনো ব্যক্তি—মন্ত্রী, নেতা, ক্ষমতাবান—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এই প্রত্যাশা থেকে আমরা আপনার কাছে আবেদন রাখলাম।












