১০ মার্চ, ২০২৬
তুফায়েল রেজা চৌধুরী, মালদার কুখ্যাত তৃণ নেতার ততোধিক কুখ্যাত ছেলে। আন্ডার গ্রাজুয়েট মালদা মেডিকেল কলেজ থেকে, সেখানকার থ্রেট কালচারের কিং পিন। কলেজের আনাচে কানাচে এখনও তার কুকর্মের কাহিনী অনুরণিত হয়।
এবার আসা যাক, অভয়ার ঘটনায় তার কী ভূমিকা ছিল সে প্রসঙ্গে। সেই সময় সে কলকাতা মেডিকেল কলেজে অর্থোপেডিক বিভাগের ডিপ্লোমা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি।
হঠাৎ ৯ই আগস্ট,২০২৪ এর পর থেকে দীর্ঘ তিনমাস নিখোঁজ। ডিউটিতে নেই,( অবশ্য তার আগেও প্রভাবশালী ‘ক্যাচ’ থাকার কারণে ডিউটিতে কমই পাওয়া যেত তাকে) নেই কলেজ ক্যাম্পাসে, হাসপাতালে, হোস্টেলে – কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি।
শেষ তাকে দেখা গেছিল ৯ই আগষ্ট আর জি কর মেডিকেল কলেজে। সন্দীপ ঘোষ বাহিনীর যে মাফিয়ারা ঘিরে রেখেছিল হতভাগ্য অভয়ার মৃতদেহ, অভীক বিরূপাক্ষ সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মেডিকেল কলেজ থেকে জাদুমন্ত্রবলে যারা আর জি করে পৌঁছে গেছিল, আর জি করের জুনিয়র ডাক্তাররা খবর পেয়ে জড়ো হওয়ার আগেই, তার মধ্যেই ছিল এই তুফায়েল। কীভাবে পৌঁছে গেছিল সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে স্বাস্থ্যভবনের এক চমকপ্রদ অ্যালিবাই সামনে এসে, বলা হয় স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতির জন্য নাকি এই গোটা থ্রেট কালচার মাফিয়া গ্যাং নাকি ওইদিন ময়দানে প্যারেড প্র্যাকটিস করতে এসেছিল, (ছবি ১) সেখান থেকে খবর পেয়েই সকলে আর জি কর পৌঁছায় বাকি কেউ জানার আগেই! এই তুফায়েল নাকি ছিল সেই প্যারেড প্রোগ্রামের অন্যতম আয়োজক!

এতদূর পড়ে অনেকের প্রশ্ন জাগবে কেন এত ইতিহাসের অবতারণা?
অবতারণা এই কারণে যে আপনারা সকলেই সিনিয়র রেসিডেন্টদের নতুন বেআইনি, অগণতান্ত্রিক SOP ও তাকে কার্যকরী করে ভয়ানক স্বৈরতান্ত্রিক ও টার্গেটেড প্রতিহিংসামূলক পোস্টিং সম্পর্কে অবগত। সেই SOP এর আসল উদ্দেশ্য ধীরে ধীরে পর্দার আড়াল থেকে প্রকাশ্যে আসছে! আসলে যে বেছে বেছে থ্রেট কালচারের কিংপিন দের আবার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে সে তো ইতিমধ্যে দেখেছিলাম সাসপেন্ডেড বিরূপাক্ষ বিশ্বাস কে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে। ( যদিও প্রবল জনরোষে সেই নোটিশ আপাতত স্থগিত রয়েছে। ) এবার আরো নির্লজ্জ নগ্ন ক্ষমতা প্রদর্শন শুরু হল এই সিনিয়র রেসিডেন্ট দের SOP ও পোস্টিং এর
জায়গায় যার উদাহরণ হচ্ছে এই তুফায়েল।
কীভাবে? ছবি ২ দেখুন। এটি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা পাশ করে যে সিনিয়র রেসিডেন্টরা পোস্টিং পেলেন তার লিস্ট। গাইনি, অর্থোপেডিক, এনেস্থেসিয়া, অপথ্যালমোলজি সহ সমস্ত বিষয়ের স্পেশালিস্ট ডাক্তার দের ৪৯ জনের প্রত্যেককে কোনো না কোনো জেলা হাসপাতাল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল , এবং বহুজনকে গ্রামীণ হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে (যেখানে ডিপার্টমেন্ট তো দূর, অপারেশন থিয়েটার অবধি নেই!)- কাউকে কোনো মেডিকেল কলেজ বা টিচিং ইনস্টিটিউট এ পোস্টিং দেওয়া হয়নি!কিন্তু এই নিয়মের একটিমাত্র উজ্বল ব্যতিক্রম এই তুফায়েল রেজা চৌধুরী। আবার কোনো বিশেষ দক্ষতায় ৪৯ জনের মধ্যে বিশেষ ভাবে নির্বাচিত হয়ে একমাত্র সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে মালদা মেডিকেল কলেজে পোস্টিং পেয়েছে! কোন দক্ষতার অধিকারী হয়ে সে বাকি ৪৮ জনের থেকে আলাদা প্রমাণিত হয়ে স্পেশালি এই পোস্টিং পেল সেটা বুঝতে কোনো রকেট সায়েন্স বুঝতে হয় না, এবং কী উদ্দেশ্যে এই SOP স্বাস্থ্য ভবন বানিয়েছে সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে!
এবার প্রশ্ন হল, এই অনৈতিক পোস্টিং ও SOP এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এর প্রস্তুতি তো চলছেই কিন্তু আমরা মনে করি বিচারব্যবস্থার যে চিত্র আমরা এতদিনে দেখতে পাচ্ছি, তাতে সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যদি একসাথে প্রতিবাদে রাগে ক্ষোভে গর্জে উঠতে না পারে, তাহলে এই শ্বাপদদের রাজত্ব ই প্রতিষ্ঠিত হবে, আর তাদের দাঁতে নখে ছিন্নভিন্ন হবে আরো হাজার হাজার অভয়া!









