অ্যাকাডেমি এবং আনন্দবাজারের দেওয়ালে গেরুয়া রং। যাদবপুরের দেওয়াল থেকে কার্ল মার্কসের লেখা, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী চিত্তপ্রসাদের ছবি, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের দেওয়ালে We want justice লেখা মোছার প্রতিযোগিতা চলছে। পুলিশ, বিধায়ক, মন্ত্রী সবাই হাত লাগিয়েছেন এই কাজে। দেশবিভাজন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কলঙ্কিত অধ্যায় নিয়ে ইতিহাস চর্চার নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানিচর্চা চলছে বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। গুন্ডারা পাচ্ছেন বীরের শিরোপা।
গত ১৫ অগাস্ট নানা দিকে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন উৎসবের মধ্যে চাপা পড়ে যায় একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। ১০৫ নং ওয়ার্ডে স্থানীয় শিশু ও কিশোরদের জন্য আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে যাদবপুরের বিধায়ক উপস্থিত হয়ে মূল অনুষ্ঠানসূচি স্থগিত রেখে কোন কারণ ছাড়াই ১৯৪৬ এ কলকাতা দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ডের বিকৃত গল্প পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতি গণিতজ্ঞ ও প্রাক্তন অধ্যাপক, কবি, পরিবেশ ও বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী মিহির চক্রবর্তী বিধায়কের কাছে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আবেদন জানালে চরম অপমানজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। মঞ্চের আলো নিভিয়ে জোর করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত সাড়ে এগারোটায় এক দল অপরিচিত যুবক অশীতিপর অধ্যাপকের বাড়ি চড়াও হয়ে প্রবীণ দম্পতিকে অকথ্য ভাষায় হুমকি দেয়।
স্বাধীন চিন্তা এবং সংস্কৃতির উপর এই ন্যক্কারজনক আঘাত বাংলার মানুষ মেনে নেবেনা। গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সকলের কাছে আমাদের মুক্ত সংস্কৃতি ও সুস্থ চেতনার ঐতিহ্যকে রক্ষা করার আবেদন জানাচ্ছি ।









