১১ অক্টোবর, ২০২৬
প্রতিবাদের বাঁধভাঙা জনস্রোতে, জনরোষে, তারুণ্যের প্লাবনে ভেসে গেল ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যারিকেড। যন্তরমন্তর সহ দিল্লি দুর্গের পতন হয়েছে অহিংস আন্দোলনকারীদের দৃপ্ত, নাছোড় জমায়েতে। গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, সংবিধান রক্ষা এবং ইলেকশন কমিশনের নজিরবিহীন নিয়ম লঙ্ঘন করার মূল কারিগর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়েছে দেশের রাজধানী। আগের থেকে দিল্লিগামী প্রায় সব ট্রেন বাতিল করে, মেট্রো রেল ও স্টেশন বন্ধ রেখে, নানান ধরনের হুমকি হেনস্থা উপেক্ষা করে, দল মত সব একসাথে, সমাজের বিভিন্ন পেশা, ধর্মের, হাজারে হাজারে নারী পুরুষ দাপিয়ে শ্লোগানে ফ্যাসিবাদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। ১৯৪৭ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এ ধরনের সমাবেশ নজিরবিহীন। সিজেপির আহ্বানে এই সমাবেশ। তাদের মুখ্যদের বেআইনি ভাবে বিমানের মধ্যে গ্রেপ্তারে মানুষ নেতৃত্বহীন হয়ে থেমে যাননি। নিজেরাই দায়িত্ব সহকারে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সিজেপি মুখ্য অভিজিৎ দীপকে গ্রেফতারের আগে বলেছেন “আমাদের প্রতিবাদ শুরুর আগেই নরেন্দ্র মোদী হার মেনে নিয়েছেন। দিল্লি পুরোপুরি লকডাউন, বিক্ষোভকারীদের গণহারে আটক করা শক্তির প্রমাণ নয়। নিজের দেশের মানুষের থেকে আতঙ্কিত একজন নেতার উদাহরণ”। ধ্রুব রাঠীর মতো প্রথিতযশা ইউটিউবারকে গুরুগ্রামে তার থাকার জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ ( ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের অন্যতম কারিগর) যন্তরমন্তরে গ্রেফতার করা হয়েছে। চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে ধরে রাখা হয়েছে। সারা দিল্লি জুড়ে নাকা বন্দি চলেছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান দিয়ে দিল্লিকে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা, কৃষকদের লাগাতার আন্দোলনে কৃষি আইন প্রত্যাহার এবং নয়ডার শ্রমিক আন্দোলন থেকে এই সরকার শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
দিল্লির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র থামিন আল খিতান বলেছেন, “যে ভাবে ভারতে গণহারে আন্দোলনকারী নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিকদের আটক করার তথ্য আসছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলনের অধিকারকে নিশ্চিত করা হোক “।
সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে উপস্থিত সকল জনের প্রতি সহমর্মিতা ও একাত্মতা অনুভবের সাথে সাথে সরকারের গায়ের জোরে মতপ্রকাশ ও নাগরিক তথা সামাজিক অধিকার দাবিয়ে রাখার ফ্যাসিস্ট অপচেষ্টাকে মঞ্চের পক্ষ থেকে তীব্র ধিক্কার জানানো হচ্ছে।
সংগ্রামী গণমঞ্চ ভোট অধিকার হরণের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে এবং পথে আন্দোলন করে চলেছে। দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা নির্বাচনে সকল বাতিল ভোটারদের, ট্রাইব্যুনালের টালবাহানা না করে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভোটদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবিতে আগামী ২৩শে নভেম্বর মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর ও কলকাতার নির্বাচন কমিশন দপ্তরে বিপুল সংখ্যক মানুষ ধর্ণায় বসবেন।
মার্টিন লুথার কিং বহুদিন আগে বলে গেছেন, ”সবচেয়ে অন্ধকার রাতেই সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাগুলো দেখা যায়”। তরুণ প্রজন্মের চেনা ছকের বাইরে আন্দোলনে এবং শ্রমিক কৃষক মেহনতি নাগরিকদের যৌথ সংগ্রামে, ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন সময়ের অপেক্ষা।










