
“ভয়ঙ্কর! বাজারে যা সাধারণের নাগালের ধরাছোঁয়ার একেবারে বাইরে, সেই ইলিশ এখন শয়ে শয়ে মিলছে নদীর পাড়ে। সব মরা।…. হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে গত দু’ দিন যাবৎ প্রচুর সংখ্যায় মরা ইলিশ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।…
পূর্ব পাড়েও এই ছবি। তালিকায় শুধু যে ইলিশ রয়েছে, এমনটা নয়। ভোলা, বিভিন্ন প্রজাতির ট্যাংরা, চিংড়ি , চ্যাং ও রয়েছে মড়কের তালিকায়।”
প্রতিবেদনটি আরও খানিকটা বড়ো, তবে মূল সমস্যাটি বুঝতে পারছি বলে তাকে আর দীর্ঘ করছি না। একদা এক কবি অবশ্য মজা করে লিখেছিলেন –
ডাঙায় চড়ে রুই কাতলা, জলের মাঝে চিল।
সে এক ওলট পালট হয়ে যাওয়া সময়ের কথা। একালেও অবশ্য তেমনই দশা আমাদের পৃথিবীর। জলের মাছ ডাঙায় উঠে আসে কখন? যখন জলের মধ্যে আর থাকা যায় না। জল– জলচর প্রাণিদের, বিশেষ করে মাছেদের বসবাসের পক্ষে অনুপযোগী হয়ে ওঠে। পৃথিবীর জলভাগের অবস্থা কি তেমনই হয়ে উঠেছে?
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এমন সামুদ্রিক তাপদাহের পৌনঃপুনিকতা এবং ভয়াবহতা ক্রমশই বাড়ছে এবং এই অবস্থা থেকে এই মুহূর্তে মুক্তি পাবার সম্ভাবনা কম। আমাদের হাতে এই পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই সমস্যাটিকে বুঝতে পারার চেষ্টা করতে হবে, কেননা এই সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যৎ ও আজ প্রশ্নচিহ্নের সামনে।



এই মুহূর্তে সমস্যার স্থায়িত্ব নিয়ে বিশেষ ভাবে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যেই তাঁরা এল নিনোর দাপট বেড়ে যাবার কথা জানিয়েছেন আমাদের।এর প্রভাবে জলভাগের তাপীয় ভারসাম্যের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। তার মানে, সামুদ্রিক বাসিন্দাদের আরও গভীর সমস্যার সামনে পড়তে হবে। ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের।

জুলাই ২৬. ২০২৬











