Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

প্র্যাক্টিস – নন প্র্যাক্টিস নিয়ে আরেকটু

Oplus_131072
Bappaditya Roy

Bappaditya Roy

Doctor and Essayist
My Other Posts
  • August 28, 2026
  • 7:22 am
  • No Comments

শুধু এডমিশন ডে সংলগ্ন তিনদিন নয় সমস্ত ধরনের সরকারি চিকিৎসকদের সম্পূর্ণভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে এবং সেটি কঠোরভাবে বলবৎ করতে হবে নতুবা আমাদের দেশ ও রাজ্যের পরিস্থিতিতে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কখনই কার্যকর হবে না।

উপরোক্ত বক্তব্যের জন্য কিছু চিকিৎসক বন্ধু সমর্থন করেছেন। অনেকে বিরোধিতা করেছেন। অনেকের বক্তব্যে ‘ গেল গেল ‘ রব, ‘ বড় বড় ‘ ডাক্তারবাবু রা চলে গেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাকি আরও ভেঙ্গে পড়ল বলে।

দুঃখের হলেও দুই পক্ষকেই জানাচ্ছি বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক সমাজ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভাল কিছু করতে না পারুক আরও ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম। এটা শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে নয় সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। রাজনীতিক, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা, পুলিশ, আইনজীবী, সাংবাদিক .. ।

অবশ্যই কিছু দেবদূত (Angels) দের বাদ দিয়ে। ষাটোর্ধ জীবনে এবং ত্রিশোর্ধ চাকরি জীবনে অসাধারণ কিছু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীর সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়েছি। নমস্য তাঁরা ব্যতিক্রমী। তাঁদের এই আলোচনায় বাদ রাখছি।

একটি বড় সরকারি হাসপাতালের নামী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কোলে। সেদিন তার এডমিশান ডে। এক স্বাস্থ্য কর্মী তার সমস্যাক্রান্ত প্রসূতি স্ত্রী কে ওনার আন্ডারে ভোরবেলা এমার্জেন্সি থেকে ভর্তি করেছেন। বেলা বারোটা বেজে গেছে, রোগী তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। কিন্তু ডাক্তারবাবু একবারও দেখেন নি এবং তাকে হাসপাতালে পাওয়াও যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল সকালে আউট ডোরে একবার মুখ দেখিয়েই তিনি খেপ খেলতে চলে গেছেন। তার বিপুল মুনাফা থেকে সব মহলে ছড়ানো আছে, তাই তিনি বিনা বাধায় এসব চালিয়ে যাচ্ছেন।

কলকাতার এক বড় সরকারি হাসপাতালের এক মহিলা স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুখার্জি। প্রবল দুর্ব্যবহার, ভালো করে রোগী দেখেন না, অপারেশনের হাত আরও খারাপ। আগেও যেখানে যেখানে ছিলেন অনেক অপকীর্তি করে এসেছেন। জোর করে সিজার করবেন আর প্রায়ই শিশু মৃত্যু ঘটবে। যা নিয়ে তীব্র জনরোষ চলবে, অন্যরা সমস্যায় পড়বেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যাবতীয় তদন্ত রিপোর্ট কোন হিমঘরে হিম হয়ে যায় কারণ তার পিছনে এক প্রভাবশালী শাসক দলের নেতা।

আরেক সরকারি হাসপাতালের প্রভাবশালী স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পাল। বেশিরভাগ রোগী ওনার, প্রথমে চেম্বারে দেখিয়ে একবার ফিজ দিয়ে বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালে ওনার অধীনে ভর্তি হয় কারণ নার্সিং হোমে থাকার রেস্ত নেই। তারপর প্রসব করার সময় তারা তার নার্সিং হোমে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সিজার করতে চলে যায়। নতুন এক স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ যোগ দিয়ে ভাল কাজ করছেন, হাসপাতালেই প্রসব ও সিজার করছেন। হঠাৎ হাসপাতালে গণ্ডগোল বেড়ে গেল। দুদিন নতুন ডাক্তারবাবু আক্রান্ত হলেন। পুলিশের কাছ থেকে জানা গেল ডাঃ পাল দুষ্কৃতী দের দিয়ে এগুলো করাচ্ছেন।

আরেকটি সরকারি হাসপাতাল। একজন অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ চক্রবর্তী। ভাল ওটি, যন্ত্রপাতি, অ্যানাস্থেটিস্ট আছেন। কিন্তু তিনি আউট ডোরে ভাল করে রোগী দেখবেন না, হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি করবেন না, হাসপাতালে কোন অপারেশন করবেন না। দেরি করে আসবেন, কিছুক্ষণ সিগারেট খাবেন, তারপর খেপ খেলতে বেরিয়ে পড়বেন। তার বরাভয় শাসক দলের চিকিৎসক সংগঠনের এক বড় নেতা।

আরেক ব্যস্ত সরকারি হাসপাতাল। সকাল সাড়ে দশটা বেজে গেছে। সার্জন সাহেব তার সরকারি কোয়ার্টারে তখনও চুটিয়ে প্র্যাকটিস করছেন। ওদিকে হাসপাতালে তার আউট ডোরে দূর দূরান্ত থেকে আসা গরীব রোগীরা হা পিত্যেশ করে বসে আছেন। একটি অ্যাকিউট এপেন্ডিসাইটিস এর কেস ব্যথায় ছটফট করছে। অনেক পরে ব্যক্তিগত সহকারীদের নিয়ে উনি হাসপাতালে এলেন। হাসপাতালে সব ব্যবস্থা আছে অথচ ঐ রোগী কে দেখে সহকারীদের ইশারা করলেন। তারা বাড়ির লোককে বোঝালেন এখানে কিছু হয়না, উলটো দিকের নার্সিং হোম এ গিয়ে ভর্তি করো। ডাক্তারবাবু অপারেশন করে দেবেন। পাশাপাশি টাকার অঙ্কটাও জানালেন।

আরেক সরকারি হাসপাতাল। নামী রেডিওলজিস্ট ডা: ঘোষ। বিস্তৃত অঞ্চলে তার প্র্যাক্টিস। কিন্তু হাসপাতালের দামি ইউএসজি মেসিন সবসময় খারাপ করে রাখবেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে সব হবে, এখানে নয়।

এরকম অজস্র উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যে মেডিকেল এডুকেশন সার্ভিসের কথা হচ্ছে সেখানে না গিয়ে অথবা মাত্র কয়েকদিন গিয়ে, সেদিন গুলিতেও ইচ্ছেমত দেরিতে গিয়ে, আগে বেরিয়ে, ঠিকমত রোগী না দেখে, না পড়িয়ে, পুরো মাইনে নিচ্ছেন। সরকারি মাস মাইনে দেড় – দুলাখ টাকা। এর উপর ট্রেনিং, পরীক্ষা নেওয়া ইত্যাদিতে উপার্জন আছে। কাজের সময় তাদের বৃহৎ অংশ প্র্যাকটিস তো করছেনই, এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ গুলোয় পড়ানোর নামে আরও অর্থ উপার্জন। আর ছাত্রদের নানা রকম ভুজং ভাজং দিয়ে টুকতে সাহায্য করে কোনরকমে পাশ করিয়ে দেওয়া এবং চিকিৎসকের নামে শত শত অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস তৈরি করা। এদের কেউ কেউ আবার টিউশনের ব্যবসা ফেঁদেছেন।

এই সব ‘ বড় বড় ‘ ডাক্তাররা সার্ভিস থেকে যদি চলেও যান ক্ষতি না মঙ্গল? প্রথমত এরা যাবেন না, এদের খ্যাতি সরকারি হাসপাতাল নির্ভর, তাছাড়া তারা স্বভাবসুলভ সবকিছু খুঁটে খেতে ভালোবাসেন, এত তাদের অর্থের লোভ। আর গেলেও প্রাথমিক ঝটকা সরকার সামলাতে পারলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দিব্যি চলবে।

সরকারের উচিত প্রতি বছর দুবার করে ইন্টার্ভিউ নিয়ে নতুন চিকিৎসকদের সরকারি চাকরিতে বেশি বেশি করে নিয়ে আসা। তাদের থাকার ও কাজের পরিবেশের উন্নতি ঘটানো। তারসঙ্গে স্বচ্ছ বদলি নীতি ও টাইম বাউণ্ড প্রমোশন। আর শুরুতেই মুচলেকা নিয়ে নেওয়া যে সপ্তাহে ছয়দিন কাজ করতে হবে ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা চলবে না। আরেকটি বিষয় করতে হবে চাকরির শুরুতে পরিবেশ, পরিস্থিতি, নিয়মাবলী, প্রধান রোগব্যাধি ইত্যাদি নিয়ে একটি induction training। এনারা যথেষ্ট ভাল কাজ করবেন।

বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় মেডিকেল কলেজ ও বড় হাসপাতাল কটি? নগণ্য। বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে, শহর ও শিল্পাঞ্চলের বস্তি – ঝুপড়িতে যেখানে বেশিরভাগ মানুষ বাস করেন রাত বিরেতে কারা চিকিৎসা পরিষেবা দেন? গ্রামীণ চিকিৎসক এবং হাতুড়ে ডাক্তার রা।

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে কারা চিকিৎসা পরিষেবা দেন? সামান্য বেতনের হাজার কাজের ‘ আশা ‘এবং ‘ এএনএম’ দিদিরা।

প্রাথমিক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা কারা চিকিৎসা পরিষেবা দেন? অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে ফার্মাসিস্ট, গ্রুপ ডি আর সুইপার রা।

কটা সিএসসি তে তিন ধরনের স্পেশালিস্ট আছেন? হাতে গুনে বলা যায়। থাকলেও কতক্ষণ কাজ করেন? লজ্জা দেবেন না। অন্যান্য মেডিকেল অফিসার রা কতক্ষণ ও কতদিন থাকেন? রস্টার এবং রোটেশন দেখে ঘাবড়ে যাবেন।

আর বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ গুলিতে? আর কথা বাড়ালাম না।

সুতরাং এই উপরোক্ত ‘ বড় বড় ‘ ডাক্তার নয়, আমাদের দরকার বেশ কিছু sincere তরুণ ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী।

বাম সরকার যে হেল্থ সার্ভিস কে তিনটি ভাগ করেছিলেন কোন লাভ হয়েছে? এই নিয়ে কোন সমীক্ষা বা এভালুয়েশন বাম কিংবা তৃণমুল সরকার করিয়েছেন? বিপরীতে তারা WBPHAS cadre থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শীর্ষে গাদাগুচ্ছ IAS, WBCS বসিয়ে মাথাভারী প্রশাসন বানিয়ে রেখেছেন যাদের আমাদের দেশের বাস্তব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কোন ধারণাই নেই। Senior WBPHAS অফিসার দের কাজ কেবল তাদের কাছে ফাইল পৌঁছে দেওয়া ও ‘ ইয়েস স্যার ‘ করা। নতুন বিজেপি সরকারও কি একই পদ্ধতি চালিয়ে যাচ্ছেন না?

এবার সামান্য পেছনে হাঁটি। ১৯৪৭ থেকে ‘৭৭ কংগ্রেস আমলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জমিদারি স্টাইলেই চলেছে। Bhore Committee প্রবর্তিত
স্বাস্থ্য কাঠামো, স্বাধীন দেশে নতুন কিছু করার স্বপ্ন, জাতীয়তাবাদ, নেহরুভিয়ান সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নের মডেল, রোগ ব্যাধি নির্মূল করতে সার্বিক চেষ্টা, ব্রিটিশ প্রবর্তিত শক্তিশালী মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে ভাল মন্দ মিশিয়ে সেটি এগিয়ে চলছিল। একদিকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অজিত পাঁজা দের লাম্পট্য ও ছাত্র পরিষদের দাদাদের গাঁজা, গুলি, বেলেল্লার গল্প যেমন শোনা যেত; তেমনই আবার সরকারি হাসপাতালের ভাল পরিষেবার কথাও শোনা যেত। ধনী পরিবারগুলি পিজি, মেডিকেল কলেজে যেতেন। তখন চিকিৎসার জন্য ধনী গরীব সরকারি হাসপাতালে দেখানোর চল ছিল। সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র‍্যাকটিস (প্রশাসনিক পদ ও হেল্থ সেন্টার ছাড়া) চালুই ছিল। সেসময়কার নামী দামী চিকিৎসক কাম মাস্টারমশাইরা সবাই সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা প্র‍্যাকটিস করলেও সময় মত হাসপাতালে আসতেন, যত্ন করে হাসপাতালের আউট ডোরে রোগী দেখতেন, সময় নিয়ে রাউন্ড দিতেন, যত্ন করে ছাত্রদের পড়াতেন, রোগীর বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলতেন, সন্ধ্যে বা রাতের বেলায় আরেকবার রাউন্ড দিয়ে যেতেন, এমনকি প্রশাসনিক দায়ভারও নিতেন।

বামফ্রন্ট আসার পর মধ্য মেধার এবং পার্টি তন্ত্রের দাপাদাপি শুরু হল। তথাপি আরএসপির ননী ভট্টাচার্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকাকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবা কে সর্বজনীন করা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য কে শক্তিশালী করার চেষ্টা ছিল। যা পরিলক্ষিত হয়েছিল প্রশান্ত সুর হয়ে সূর্যকান্ত মিশ্র – অসীম বর্মন জুটি অবধি। সেই সময় বাঙ্গুর হাসপাতালে থাকার সময় দেখতাম প্রশান্ত সুর প্রতিদিন সকালে মহাকরণ যাওয়ার আগে এবং রাতে ফেরার সময় পুরো হাসপাতাল টা রাউন্ড দিতেন, তার কোন প্রচার ছিল না। কিন্তু পার্টির মধ্যে সুবিধাবাদী শ্রেণির মাতব্বর দের দাপট বাড়ছিল। তারা শিক্ষা সহ সর্বত্র হস্তক্ষেপ বাড়াচ্ছিলেন, বিশেষ করে ABJDF এর নেতৃত্বে জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের পর তারা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও পার্টিজান কাজকর্ম শুরু করে দেন। HSA ভেঙ্গে AHSD তৈরি হয় এবং সেখানকার দাদারা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। জেনেটিক ম্যাপিং শুরু হয়। দলের অযোগ্য লোকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করতে থাকেন। দলের অনুগত নন চিকিৎসকদের শাস্তিমূলক পোষ্টিং হতে থাকে। ফাঁকিবাজি কে মান্যতা দেওয়া হয়। পাল্লা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার অবক্ষয় ঘটতে থাকে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিষেবার উন্নতি না ঘটিয়ে তারা কিছু উপরিসৌধ সংস্কার করেন। SHSDP II বিশ্ব ব্যাঙ্ক প্রকল্পে যত না লাভ হয় তার চাইতে বেশি হয় দুর্নীতি। এরসঙ্গে নেতা – আমলাদের সরকারি টাকায় ব্যাংকক – পাটায়া বিলাস, জার্মানি – মার্কিন মুলুক ভ্রমণ। আবার গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকদের মাথায় পার্টি নেতাদের স্বজন CHSO নামক এক ধরনের ‘ নগ্নপদ ডাক্তার ‘ দের বসিয়ে কোথাও বা পার্টি নেতা কিংবা তাদের ছেলে – মেয়ে – স্ত্রী দের এনজিও র স্বেচ্ছাসেবীদের বসিয়ে, তাদের পিছনে তহবিল উজাড় ইত্যাদি করে আরও বিপর্যয় ডেকে আনা হয়।

এরকমই একটি সিদ্ধান্ত হল ১৯৯৩ তে মেডিকেল এডুকেশন সার্ভিস আলাদা করে নন-প্র‍্যাকটিসিং করা। এমনিতেই নির্যাতিত অনেক ডাক্তার চাকরি ছেড়ে দেন, যারা সৎ মান্যতা দেন। কিন্তু এক বড় অংশের সুবিধাবাদী ধান্দাবাজ চিকিৎসক AHSD তে নাম লিখিয়ে, ভালো চাঁদা দিয়ে, নেতাদের খোশামোদ করে দিব্যি বেআইনি প্র্যাকটিস চালিয়ে যান। ইতিমধ্যে ঐ নির্দেশনামা চ‍্যালেঞ্জ করে কোর্টে যান ডাঃ সুকুমার মুখার্জী, ডা: অবনী রায়চৌধুরী সহ কয়েকজন চিকিৎসক, কিন্তু তারা মামলায় হেরে যান। তখন আরেক প্রস্থ চিকিৎসক বেরিয়ে যান। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিষেবায় ডামাডোল চলতে চলতে বাম সরকার ২০০৬ তে এই সুবিধাবাদী ধান্দাবাজ দের চাপেই ঐ নির্দেশিকাটি আবার তুলে নেন। তারপরই উপরোক্ত শ্রেণির চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং মেডিকেল সার্ভিস উচ্ছন্নে দিয়ে ব্যক্তিগত পুঁজির সাধনায় মত্ত হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে বাম সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাই পাশের ধারে একের পর এক গড়ে উঠেছে গলা কাটা নামী হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালে চালু হয়ে গেছে পিপিপি মডেল।

তৃণমুলের ১৫ বছরের জমানায় প্রথমদিকে কিছু পরিকাঠামো সংস্কার ছাড়া বিশেষ কিছু ঘটেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যান্য ক্ষেত্রের মত স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও জ্যোতি বসুর স্থিতাবস্থার মডেল অনুসরণ করেন। উপরোক্ত ঐ সুবিধাবাদী ধান্দাবাজ চিকিৎসক রা জার্সি বদল করে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও মেডিকেল শিক্ষা কে জাহান্নামে পাঠিয়ে নেতাদের ভেট পাঠিয়ে রীতিমত লুঠপাট শুরু করেন। জন্ম হয় সন্দীপ ঘোষ, সুদীপ্ত রায়, সুশান্ত রায়, নির্মল মাজি, শান্তনু সেন, সুহৃতা পাল প্রমুখ স্বাস্থ্য মাফিয়াদের। ঘটে যায় অভয়া হত্যাকাণ্ডের মত সাংঘাতিক হত্যাকান্ড।

শুধুমাত্র কোন নির্দেশিকা দিয়ে ঐসব সুবিধাবাদী ধান্দাবাজ চিকিৎসক দের সামলানো যাবেনা, তারা নানা কায়দায় এগুলো ভন্ডুল করে দেবে, নইলে আদালত তো রয়েছে। তাই এই নির্দেশিকার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে সচেতন করতে হবে।

জনগণ যখন এই মহামান্য চিকিৎসকদের প্রশ্ন করবে ডাক্তারবাবু আপনি হাসপাতালে কাজের সময় এখানে প্র্যাকটিস করছেন কেন এবং তাঁদের কষ্টার্জিত টাকায় মাইনে নিয়ে তাঁদের পরিষেবা দিচ্ছেন না কেন তখনই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে।

এরসঙ্গে প্রশ্ন তুলতে হবে কেন্দ্র সরকার সামগ্রিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘোষণায় বিনামূল্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্য বিধানের (Universal Health Coverage) ঘোষণা করেছেন তাহলে সেটা সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় হবে না কেন? কেন পৃথিবীর মধ্যে ভারতীয়দের সবচাইতে বেশি চিকিৎসায় out of pocket expenditure হবে? কেন স্বাস্থ্য বীমা র প্রয়োজন হবে? আয়ুষ বিষয়গুলির উন্নতি হোক, কিন্তু কেন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে Mixopathy চালু করে আয়ুষ চিকিৎসকদের এন্টিবায়োটিক লেখার ছাড়পত্র দিয়ে জনসমাজের Antimicrobial Resistance বাড়িয়ে তোলা হবে?

রাজ্য সরকার বাজেটে স্বাস্থ্যের ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করে মোট বাজেটের ৬.৭% এ নিয়ে গেছেন? কেন কেন্দ্র সরকার সেখানে ২% এর নিচে সীমাবদ্ধ থাকবেন?

২৫.০৮.২০২৬

PrevPreviousসমুদ্র দহন পালা!
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

সমুদ্র দহন পালা!

August 28, 2026 No Comments

দিন কয়েক আগে পরিচিত এক সুজনের পাঠানো একটা প্রতিবেদনে নজর আটকে গেল। সেখান থেকে কিছুটা অংশ তুলে ধরি আপনাদের জন্য। “ভয়ঙ্কর! বাজারে যা সাধারণের নাগালের

শুশ্রূষা

August 28, 2026 No Comments

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। যে রকম রোজ যায় দু তিনবার প্রতি রাত্রে। ভেঙে গেল বলা ভুল। ঘুমটা ভাঙিয়ে দিল মোবাইল। ওতে একটা কর্কশ রিং টোন

Sangrami Gana Mancha Press Release

August 27, 2026 No Comments

On August 1st, the Chief Minister of West Bengal suddenly announced that he had information that out of 27 lakh voters whose names had been

ইতিহাস গড়ে নারী, ইতিহাস ধরা থাকে অক্ষরে

August 27, 2026 No Comments

পর্দা জুড়ে একটা প্রকাণ্ড বাড়ি। রাস্তার সামনে। গাড়ি থেকে এসে নামলেন দুজন মহিলা। ঢুকে গেলেন বাড়িটির মধ্যে। ঘরে শুরু হল মিটিং। একটা বই লেখা হবে।

অভয়া থেকে তামান্না, তামান্না থেকে যাদবপুর…

August 27, 2026 No Comments

সাম্প্রতিক পোস্ট

প্র্যাক্টিস – নন প্র্যাক্টিস নিয়ে আরেকটু

Bappaditya Roy August 28, 2026

সমুদ্র দহন পালা!

Somnath Mukhopadhyay August 28, 2026

শুশ্রূষা

Dr. Arunachal Datta Choudhury August 28, 2026

Sangrami Gana Mancha Press Release

Sangrami Gana Mancha August 27, 2026

ইতিহাস গড়ে নারী, ইতিহাস ধরা থাকে অক্ষরে

Sanjoy Mukherjee August 27, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

670397
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]