এক সময় খবরের কাগজে অনেক খবরের ভিড়ে ছোট্ট কয়েক কলমের কিছু বিজ্ঞাপন থাকতো যার শিরোনাম — নিরুদ্দিষ্টের প্রতি পত্র অর্থাৎ বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া মানুষের উদ্দেশ্যে চিঠি। সেই বিজ্ঞাপন জুড়ে থাকতো আবেগঘন কিছু কথা যেমন –বাবা ভোম্বল, তুমি কোথায় আছো জানাও। তোমার চিন্তায় মা শয্যাশায়ী। টাকার প্রয়োজন হলে জানিও। শীঘ্রই বাড়ি ফিরে এসো – বাবা।
এমনতরো বিজ্ঞাপন আজও নিশ্চয়ই ছাপা হয় তবে কিশোর বেলার উৎসাহ এখন আর নেই,তাই আনাচেকানাচে চোখ বুলিয়ে তেমন কিছু আজ আর খোঁজা হয়না। তা বলে কি নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে? উঁহু, তেমনটা মোটেই নয়। আমাদের চারপাশের কতকিছুই তো প্রতিদিন নজর এড়িয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। সেসব আবার কোনো এক কালে ফিরে আসবে তেমনটাও নয়। যদি ফিরে আসে বা তার দেখা মেলে হঠাৎ করেই তার হলে কিন্তু রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়। 
জীবজগতের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটে। হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়া প্রাণিদের দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খুঁজে পাওয়া গেলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী গবেষকরা। এমনই কিছু হারিয়ে যাওয়া প্রাণি এবং তাদের খুঁজে পাওয়ার কথা নিয়েই এই পর্বের আলোচনা। মোট ছয়টি পর্বের এই আলোচনার আজ প্রথম পর্ব।
আমাদের প্রথম অতিথি ব্লু- ফ্রন্টেড লোরিকিট । Blue – frontend Lorikeet ( নীল বুকওয়ালা লোরিকিট)

২০১৪ সালে এই জমাট বাঁধা প্রতীক্ষার অবসান হলো। আছে আছে! নীল বুক্ওয়ালা লোরিকিটরা এখনও টিকে আছে। শুধু মুখে বললেই তো হবেনা, উপযুক্ত প্রমাণ চাই। প্রমাণ হাজির করলেন এক পক্ষিপ্রেমিক তথা চিত্রগ্রাহক ক্রেইগ রবসন। হারিয়ে যাওয়া পাখিদের নতুন করে খোঁজ করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল স্থানীয় অসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও আমেরিকান বার্ড কনসারভেন্সি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে। ক্রেইগ সেই অভিযাত্রীদের দলে ছিলেন। তাঁর ক্যামেরাতেই প্রথম ধরা পড়লো ব্লু – ফ্রন্টেড লোরিকিটের ছবি। গোটা দুনিয়ার পক্ষিপ্রেমিকরা অভিভূত ও উল্লসিত হলেন সেই দৃশ্য দেখে।
















