ফেসবুক এ লিখিনা বহু দিন, একটা কারণ যদি হয় আলসেমি, মূল কারণ লিখতে পারিনা বলে। আজও আমি লিখছি না, লিখিয়ে নিচ্ছে, অন্য কেউ হয়তো আমার ভেতরের আমি।
গতকাল যখন জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চ আর চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চের ডাকে, প্রতিবাদীদের পুলিশী হয়রানির প্রতিবাদে সভা চলছে, তখন ভাদ্র মাসের সূর্য্য মাথার উপরে, উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠ সহযোদ্ধারা ওই আগুন ঝরানো সূর্য্য মাথায় নিয়েই আওয়াজ তুলছেন ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, কিঞ্চিৎ উদ্বিগ্ন আমি একবার তাঁদের প্রত্যয়ী মুখের দিকে একবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছি, ঠিক তখনই দেখলাম এক ভদ্রলোক পরম যত্নে উপস্থিত সহযোদ্ধাদের হাতে একটা করে ঠাণ্ডা জলের বোতল তুলে দিচ্ছেন, এটা উনার দায়িত্ব ছিলো না, কেউ উনাকে বলেও নি, সত্যি বোলতে আমরা যারা গত কয়েকদিন ধরে প্রচার চালিয়েছিলাম এই কর্মসূচীর জন্য, আমাদেরই উচিৎ ছিলো এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করা, অমরা বেমালুম ভুলেই গেছিলাম, কিন্তু মানুষটা মুহুর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়ে নিয়েছিলেন এই মুহূর্তে কোন কাজটা সবচেয়ে জরুরি। না লজ্জিত হই নি আমি জরুরী কথাটা ভুলে যাবার জন্য বরং আনন্দে চোখ জলে ভরে গেলো, মুহুর্তে পেয়ে গেলাম কতো প্রশ্নের সহজ উত্তর, যে প্রশ্ন গুলো ধেয়ে এসেছে বার বার, গত কয়েক দিন ধরে, কি চাও তোমরা? কি লাভ হবে? তোমাদের মতলব কি? আদৌ পাওয়া যাবে জাস্টিস? কোর্টের রায় মানো না? আরো কতো কি।
আজ আমি জানি জাস্টিস মানে সহযোদ্ধার মায়া ভরা হাতে ধরা জলের পাত্র যা শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, বাঁধে এক নিবিড় বাঁধনে, গড়ে ওঠে এক বিরাট পরিবার, যে পরিবার বড় হতে থাকে প্রতিদিন, ছোটো ছোটো ভূগোলের বেড়া ভেঙ্গে যায় প্রতিনিয়ত, যতো সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ধুয়ে যায় মুহুর্তে, যতো অহংকার, যতো আমিত্ব পিষে যায় সহযোদ্ধার পায়ের নীচে, বেঁচে থাকে শুধু মানুষ, অসংখ্য অগণিত মানুষ, আলোর পথযাত্রী মানুষ,তাঁরা সারি বেধে এগিয়ে যায়, এক উজ্জ্বল দিন আনবে বলে।
মানুষটার নাম ইউনুস আলি, আন্দোলনের ময়দানে আলাপ মাত্র কদিন আগে, শহরের প্রথিতযশা আইনজীবি, তার চেও বড়ো পরিচয় সত্যিকারের মানুষ। আজ সে আমার ভাই, ভুল বললাম আমাদের ভাই, আমাদের কারো কারো দাদা, অভয়া মঞ্চ পরিবারের সদস্য।
কাকদ্বীপ থেকে দার্জিলিং এই “মানুষ” গুলোকে খুঁজে বার করে এক সুতোয় বাঁধুক অভয়া মঞ্চ। ওরাই আনবে নুতন ভোর, ওরাই আনবে জাস্টিস। ভালো থেকো ইউনুস।
অভয়া মঞ্চের whatsapp গ্রুপে ডাক্তার সুদীপন মিত্রের লেখা।











