সাঁইতিরিশজন।
দুহাজার উনিশ থেকে পঁচিশ,
আই আই টি গবেষক এতগুলো ছাত্রের হয়েছে মরণ,
অসুখে নয়, পথ দুর্ঘটনায় নয়,
ইদানিং ঘন ঘন ভাইরাল হওয়া জিম অথবা নাচ করতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক নয়,
সাঁইতিরিশজন দেশের সেরা মেধা অকালে হারিয়ে গেছে আত্মহত্যায়..
অবশ্য এই রাম-ভঁরোসে দেশে কার আর তাতে আসে যায়!
আসে যায়..
আপনারা যারা সন্তান ক্লাস সিক্সে অংকে
একশোতে একবার নব্বই পেলেই তদন্তে নামেন
যারা নিজেদের রোজগারের অর্ধেকের বেশি বাচ্চার স্কুলে আর ট্যিউশনে খরচ করেন
যারা ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকেন নানান সিলেবাস গুলে খাওয়ানো কারখানাগুলোর দোরে,
স্বপ্নের রেসিপি অনুযায়ী বন্দী কৈশোরের মেধা ক্রমাগত সেদ্ধ হচ্ছে যার ভেতরে,
আপনাদের সবারই এই পরিসংখ্যানে খুব, খুউব যায় আসে,
বেশি মেধাবী যারা, বস্তুত সকলের সেরা,
তাদেরই বাড়ছে লাশ হোস্টেলে সিলিংএর থেকে ঝোলা ফাঁসে।
দুহাজার পঁচিশেই চলে গেছে এগারো-জন, শুধু আই আই টিতেই।
বাকি সব ‘উচ্চ-শিক্ষা’ দেওয়া কলেজ ধরলে কত ইয়ত্তা নেই,
আঠারোর থেকে ত্রিশ, দিশাহীন আগামীর বিষ নিয়ে ফেলে খাদের কিনারে,
যে ভাবীতে আশা নেই,
প্রতিবাদে ভাষা নেই,
সেখানে ক’জনে আর লড়ে যেতে পারে!
দুহাজার পঁচিশের এখনো কয়েক মাস বাকি,
চলছে ও চলবে
গাইডের ক্রীতদাস ভাবা,
কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্য,
অফিসের কেরানিটির নিরুত্তাপ বলা
‘স্টাইপেন্ড আসেনি এখনো’..
ভালোবাসা মুখ ফিরিয়ে নেবে,
পাড়াতে কম মেধাবীরা খোঁচা মারবে..
কারণ সবাই জানে, সে মেধার যাওয়ার জায়গা নেই কোনো।
বিদেশী নাগরিক দেশী পদবিধারীরা কেউ উঠলে শিখরে, জোর ঢাক পেটে চারদিকে
দেশ জুড়ে নাচানাচি শুরু হয় ,
যেন সেই মেধাবীটি ভারতের থেকে গেলো সবকিছু শিখে,
খোঁজ নিলে জানা যায়
দেশ ছেড়ে গিয়েছেন বাবা বা ঠাকুর্দা বহু দশকের আগে,
পদবীটি ছাড়া প্রায় কিছু নেই অবদান শিখর ছোঁয়াতে সেই শিকড়ের ভাগে,
মেধাবীতে ভরা এই দেশ কেন আজও তোলে না ঘরে
সেইসব মেধার ফসল,
কারণ তো খুব সোজা।
এখানে মেধাকে হয় জাত দিয়ে,
কোটা দিয়ে,
হতাশা আঁধার দিয়ে দাবানো কেবল,
মেধা মানে মার্কশিটএ সে শুধু সফল , এগোতে গেলেই পায়ে হাজার শেকল।
আসে যায়, আসে যায়,
সাঁইতিরিশখানা মেধাবীর লাশে যায় আসে,
আরো কত শত ঘরে প্রদীপের শিখাগুলো নিভু নিভু আজ সেই বিষাদ-বাতাসে।
মেধাবী বাচ্চাগুলো আজ বড় একা। গ্রহণ লাগছে রোজ দেশের আকাশে।









