দীর্ঘ লড়াই এর পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টে অভয়ার খুন ধর্ষণ মামলা ফিরে আসার পর গতকাল তার প্রথম শুনানি হল। সেই মামলায় মাননীয় বিচারপতি সিবিআইকে প্রশ্ন করলেন, ‘এই তদন্তের কোথাও গিয়ে কি আপনাদের (সিবিআই) মনে হয়েছে যে এটা গণ ধর্ষণের ঘটনা?’। ‘কোন কোন ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে?’ ‘সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তিই কি একমাত্র অভিযুক্ত, নাকি আর কেউ আছে?’ এই মুহূর্তে এই মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআই কী করছে, তা জানতে চান বিচারপতি। তিনি জানতে চান যে এটা গণ ধর্ষণ নাকি তথ্য প্রমাণ লোপাট সে বিষয়ে সিবিআই কি মনে করছে। পরবর্তী শুনানি ২৮ তারিখ, সেদিন সম্পূর্ণ কেস ডায়রি নিয়ে আসার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দেন তিনি। আমাদের নজর থাকবে ২৮ তারিখ হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে। গতকালের মতোই অভয়ার বাবা, মার সাথে সিনিয়র ডাক্তাররা সহ আমাদের WBJDF এর লিগ্যাল টিম এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

এই বিচার প্রক্রিয়ার সূত্রপাত আন্দোলনের আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া বলে WBJDF মনে করে। আমরা এও মনে করি আন্দোলন কে আবার জোরদার করে তোলা প্রয়োজন, যাতে এই নৃশংস ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত প্রত্যেকে যথার্থ শাস্তি পায়।
আমরা আশা রাখছি নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গেলে এই বিচার প্রক্রিয়ায় সমস্ত সত্য ধীরে ধীরে সামনে আসবে, আপামর রাজ্যবাসী তথা সকলের মনে সেদিনের অভিশপ্ত নির্মম রাত নিয়ে যে অসংখ্য প্রশ্ন সেই প্রশ্ন গুলো আইনি ভাবে কোর্টের সামনে আসবে ও তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে সিবিআই কোর্টে তার উত্তর দিতে বাধ্য হবে।
কে বা কারা করলো? যদি সঞ্জয় রাই একা এই ঘটনা ঘটায় সে বাইরের লোক হয়ে কীকরে খবর পেল যে ভোর চারটের সময় সেমিনার রুমে একজন ঘুমন্ত মহিলা ডাক্তার রয়েছেন? নিরাপত্তারক্ষী সহ সকলের চোখ এড়িয়ে সেখানে পৌঁছল ই বা কী করে? আদৌ সেমিনার রুম ই অপরাধ স্থল তো?
কেন পুলিশ প্রশাসন ও শাসক দল এতো তড়িঘড়ি দেহ দাহ করল মা – বাবা দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম চাওয়া সত্ত্বেও?
কেনো এতো MLA, আমলা, পুলিশ কর্তাদের সেদিন উপস্থিতি?
কেনো বাইরের কলেজ, স্বাস্থ্য ভবন, রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের একাধিক সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা অবাধে প্রবেশ করল, মিটিং করল সেমিনার রুমে সেখান থেকে প্রথম মৃতদেহ উদ্ধার হয় ? ওই বিল্ডিং এ আট তলার অর্থোপেডিক ওটি দীর্ঘকাল বন্ধ থাকার কারণ কী?
১৪ ই আগস্ট কারা আর জি কর ভাঙচুর তাণ্ডব চালালো, তাদের কারা পাঠালো, কেনো পাঠালো, কেনোই বা তারা ভাঙচুরের সময় সেমিনার রুম খুঁজছিল? সিবিআই এতদিন তদন্ত করে এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে কী কী তথ্য জানতে পারল এবং সর্বোপরি তারা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট কেন এখনও জমা দিতে পারল না এই সব প্রশ্ন গুলো প্রত্যেক মুহূর্তে করতে হবে। ভুলতে দেওয়া চলবে না!
ইতিমধ্যে মনোবিদ মোহিত রনদীপ এর একটি সাক্ষাৎকার সংবাদ মাধ্যমে আসে যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে হতভাগ্য অভয়া জুন – জুলাই মাসে তার কাছে মূলত ঘুম না হওয়া সহ নানা সমস্যা নিয়ে মনোবিদের পরামর্শ/ কাউন্সেলিং এর জন্য আসে, এবং সেখানে বিভিন্ন ভাবে তার ডিউটি তে চাপ ইত্যাদি প্রসঙ্গে হাসপাতালের নানা দুর্নীতির কথা, তার প্রতিবাদ করার ফলে কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়ার কথা জানায়। তিনি ডায়রি লেখা , কিছু রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ সহ বেশ কিছু পরামর্শ তাকে দিয়েছিলেন। আমরা তার সাথে যোগাযোগ করে সমস্ত কথা তার মুখে আবার শুনি এবং জানাই যে তার এই বক্তব্য যদি সত্যি হয়, তাহলে তা গোটা ঘটনার মোটিফ সংক্রান্ত সম্ভাবনার একটা দিক খুলে দিতে পারে। তিনি জানান যে, তিনি প্রয়োজনে আদালতে দাঁড়িয়ও এই কথা গুলো বলতে রাজি। কিন্তু যেভাবে সিবিআই তদন্ত করেছে বা এখনো করছে সেখানে এই মুহূর্তে আইনি ভাবে এটার আদৌ কতটা প্রভিশন আছে সে বিষয়ে আইনজ্ঞদের সাথে আলোচনা চালানো হচ্ছে।

তার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি ( সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা ) পোস্টে দেওয়া হল। হাইকোর্টের বিচারপতির সিবিআই কে করা প্রশ্নের সারসংক্ষেপ (সূত্র: এই সময় পত্রিকা) ও থাকল।
সাথে রইল ২৩ শে মার্চ শহীদ ভগৎ সিং স্মরণে WBJDF এর উদ্যোগে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় সংগঠিত স্বাস্থ্য শিবিরের কিছু ছবি।
সুন্দরবনের গোসাবার সাতজেলিয়া নটবর বিদ্যায়তনে আয়োজিত হয়েছিল এই “অভয়া ক্লিনিক” , এই স্বাস্থ্য শিবিরে প্রায় ৪০০ জন রোগী বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দেখাতে আসেন। অপুষ্টিজনিত নানারকম সমস্যার সাথে রোগীদের মধ্যে অস্টিওআর্থাইটিসের সমস্যা, বিভিন্ন চর্মরোগ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, পেশাগত নানা রোগ মূলত সমস্যা হিসেবে সামনে আসে। সাধ্যমত এইসমস্ত রোগের ওষুধ দেওয়া হয়। আমরা অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবিতে যেমন পথে রয়েছি, সেই সঙ্গে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, আন্দোলনের চলমান কর্মসূচি হিসেবেই এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের কাজ আমরা চালিয়ে যাব।











