
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বহুচর্চিত আর্থিক দুর্নীতি মামলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা আজ আর “প্রশাসনিক জটিলতা” বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। এটি স্পষ্টতই একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বিলম্ব।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ৯০ দিনের মধ্যেই নগর দায়রা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। অথচ প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের স্যাংশন লেটার ইচ্ছাকৃতভাবে জমা না দেওয়ায় আজ গোটা বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত থমকে রয়েছে। চার্জশিট গ্রহণই হচ্ছে না, ফলে চার্জ গঠনও অসম্ভব। অর্থাৎ, সরকার নিজের হাতেই ন্যায়বিচারের দরজা আটকে রেখেছে।
West Bengal Junior Doctors’ Front স্পষ্টভাবে বলছে, আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অজুহাত তুলে দুর্নীতির অভিযুক্তদের রক্ষা করার এই কৌশল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অভিসন্ধির ফল। স্যাংশন লেটারের মতো একটি বাধ্যতামূলক আইনি পদক্ষেপকে ঢাল করে বিচারকে আটকে রাখা মানে ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
চার্জশিটে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত, বেআইনি বরাত প্রদান, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতি, এমনকি সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগ পর্যন্ত সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একটি প্রশাসনিক অনুমোদনপত্র না দেওয়ার অজুহাতে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অবস্থান যে কতটা ন্যক্কারজনক সেটাই প্রমাণ করে।
WBJDF-এর স্পষ্ট বক্তব্য
স্যাংশন লেটার ইস্যুতে যে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বিলম্ব চলছে, তার সম্পূর্ণ দায় রাজ্য প্রশাসনের। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জেলে থাকলেও বিচার শুরু না হওয়া ন্যায়বিচারের চরম পরিহাস। স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতি মানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অধিকার সরাসরি ক্ষুণ্ণ করা।
আমরা মনে করি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কথা আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই আমরা তুলে ধরেছি, তারই প্রেক্ষিতে আর জি করের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ এবং শাসক গোষ্ঠীর লালনপালনে বড় হওয়া তৃণমূলী ছাত্রনেতা আশীষ পাণ্ডের গ্রেফতারি হয়েছিল। আজ যদি প্রশাসনিক জটিলতা ও শাসকের চাতুরির আড়ালে সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেই সত্য আরও নগ্নভাবে প্রকাশ্যে আসবে, আসবে জনতার আদালতে।
West Bengal Junior Doctors’ Front স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, ন্যায়বিচারকে আর এভাবে আটকে রাখার অপচেষ্টা চলবে না।
অবিলম্বে স্যাংশন লেটার আদালতে পেশ করতে হবে।
আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায়, বৃহত্তর চিকিৎসক সমাজ ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক এবং আইনসম্মত পথে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে আমরা যেতে বাধ্য হব।











