- শেষ পেরেকটা কে ঠুকলো সেটা অবশ্য পরিষ্কার নয়। SIR বিড়ম্বনার দায় পুরোটাই Election Commission এর, না এখানে কারিকুরি আছে পশ্চিমবঙ্গের অনুগত আমলাকুলের? কারণ, রাজ্যের শাসক দল তো সবসময়েই দ্বৈত ভূমিকায় অভ্যস্ত, মানুষকে প্রথমে গভীর গাড্ডায় ফেলা এবং পরে এমন একটা impression তৈরি করা যাতে মনে হয় তারা ছাড়া বাঁচানোর কেউ নেই। মানুষেরই বা option কী আছে, after all তাকে তো বাঁচতে হবে, যেন তেন প্রকারেণ !!
আসল কারণ বোঝা খুব মুশকিল হলেও, এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্যের একটা ভালো সংখ্যক মানুষের কাছে পুরোটা ঘেঁটে গেছে, সে সুপ্রীম কোর্ট যাই বলুক যে অন্য রাজ্যের তুলনায় সংখ্যাটা নাকি তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।
বিভ্রান্তির মধ্যে পড়া মানুষের মধ্যে যারা শিক্ষিত ও আর্থিকভাবে সচ্ছল, তারা না হয় কিছু না কিছু ব্যবস্থা করতে পারবেন, প্রশাসনিক/আইনী বা কারুর মাধ্যমে। হতে পারে তা আর এই নির্বাচনের আগে হয়ে উঠলো না, কিন্তু ultimately সম্ভবপর, প্রচুর ভোগান্তি হলেও। কিন্তু প্রান্তিক, কম শিক্ষিত, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হোক বা না হোক, তাদের কী হবে? আসামে প্রান্তিক মানুষরা সে যে সম্প্রদায়েরই হোক, নাগরিকত্ব নির্ণয়ে কী পরিমাণ harassed হয়েছিলেন সবদিক থেকে এবং এখনো হয়ে চলেছেন একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ, সেটা তো তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
ভোটের পরে কি তাদের কথা কারুর মনে থাকবে না থাকার কথা?!
মূল সমস্যা হলো, SIR ঠিক কি চেয়েছিল? SIR যখন নাগরিকত্ব নির্ণয় করছে না(অন্ততঃ কোর্ট তাই জানিয়েছিল বিহারের ক্ষেত্রে), তখন পুরোনো ভোটারের মধ্যে মৃত, অনুপস্থিত ও খোঁজ নেই/বেপাত্তা/ ভুয়ো ছাড়া তো সকলেরই থাকার কথা। পুরোনো ভোটারের আইনগত সন্তান সন্ততিদের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই সেভাবে আপত্তি থাকার কথা নয়। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টকে যদি ভিত্তি করা হয়, তাহলে তো সেই লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, মৃত বা অনুপস্থিতির কারণ ছাড়া। তাহলে এতো জটিলতা কী কারণে? বিয়ের পরে পদবি পাল্টালে যে মেয়েদের এতো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, তা আগে কেউ কোনোদিন দেখেছে বা শুনেছে?!
বিভিন্ন দলের বক্তব্য বিভিন্ন হলেও একটা দাবি বোধহয় সকলেই বিশেষতঃ বামদলগুলি করে এসেছে, ‘কোনো বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়’। ভালো কথা, but what’s the definition of ‘বৈধ ভোটার’? এখানে তো interpretation এর প্রভূত scope রয়েছে, পরিষ্কার করে বলতে অসুবিধা কোথায়? অসুবিধা নিশ্চয়ই আছে কোথাও, তাই এতো সাবধানী বা ultra defensive পদক্ষেপ/উক্তি !!
যাইহোক, এই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে কিছু কথা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে……
১) যাদের নাম deleted হলো, তাদের Voter I D card কি invalid হয়ে যাবে? তাদের আধার কার্ডের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? কিংবা PAN card এর?
২) বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা যেমন রেশন, স্কুলকলেজে ভর্তি, সরকারি অনুদান, এগুলোতে সুস্পষ্ট অবস্থান কী হবে? বিভিন্ন দেশে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষদের উদাহরণ কিন্তু মোটেই সুখকর নয়।
৩) যদি SIR নাগরিকত্ব নির্ণয়ের প্রথম ধাপ হয়, তাহলে সারা দেশে শুধু কয়েক লক্ষ নয়, সব মিলিয়ে কয়েক কোটি মানুষ উপস্থিত/বেঁচে থেকেও নাগরিকত্ব থেকে বাদ যাবেন। তারা কোন দেশের নাগরিক হবেন? নাকি stateless people হিসাবে পরিগণিত হবেন? কাঁটাতার ডিঙিয়ে কতো লোককেই বা এদেশ/ওদেশে পাঠানো সম্ভব যদি না সেই দেশগুলি সম্মতি দেয়?
৪) সর্বশেষ, দেশের প্রান্তিক মানুষদের জন্য রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই? যা দেখা যাচ্ছে, ভোটারেরই সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রমাণ করার সে বৈধ। নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়ই নেই, এমনকি নাম বাদ গেলেও কারণ জানানোর প্রয়োজন পড়ে না। যে মানুষদের জমির দলিল, জন্ম সার্টিফিকেট,স্কুলের বা সরকারি শংসাপত্র থাকার কথাই নয়, বা যাদের তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা অতি দুর্বল, রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই সাহায্যের হাত বাড়ানোর? নাকি তা শুধু বাদ দিতেই জানে, নিতান্ত যান্ত্রিক ভাবেই? এ তো একটা নতুন সম্প্রদায়/ গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে, যারা সব অর্থেই ‘বিচ্ছিন্ন’, সমাজের মূল অংশের থেকে!!!
জানি, এসব প্রশ্ন করে কোনো লাভ নেই। কিন্তু এগুলোকে এড়িয়ে চলাও তো সম্ভব নয়। ভোটের রেজাল্ট কী হবে, শাসক দল ক্ষমতায় ফিরবে কিনা, তার থেকে তো এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কী, সেটার উত্তর খোঁজা নিশ্চিতভাবে অনেক জরুরী, নিঃসন্দেহে………










