Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

সমসাময়িকঃ নয়া কৃষি বিল (২০২০) – বিশ্বপুঁজির পথে অতল যাত্রা?

IMG_20201206_231941
Dr. Jayanta Bhattacharya

Dr. Jayanta Bhattacharya

General physician
My Other Posts
  • December 7, 2020
  • 7:07 am
  • 7 Comments

আনন্দবাজার পত্রিকার (৪.১২.২০২০) একটি খবরের শিরোনাম – “‘চাষিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিবাদে পদ্মবিভূষণ ফেরালেন প্রকাশ সিংহ বাদল”। ৯২ বছরের বৃদ্ধ মানুষটি বলেছেন – “আমি সত্যিই আশ্চর্য হচ্ছি, সরকার কেন এত হৃদয়হীন, অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ল।” আরেকটি সংবাদে প্রকাশ – ৩.১২.২০২০ তারিখে ভারত সরকারের সাথে ৭ ঘন্টা মিটিং-এর পরেও কোন সমাধান সূত্র মেলেনি। আন্দোলনকারী কৃষকেরা তাদের “কৃষি বিল প্রত্যাহার করতে হবে” এই অবস্থানে অনড়। তারা এই বিলের কোন সংশোধন বা রদবদল চাইছেন না। সম্পূর্ণ বিলটি প্রত্যাহার করতে হবে, এ হল তাদের অবস্থান। এজন্য সরকারের সাথে দ্বিতীয় বৈঠকের মাঝে সরকারের তরফে দেওয়া মধ্যাহ্ন ভোজ এরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিজেদের লঙ্গরখানায় তৈরি খাবার খেয়েছেন। এর নির্গলিতার্থ – এক অদ্ভুত অবিশ্বাস কাজ করছে কৃষকদের মাঝে। আর সরকারের তরফে রয়েছে অস্বচ্ছতা।

করোনা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে যে দেশগুলো চোখে পড়ার মতো সাফল্য দেখিয়েছে – যেমন, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি – সে দেশগুলোতে কয়েকটি বিষয় প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। সেগুলো হল – প্রথম, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা; দ্বিতীয়, শক্তপোক্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, এবং তৃতীয়, নাগরিকের তরফে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস এবং রাষ্ট্র তথা সরকারের তরফে নাগরিকদের কাছে স্বচ্ছতা।
লকডাউনের সময়ে আমাদের এখানে কর্মহীন, ভিটেছাড়া, স্থানান্তরী (migratory-র বাংলা “পরিযায়ী” শব্দটিতে আমি অস্বস্তি বোধ করি, মানুষ আর পাখীকে এক করে দেখতে চাইছিনা।) অসংগঠিত শ্রমিকদের কয়েক’শ মাইল অবধি খিধে-মোচড়ানো পেটে শিশুকে কাঁধে নিয়ে অন্তহীন হেঁটে চলা। আশ্রয় দেবার জন্য সরকার বা রাষ্ট্র নেই। অত্যন্ত নিদারুণভাবে ট্রেনে কাটা পরে ১৬ জন বা তার বেশি শ্রমিক মারা যাবার পরে এ নিরাপত্তাহীনতা আরো বেশি করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। দেখিয়ে দিল রাষ্ট্রের তরফে এদের জন্য চরম ঔদাসিন্য এবং এ “অব”-মানুষগুলোর রাষ্ট্রের প্রতি ট্রাস্ট না থাকা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের সদ্য অবসর নেওয়া বিচারপতি বিচারক দীপক গুপ্ত এই মানুষগুলোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ঔদাসিন্যের যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন তা খুব শ্লাঘার বিষয় নয়।
কি হয়নি এই স্থানান্তরী অসংগঠিত শ্রমিক এবং এদের পরিবারের ওপরে? কয়েক’শ মাইল রাস্তা হেঁটেছে, কোন খাদ্যের কিংবা যানবাহনের ব্যবস্থা সরকারের তরফে করা হয়নি (অসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময়ে তাদের সাধ্যমতো খাদ্যের জোগান দিয়েছে), পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছে, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে স্রেফ মরে গেছে, স্যানিটাইজার দিয়ে রাষ্ট্রের তরফে “পরিশুদ্ধ” করে নেওয়া হয়েছে, এমনকি ব্লিচিং পাউডার গোলা জলও খাওয়ানো হয়েছে, খোলা আকাশের নীচে রোদে পুড়েছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে। আর কত মনোরম সংবর্ধনা ভাবা সম্ভব সাধারণ মেধা নিয়ে জন্মানো একজন মানুষের পক্ষে? এদের জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অন্তত ১,০০০ টাকা করে নগদ হাতে দিতে বলেছিলেন। রাষ্ট্র তথা সরকার শোনেনি, পাত্তাও দেয়নি। সম্ভবত ভোটের বাজারে এদের মূল্য প্রায় কিছুই নেই বলে।
আন্দোলন মোকাবিলার শুরুর দিকে ঠিক একই রকমের আচরণ করা হয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের সাথেও। এই ঠাণ্ডার দিনে জলকামান থেকে জল দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া, লাঠি দিয়ে পেটানো, “দেশদ্রোহী” “খালিস্তানি” ইত্যাদি মারাত্মক বিশেষণে বিশেষিত করা – সবকিছুই করা হয়েছে এদের সাথে। কিন্তু শেষ অব্দি এদের বিপুল সংখ্যার সংহতি এবং বোঝাপড়ার কাছে রাষ্ট্র তথা সরকার কিছুটা হলেও টলেছে। কৃষকদের বর্তমান বিক্ষোভের আগে NRC বা CAA বিরোধী যত আন্দোলন হয়েছে সেগুলোকে কেবল লাঠিপেটা জলকামান গুণ্ডা দিয়ে পেটানো এবং যেমন ইচ্ছে “টুকরে টুকরে গ্যাং” বলে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েই সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হলনা। শুধু তাই নয়, সরকারকে খানিকটা নামতে হয়েছে। নেমে এসে এদের সাথে বৈঠক করতে হয়েছে।
আমার বলার কথা এটুকু যে রাষ্ট্র তথা সরকারের সাথে জনসমাজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময়েই অবিশ্বাস এবং অস্বচ্ছতা অন্তর্লীন উপাদান হিসেবে থেকে গেছে।
এবার আমরা নতুন কৃষি বিলে সরাসরি প্রবেশ করি। আমি অর্থনীতিবিদ, সমাজতাত্ত্বিক বা পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট কোনটাই নই। বহু বহু যোগ্য মানুষ এই বিল নিয়ে বিস্তারিত এবং মূল্যবান আলোচনা করেছেন। আমার সে যোগ্যতা নেই। একজন স্বাভাবিক বুদ্ধিসুদ্ধি সম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যা বুঝেছি সেভাবে আলোচনা করছি বিলটি নিয়ে।
এখানে লক্ষ্যণীয় যে সমগ্র দেশ জুড়ে লকডাউনের অবরুদ্ধ অবস্থায় যখন সবাই নিজেদের এবং আত্মীয়-পরিজন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, কিভাবে সুরক্ষিত থাকা যায় এ চিন্তায় আকুল হয়ে রয়েছে সেসময় কতকগুলো ঘটনা চুপিসাড়ে সংসদে পাস হয়ে গেল – অনেকগুলো কয়লা খনির বেসরকারিকরণ, বিপুল পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ “মেক ইন ইন্ডিয়া”-য় বাস্তব করে তোলা, রেলের অংশকে বেসরকারি হাতে বেচে দেওয়া, সামরিক খাতে যুদ্ধাস্ত্রের জন্য বহু কোটি টাকার ব্যয় ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। বিজনেস ইনসাইডার পত্রিকার (৩.০৮.২০২০) একটি সংবাদের শিরোনাম – “How billionaires got $637 billion richer during the coronavirus pandemic”। প্রথম দশজন এরকম বিলিয়নেয়ারের মধ্যে ভারতের মুকেশ আম্বানিও আছেন। এ যেন “জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি” আর কি!
এরকম এক পটভূমিতেই ৩ জুন, ২০২০, তিনটি কৃষি বিল অর্ডিন্যান্স হিসেবে সংসদে ভারতীয় জনতা পার্টির “ব্রুট মেজরিটি”র জোরে পাস হয়ে গেল। রাজ্যসভায় বিল পাস হবার পদ্ধতিটিও বিপজ্জনক। ধ্বনি ভোটে বিলের স্বপক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এটা রাজ্যসভার নীতির বিরোধী, যেখানে ভোট নেবার প্রস্তাব এসেছিল। এবং অধিকতর মারাত্মক হল যেসব সদস্যরা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিলেন তাদের সাসপেন্ড পর্যন্ত করা হয়। এরপরে নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতির সইয়ের পরে এগুলো অ্যাক্ট হল। দেশের সর্বত্র সমানভাবে প্রয়োগ করা যাবে, প্রয়োগ হবে। এখানে বলার কথা সংবিধানের সপ্তম শিডিউল কৃষি সংক্রান্ত নিয়মকানুন তৈরির দায়িত্ব রাজ্যগুলির হাতে দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাক্ট যেভাবে এবং যেসময়ে পাস করা হল সেটা মাথায় রেখে এবং অ্যাক্টের পরে রাজ্যের গুরুত্ব কমবে এমন আশঙ্কা থাকবে, ভারতের ফেডেরাল কাঠামো কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠবে (যেরকম আরও কিছু আইনের ফলে হচ্ছে)। রাজ্যের ক্ষমতা কমে অতিরিক্ত শক্তিশালী কেন্দ্র গড়ে ওঠা ধীরে ধীরে একটি “অতিরাষ্ট্র”-র চেহারাকে জীবন্ত করে তুলছে। ভারতীয় জনসমাজের আগামী কালান্তক বিপদ সম্ভবত এখানে রয়েছে।
ভারতবর্ষের শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্রমাগত নির্দয়ভাবে বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলেও ভারতের প্রাণকেন্দ্র কৃষিতে এতদিন হাত পড়েনি। কিন্তু উন্মুক্ত বাজার এবং বিশ্বপুঁজির সর্বগ্রাসী চেহারায় এখন কৃষিকে ছেড়ে রাখা সম্ভব নয়। একটি গ্লোবাল ফুড সাপ্লাই চেইন বা শৃঙ্খলের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে কৃষিকে – যার সরবরাহকারীর ভূমিকা পালন করবে “গ্লোবাল সাউথ” এবং ভোক্তার ভূমিকায় থাকবে “গ্লোবাল নর্থ” এবং এদের অনুগতরা, তারা যে দেশেই থাকুকনা কেন। জন বেলামি ফস্টার তাঁর “COVID-19 and Catastrophe Capitalism” প্রবন্ধে এ বিষয়ে বলছেন – “In this system, exorbitant imperial rents from the control of global production are obtained not only from the global labor arbitrage, through which multinational corporations with their headquarters in the center of the system overexploit industrial labor in the periphery, but also increasingly through the global land arbitrage, in which agribusiness multinationals expropriate cheap land (and labor) in the Global South so as to produce export crops mainly for sale in the Global North.” এরকম এক অবস্থান থেকেই প্রধান মন্ত্রীর মুখে “এক দেশ এক বাজার” এ তত্ত্ব বারেবারে শোনা যাচ্ছে (প্রসঙ্গত, “এক দেশ এক ভোট”-এর প্রস্তাবও মাথায় রাখুন)।
আমার ধারণা, এরকম জায়গাতেই নতুন কৃষি বিল-এর বাস্তবতা ও যৌক্তিকতা। প্রথমে তৃতীয় বিলটি নিয়ে কথা বলি। এ বিলটি হল The Essential Commodities (Amendment) Bill, 2020। এ বিলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং মারাত্মক অংশ হল চাল, ডাল, আলূ, পেঁয়াজ, আটা, চিনি, ভোজ্য তেলের মতো ২০টির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে অত্যাবশকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তুলে দেওয়া হয়েছে মজুতের ঊর্ধসীমা। ১৯৫৫ সালের এই আইনে সরকার সরাসরি কৃষকদের থেকে খাদ্যশস্য কিনে গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকটের সময় সাধারণ মানুষের মাঝে বণ্টন করত। এই ব্যবস্থাটি ঊঠে গেল। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য একটি ব্যবস্থা রেখেছে। যদি যুদ্ধলাগে এবং ভয়ঙ্করভাবে মুল্যবৃদ্ধি ঘটে তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে।
আশা করি এরকম দুর্দিনের মুখে আম্বানি, আদানি, মনসান্টো কিংবা পেপসি-কোলাদের পড়তে হবেনা! আর পড়ে গেলেও বিকল্প রাস্তা খুলে দেওয়া হবে নিশ্চয়ই।
কৃষকের নিজের আয় কমে যাওয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চেপে বসা এরকম উদ্বেগ এবং দিনের পর দিন ধরে পথকে ঘর করে নেবার মূলে রয়েছে আরও দুটি বিল – Farmers’ Produce Trade and Commerce (Promotion and Facilitation) Act, 2020 এবং Farmers’ (Empowerment and Protection) Agreement on Price Assurance and Farm Services Act, 2020। ১৯৬৫ সাল থেকে (অর্থাৎ সবুজ বিপ্লবের সমকালীন) চালু ছিল Agricultural Produce Market Act। এই অ্যাক্টের ফলে কৃষক সরকারের তৈরি নিয়ন্ত্রিত মান্ডিগুলোতে বা বাইরেরবাজারে নিজেদের ফসল বেচতে পারে। যে জায়গাগুলোতে “সবুজ বিপ্লব” হয়েছে – পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ – সে অঞ্চলগুলোতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এবং মান্ডিতে কৃষকেরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সাহায্য পেতো। ২০০৪ সালে স্বামীনাথন কমিশন প্রতি ৮৯ কিলোমিটারে একটি করে নিয়ন্ত্রিত বাজার বা মান্ডি থাকার সুপারিশ করেছিল। যদিও একথাও সত্য যে কৃষকদের এক ক্ষুদ্রাংশ (৬%-এর আশেপাশে) মান্ডির সুবিধে পায়, বাকি ৯৪% কৃষক পায়না। এসব সত্ত্বেও মান্ডির উপস্থিতি এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কৃষকদের একধরনের ইন্স্যিউরেন্স হিসেবে কাজ করে।
প্রথম বিলটিতে ট্যাক্সের ছাড় দেওয়া হয়েছে, মান্ডিতে হিসেবের খাতা রক্ষা করা আর বাধ্যতামূলক থাকছেনা। উৎপাদক কৃষক, উৎপাদিত পণ্য বা ফসল এবং বিক্রী করা – সবকিছুই সম্পূর্ণত ছেড়ে দেওয়া হবে মুক্ত বাজারের হাতে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আর কোন অস্তিত্ব থাকছেনা। কৃষকদের আশঙ্কা, এর ফলে অর্থনীতির বড়ো হাঙ্গরেরা, যাদের নাম আগে উল্লেখিত হয়েছে, তাদের সাথে কোনভাবেই যুঝে উঠতে পারবেনা সাধারণ ছোট ফড়েরা – এ এক নির্মম অসম যুদ্ধ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এনডিএ সরকারের নির্বাচনী প্রচারের একটি ইস্যু ছিল কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সংস্থান রাখা। এর ফলে রাজ্যগুলোর কৃষি থেকে আয়ও কমবে। দেশের ফেডেরাল গঠনে এটাও একধরনের শক্ত আক্রমণ।
দ্বিতীয় বিলটিতে কৃষকদের জন্য সংস্থান রাখা হয়েছে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য বা ফসল দালাল, ব্যবসায়ী, বিজনেস হাউজ এবং বহুজাতিক সংস্থা সবার সাথে আগাম দাম ধরে (pre-agreed) পণ্যের দামের চুক্তি (agreed price) করতে পারবে। এখানে দুটি বিচিত্র সংস্থানও রাখা হয়েছে – প্রথম, লিখিত কিংবা মৌখিক চুক্তি করা যাবে এবং দ্বিতীয়, সিভিল কোর্টে দুই পক্ষের বিবাদের কোন বিচার হবেনা।প্রথনটি অনেকটা উপনিবেশিক নীল চাষ বা দাদন চাষের মতো। আর মৌখিক চুক্তি বহুজাতিকের তরফে ভঙ্গ করা হলে ক’জন কৃষক আছে যে উঁচুতলার কোর্ট অব্দি মামলা লড়তে পারবে? তাছাড়া প্রায় দাদন চাষের মতো এই চুক্তিতে GMO বীজ চাষ করতে দেওয়া হবেনা এর গ্যারান্টি কে দেবে? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং আমেরিকায় এর ফলাফল ভালো হয়নি। কৃষক আত্মহত্যা করেছে।
ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে-র ২০১৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী কৃষকদের পাঁচজনের একটি পরিবারের কৃষি থেকে আয় মাসে মাত্র ৬,৪২৬ টাকা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র রিপোর্ট (২০১৬) অনুযায়ী, ১১,৩৭৯ জন কৃষক ঋণের দায়ে এবং ফসল বিক্রী করতে না পারার দরুন আত্মহত্যা। এতে হিসেবটা দাঁড়ায় প্রতিদিন ৩১ জন করে কৃষক আত্মহত্যা করেছে। করোনায় মৃত্যুর চেয়ে কোন অংশে কম যায়না। কিন্তু মিডিয়ায় কোন খবর নেই, নৈঃশব্দের আঘাতে খবরগুলো জনমানসের দৃষ্টি এবং শ্রুতি পথ থেকে ক্রমাগত হারিয়ে যায়।
কিন্তু এর সমাধান কৃষিকে বাজারের হাতে পুরোপুরি উন্মুক্ত করা বা বহুজাতিক হাঙ্গরদের আহ্বান জানানো নয়। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সংস্থান এবং রাষ্ট্রের তরফে কৃষিকে সহযোগিতে করা এর বিকল্প পথ। আমেরিকার হিসেব দেখায়, পূর্ণ মুক্ত বাজারের ঐ দেশে ১৯৬০ সাল কৃষকদের আয় লাগাতার কমে যাচ্ছে। ফলে মুক্ত বাজার এবং বিশ্বপুঁজির উদ্বাহু নৃত্য কৃষকের মুক্তির পথ নয়।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ার অবদমিত আতঙ্ক এবং বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা কৃষকের আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। এ আন্দোলন তেভাগা বা তেলেঙ্গেনার আন্দোলন নয়। সেরকমটা হবেওনা। কিন্তু কৃষক যে টলে যাওয়া ভবিষ্যতের আশঙ্কা করে পথে নেমেছে সে আশঙ্কা সমাজের সর্বস্তরে সত্যি। কিন্তু সমাজের অন্য অংশগুলো কি কৃষকের পাশে দাঁড়াবে? ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে কিন্তু সমাজের অন্য অংশরা দাঁড়ায়নি। এই দূরত্ব এবং বিভাজনের বাস্তব অস্তিত্ব রাষ্ট্রকে অতিরাষ্ট্র করে তোলার পথ সুগম করে। আমরা সাক্ষী হয়ে ত্থাকি!
(আমি আমার এ লেখাটির জন্য অংশত টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত “দ্য গ্রেপস অফ রথ” প্রবন্ধটির কাছে ঋণী)

PrevPreviousফেসবুকে স্মৃতিকথা ডিসেম্বর
Nextমানসিক রোগের রকমফেরNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
7 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Soumya Chakraborty
Soumya Chakraborty
5 years ago

Excellent sir

0
Reply
Mitrarun halder
Mitrarun halder
5 years ago

এটি আমাদের চরম সুযোগ এ মুহূর্তে শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী একটি বিশেষ ভুমিকা আছে উত্তরপূর্ব ভারোততের কৃষক বিদ্রহ ব্রিধাংগুস্টী দেখাচ্ছে System কে? বিদ্রহটা বিশ্ব ব্যাপী ছড়াতে পাড়ত আপাতত ভারত ব্যাপী ছড়াতে পাড়ে ।যদি না এ সমকালীন ধর্ম এবং রাজনিতীকে অস্বীকার কোরতে পারে তারা ।যদিও উত্তরপূর্বভারোতের কৃষক বিদ্রহ এক ধাপ এগিয়ে।ধর্ম কে ধর্মই কাটতে পারে চাইলেও রাজনিতীকে অস্বীকার কোরতে পারে আর সেটা হচ্ছে শিখ ধর্ম।অন্যতম প্রধান ধর্ম এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সংগঠিত ধর্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম, এটি একবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে প্রায় 25 মিলিয়ন শিখের সমন্বয়ে গঠিত। ….

0
Reply
kalyan moulick
kalyan moulick
5 years ago

খুব ভালো লেখা

0
Reply
বরুণ ভট্টাচার্য
বরুণ ভট্টাচার্য
5 years ago

নিবন্ধটি ‘আগ্নেয়গিরির শিখরে পিকনিক’, সমাজ-অর্থনীতিবিদ অশোক রুদ্র’র বইয়ের কথা মনে করিয়ে দিলো। ধ্বংসাত্মক নীতি নিয়ে চলা সরকারের স্বরূপ উন্মোচনে নিবন্ধকারের দৃষ্টিভঙ্গি বহু মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ।

0
Reply
Partha Das
Partha Das
5 years ago

ভালো লেখা। খুব সহজেই বোঝা যাবে। শেষের অংশ বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

0
Reply
সুকুমার ভট্টাচার্য্য
সুকুমার ভট্টাচার্য্য
5 years ago

লেখকের বক্তব্যর সাথে একমত।
কিছু বলার মত ভাষা আমার কাছে নেই।
অর্থনৈতিক কাঠামোর বদল করার চেষ্টা চলছে ক্রমাগত।
ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্যকে নমস্কার সংবেদনশীল বিষয়ে স্পষ্ট মতামত পেশ করার জন্য।

0
Reply
Sujoy chanda
Sujoy chanda
5 years ago

খুব প্রাসঙ্গিক লেখা। এই অমানবিক সরকারকে শ্রমিক এবং কৃষকেরাই উচিত শিক্ষা দেবে।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

শ্যামাপ্রসাদ স্মৃতিপক্ষ: বিভাজন-রাজনীতির উদযাপন

July 7, 2026 No Comments

There is probably no time and place with which historians are concerned, which has not seen the invention of tradition…For all invented traditions, so far

বারুইপুরের খুনী-ধর্ষকদের শাস্তি চাই।

July 7, 2026 No Comments

৬ জুলাই, ২০২৬ সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি,বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকা শিশু কন্যার গণধর্ষণ এবং নৃশংস খুনের ঘটনার কথা। আমরা বাকরুদ্ধ। আর কত, আর কত?

পশ্চিমবঙ্গ যে আরো অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে বারুইপুর দেখিয়ে দিল

July 7, 2026 No Comments

বারুইপুরে এগারো বছরের একটি বালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো অতি নিন্দনীয় ন্যাক্কারজনক কাণ্ডে ততোধিক নিন্দনীয় ন্যাক্কারজনক অবস্থান নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতা বালিকার পরিবারের সব দাবি

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও অর্থ ব্যবস্থা: বাজেটিয় ঘোষণা এবং অন্যান্য প্রকল্প

July 6, 2026 No Comments

বড়ো পাপ হে: স্বাধীনতার আগে পরে ভারতের সবচাইতে শিল্পোন্নত রাজ্য যা কর্মসংস্থানের জন্য সারা ভারতের কর্ম প্রার্থীদের আহ্বান করত, আমাদের সেই রাজ্য বাংলা (অবিভক্ত) এবং

পুঁজিবাদের আওতায় মানুষের ‘উচ্ছেদ’ নতুন কিছু না

July 6, 2026 No Comments

বাংলায় একটা কথা চালু আছে, “ভাত দেবার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই”। দশকের পর দশক ধরে, হকার সমস্যা নিয়ে সরকারগুলোর মনোভাব আমাদের বারবার সেই কথাটা

সাম্প্রতিক পোস্ট

শ্যামাপ্রসাদ স্মৃতিপক্ষ: বিভাজন-রাজনীতির উদযাপন

Gopa Mukherjee July 7, 2026

বারুইপুরের খুনী-ধর্ষকদের শাস্তি চাই।

Abhaya Mancha July 7, 2026

পশ্চিমবঙ্গ যে আরো অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে বারুইপুর দেখিয়ে দিল

Parichay Gupta July 7, 2026

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও অর্থ ব্যবস্থা: বাজেটিয় ঘোষণা এবং অন্যান্য প্রকল্প

Bappaditya Roy July 6, 2026

পুঁজিবাদের আওতায় মানুষের ‘উচ্ছেদ’ নতুন কিছু না

Dipak Piplai July 6, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

647191
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]