যেহেতু জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে সমর্থন রয়েছে তাই আর এই ঘৃণ্য হত্যা ধর্ষণ, administration এর মদতে প্রমাণ লোপ, অধ্যক্ষের পোস্টিং, ভাঙচুর, থ্রেট কালচার, দুর্নীতি, ইত্যাদি ঘটনার মেরিট এ ঢুকলাম না। শুধুমাত্র টাকা ফেরতের পয়েন্টেই confined রইলাম।
প্রথমেই কতগুলি ভ্রান্ত ধারণা পরিস্কার করে নেওয়া দরকার সেটা হোলো এই যে এরা জুনিয়র ডাক্তার এবং এরা কোনো সরকারী মাইনে পায় না। যেটা পায় সেটা হোলো stipend মাত্র এবং অত্যন্ত কম amount এর। এ ধরনের stipend master degree stage এ IIT, ISI এবং আরো বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনে দেওয়া হয়। শিক্ষিত হবার জন্য। অত্যাচার, অবিচার , থ্রেট, রেপ, হত্যা সহ্য করার জন্য নয়। এই জুনিয়র ডাক্তারদের কোনো official দায়বদ্ধতা নেই রুগী দেখার। তবু তারা সেটা করে থাকে practical শিক্ষা লাভের জন্যই যেটা তাদের পেশায় অভিজ্ঞতা বাড়াবে। যেমন PhD students কিছু ক্লাস নেয় তাদের ভবিষ্যত শিক্ষকতা পেশায় অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের উদ্দ্যেশ্যে।
তবুও এটা অনস্বীকার্য যে এই জুনিয়র ডাক্তারদেরই সরকারী হাসপাতালে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। তার সব থেকে বড় কারণ হলো under recruitment। যেমন ধরা যাক CNMC তে Pathology তে চারজন মেডিকেল টিচার এর পোস্ট। কিন্তু তিনটে তে বহু বছর recruitment হয় নি। মাত্র একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সেই কাজ এবং সাথে ল্যাবরেটরির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, যিনি আমার সামনে বাড়িতে থাকেন। যাঁরা পড়ান না এবং শুধুই রুগী দেখেন তাঁদের আরো দুরবস্থা। তাহলে এই ধরনের non-recruited পোষ্ট গুলোর যে মাইনে হওয়া উচিত তার টাকা সরকার কি এই জুনিয়রদের এতকাল দিয়ে এসেছে তাদের কাজের জন্য?
এই জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে পাশে থাকতে সিনিয়র ডাক্তাররা এবং ডাক্তার শিক্ষকরা উদয়াস্ত আউটডোর, ইমারজেন্সি তে এক্সট্রা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। সে জন্যই তাঁরা ফিজিক্যালি আন্দোলনে শামিল হতে পারছেন না।
ইচ্ছাকৃত ভাবে একটা ভুল ন্যারেটিভ চালানো হচ্ছে যে সরকারী পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে যেটা একটা রাজনৈতিক চাল এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ কে ক্ষেপিয়ে দেবার জন্য। অথচ পরিষেবা তো বন্ধ নেই সংবেদী সিনিয়র ডাক্তারদের অক্লান্ত পরিশ্রমে। উল্টে সোম থেকে শনি Abhaya telemedicine Clinic চালু করা ১০ am – ২ pm এবং রবিবার সারাদিন জায়গায় জায়গায় Abhaya clinic চালানো অত্যন্ত দৃপ্ত পদক্ষেপ আন্দোলনরত ডাক্তারদের পক্ষ থেকে।
যদি ডাক্তারদের আন্দোলনকে সম্মান ও সমর্থন করেও সরকারী কোষাগারের কথা ভেবে বা না ভেবে এই জুনিয়র ডাক্তারদের নৈতিকতার কেউ প্রশ্ন তোলেন তাহলে জানাই –
১) জনসাধারণের চিকিৎসা পরিষেবায় যে under recruitment, যার ভার এই ছাত্রদের বইতে হয়, তার জন্য সরকারের নীতিহীনতার কথা ভাবা হোক আগে।
২) স্বাস্থ্যের মতন একটা জরুরী পরিষেবায় করদাতার পয়সা নয়ছয় করে যে মাফিয়ারাজ চালানো হচ্ছে তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠুক।
৩) যে ডাক্তাররা ওই পরিবেশে তাদের পরিষেবা দেবে তাদের উপযুক্ত বাতাবরণ, নিরাপত্তার কথা ভাবা হোক।
যে কোনো stipend, ভাতা ইত্যাদি করদাতার পকেট থেকে যায়। যদি ওই stipend সরকারী কোষাগার প্রেমী, রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যকামীদের ভৌতিক নৈতিকতার প্রকোপে ফেরত দেবার প্রশ্ন আসে তাহলে আরো অনেক বিচারও করতে হয়, যেমন-
১) যখন কোনো MLA/ MP কোনো সেশন বয়কট করেন তখন তাঁরা তাঁদের ভাতা ফেরত দেন কিনা।, ইত্যাদি।
২) একটা ঘৃণ্য অপরাধকে ডিফেন্ড করতে সরকারী কোষাগার থেকে যে পরিমাণে করদাতাদের অর্থ কপিল সিব্বল & কোর জন্য ব্যয় হচ্ছে সে ব্যাপারেও ভাবা হোক।
সবশেষে বলি যে যারা এই আন্দোলনকে পূর্ণ মাত্রায় সমর্থন করছেন তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এই সামান্য টাকা সরকার কে ফেরত দিতে এতটুকুও পিছপা হবে না। কিন্তু সেটা করলে নৈতিকতার প্রশ্নে concede করে যেতে হয়, যেটা একেবারেই মানা যায় না। আজ অবধি ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে যারা যারা stipend প্রাপ্তরা নেমেছেন সেযুগের থেকে এ যুগের (অযথা নাম উল্লেখ করলাম না) কেউই এর মধ্যে কোনো অনৈতিকতার গন্ধ পান নি।
এই লেখাটির লেখক একজন সরকারি আধিকারিক। সহজ বোধ্যা কারণেই তার নাম দেওয়া হলো না।












যথার্থ নিবন্ধ। সরকারি জুনিয়র ডাক্তাররা যা ভাতা পায় তার তুলনায় অনেক বেশি কাজ তাদের সামলাতে হয়। তার ওপর সিনিয়ার ডাক্তাররা এখনও তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জুনিয়ররা অভয়া ক্লিনিকের মাধ্যমে পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত তাদের কাজের জায়গায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তাই প্রাপ্য ভাতা ফেরত দেওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না।।