জুনিয়র ডাক্তার রুমেলিকা এবং ডাঃ স্নিগ্ধার সঙ্গে গল্পগাছা হচ্ছিলো। গায়িকা মৌসুমীদি বাঁদিকে। স্নিগ্ধাকে প্রশ্ন করলাম, “খিদে চেপে আছিস, অসহ্য লাগছে না?“ স্নিগ্ধা হেসে বললো, “তার থেকেও অসহ্য হলো চব্বিশঘন্টা ক্যামেরার স্ক্রুটিনি চলছে। কে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো, কার সঙ্গে কোন মুডে কথা হলো সব সব!”
সত্যি! পনেরোদিন ধরে নিজেদের খিদে তেষ্টা প্রাইভেসি কম্ফর্ট কেরিয়ার সব জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থা মাফিয়া দালালমুক্ত করতে, রুগীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে তোরা যেভাবে জান বাজি রাখছিস ইতিহাসে তা নথিবদ্ধ হচ্ছে। ৩২৪ ঘন্টা পার হলো অনশন। তোদের শরীরে এমন কিছু বদল হচ্ছে যা ভবিষ্যতে মেরামত সম্ভব নয়, অথচ তোয়াক্বা না করে তোরা সিদ্ধান্তে অটল। ছেলেদের সঙ্গে মেয়েরাও যে প্রথম দিন থেকে প্রথম সারিতে মেনস্ট্রিমড , স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব , প্রমাণ করে দিলো স্নিগ্ধা, তনয়া, সায়ন্তনী, আলোলিকা এবং রুমেলিকা। অর্ণব, পরিচয়, অনুষ্টুপ, পুলস্ত্য, অনিকেত, তোরা কামাল করে দিয়েছিস! নতুন আলোর রেখা! যে জিনিস আশৈশব দেখতে পাইনি- দ্রোহ বল, বিপ্লব বল, যাই বল নারীকে সহযোদ্ধার ভূমিকায় স্বীকৃতি! সময়, যুগ বদল করছিস তোরা!
বয়সে ছোট হলেও তোদের প্রণাম। ঐ অকুতোভয় মেয়েটাকেও বড্ড মিস করি যার জন্য একটা যুগবদলের সাক্ষী রইলাম। মেয়েটাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি বলে ধিক্বার দিই নিজেদের!
মুখ্যসচিব স্বরাষ্ট্রসচিব এতোদিনে এলেন! ওদের শরীরে এতোটা ক্ষতি হওয়ার পর! এবং মুখ্যমন্ত্রী ফোনে বলছেন, ”অনশন তুলে নাও। তারপর তোমরা বসতে চাইলে…আমার সময় মত ডেকে নেবো”
সময় কবে হবে? আর কবে?









