কি অসীম ঘৃণার চাষবাস চলছে এখন। দুই বাংলায়। কিন্তু কেন! একটু বিষদে বলি। এড়িয়ে না গিয়ে পড়ে দেখুন।
বাংলাদেশে হিন্দু বিদ্বেষের সঙ্গে ভারত বিদ্বেষ বিষের মতো উগরে দিচ্ছেন শাসন ক্ষমতায় বা ক্ষমতার বৃত্তে থাকা দলবল। কারণ তাঁরা জানেন বাংলাদেশের এই প্রবল ডামাডোল আর অরাজকতার ভেতর, প্রবল দূর্মুল্যে নাভিশ্বাস ওঠা জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় টিঁকে থাকতে হলে এই ধর্মান্ধতা আর অন্ধ জাতীয়তার পথই একমাত্র সোজা পথ। এর চেয়ে মানুষকে অন্ধ করার, বোকা বানানোর, হিংস্রতাকে জাগিয়ে তুলে এককাট্টা করে তাদের মূল সমস্যা ভুলিয়ে দেবার মত সহজ পথ পৃথিবীতে আর আবিষ্কার হয়নি। দেখবেন এই দেশেও রামমন্দিরের ধর্মখেলা, পাকিস্থানে সার্জিকাল স্ট্রাইক বা পুলওমা কাণ্ডের জাতীয়তার জিগির বিজেপিকে হিন্দু ভোট সংহত করে জিততে কীভাবে সাহায্য করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান কাণ্ডে ভারত ধীরে চল নীতিতে খেলছে। আমি, ‘ভারত কেন আগামীকালই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করছে না’, এরকম ছেঁদো কোনো যুক্তির কথা বলছি না। আন্তর্জাতিক স্তরে আরও সক্রিয় হয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের বিপক্ষে বৃহৎ শক্তিগুমির সমর্থন আদায় করে বাংলাদেশের বর্তমান শাসক গোষ্ঠীকে কোনঠাসা করার তেমন কোন চেষ্টাই নেই যেন ভারতবর্ষের শাসকুলের। কারণ বিজেপি ভাল করেই জানে ওদেশে হিন্দুবিদ্বেষ যত তীব্র হবে এদেশে তাদের ভোট ব্যাংক ততই ফুলে ফেঁপে উঠবে। সেই অঙ্কে এদেশে মুসলমান বিদ্বেষ, বিষোদগার, ঘৃণা ছড়ানো শুরু হয়ে গেছে প্রবলভাবেই।
কিন্তু এতে একটু মুশকিল দেখা দিয়েছিল। ভারতের অতি ধীরে চলো নীতির ফলে এখানে হিন্দু নেতাদের অনেকেই (যেমন কার্তিক মহারাজ), ‘প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন’, ‘ভারত কেন বাংলাদেশের হিন্দুদের বাঁচাতে আরও সক্রিয় উদ্যোগ নিচ্ছে না’, এসব প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। দৃশ্যতই বিজেপি বিশেষত এই বাংলার বিজেপি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। এই সংকট থেকে তাঁদের বাঁচাতে নেমে পড়ল তৃণমূল।
আপনারা খেয়াল করে দেখবেন বিজেপি মুসলমান বিদ্বেষ ছড়াতে সবচেয়ে যে কথাটি বেশি বলে তা হল, ‘এই দেশে মুসলমানরা একদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে এবং দেশটাকে দখল করে নেবে’। আমাদের মেয়র জনাব ববি হাকিম ঠিক সেই কথাটাই কোনো একটা ছোটখাটো মুসলিম সভায় বললেন। সেটা এমনিতে বাইরে খুব একটা ছড়ায়নি। সবাই আবার সেটা জানতে পারল বিজেপির অমিত মালব্যের টুইট থেকে। কী চমৎকার বোঝাপড়া! সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল ঘৃণার চাষ। হিংস্রতার চাষ! বিজেপি এবার ঝাঁপিয়ে পড়বে প্রবল উদ্যমে।
আপনাদের কি মনে হয় এটা ববি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন?
একেবারেই না, এটা আসলে সম্পূর্ণ জেনে বুঝে তৃণমূলের বিজেপিকে অক্সিজেন জোগানো। না হলে ভুজুংভাজুং দিয়ে ববিকে কুনাল সমর্থন করতেন না। এবার আবার দলের পক্ষ থেকে ববিকে কিছু লোকদেখানো ধমক টমক খেতে হতে পারে। তবে কাজের কাজ হয়ে গিয়েছে।
এবারে এর সঙ্গে সিবিআই ইডির সাম্প্রতিক নিষ্ক্রিয় কর্মকাণ্ডের কোনো যোগ যদি আপনি না পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। অভয়া কাণ্ডের চার্জশিটের কথা না হয় ছেড়ে দিলাম নিয়োগ দুর্নীতিতে এতগুলো গ্রেফতার কিন্তু তাদের চার্জশিট হল না কেন? সবাই বেবাক জামিন পেয়ে গেল যে! আর লিপস এন্ড বাউন্সের আর্থিক দুর্নীতির কেসে কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর কাকু গ্রেফতার হলেও তাঁর মালিক কি করে বাইরে থাকেন? তিনিও তো কাকুর মতো ওই কোম্পানিরই ডিরেক্টর ছিলেন! অবশ্য কাকুও এতকাল হাসপাতালের আরামশয্যা শেষে চার্জশিট না দেওয়ায় জামিন পেয়ে গেছেন। তার কণ্ঠস্বর নিয়ে কী হল কেউ জানে না।
কী বুঝলেন তবে? আপনাকে এখন ঠিক করতে হবে এই মিথ্যের, এই ঘৃণার, এই দুর্নীতির, এই বোকা বানানোর পক্ষে দাঁড়াবেন নাকি পক্ষ নেবেন মানবতার এবং সত্যের।
আমি কেবল ভালোবাসা বলতে পারি।









