একটি সংবাদমাধ্যম (প্রিন্ট বা টিভি কিছু হবে) দেখলাম ধর্ষণ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য মেয়েদের কিছু টিপস দিয়েছেন। টিপসগুলো পড়লাম। আপাতদৃষ্টিতে বেশ কার্যকর এবং উদ্দেশ্যও মহৎ, সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ কিন্তু ভাবতে গেলেই দেখা যায় প্রচুর সমস্যা আছে।
নিজেকে বাঁচানোর দায়িত্ব মেয়েদের নিতে হলে খুব সমস্যা। ওই সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখা খুব কঠিন। আর মানুষের চোখ গে/লে দেওয়া বা গলায় পিন ফু টিয়ে দেওয়া সহজ নয়। আমি পুরুষ, তাও এগুলো করতে পারব না। ইনহিবিশন হবে৷ মনে মনে কল্পনা করে দেখুন, কারো চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, চোখ ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে। স্রেফ কাল্পনিক দৃশ্যটুকুই হজম করা কঠিন। সেই লোকটা যদি মেয়েটির কাকা, দাদা বা বন্ধু হয়? কাজটা তাহলে আরও কঠিন।
প্রশ্ন হল, কেন একজন মেয়েকে এত ভয়ে ভয়ে রাস্তায় ঘুরতে হবে? শুধু রাস্তায়? বাড়ির মধ্যে কম ধর্ষণ হয়? বাড়িতে থাকার জন্যও মার্শাল আর্ট শিখতে হবে?
ধর্ষণ আটকানোর কিছু টিপস পুলিশের জন্যও থাকা উচিত।
যেমন:
১) সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখুন এবং সেগুলোতে নজর রাখুন।
২) অপরাধের সম্ভাবনা কোথায় কোথায় বেশি, সেই এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখুন।
৩) ল্যাদ না খেয়ে প্যাট্রল জারি রাখুন।
৪) সন্দেহজনক লোকজনের গতিবিধিতে নজর রাখুন, প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করুন।
৫) কোনো মহিলা অভিযোগ জানাতে এলে তাঁকে হ্যারাস করবেন না। অভিযোগ নিন এবং সাহায্য করুন।
৬) অনেক ধর্ষক পূর্বপরিচিত। তাদের খারাপ আচরণের ক্ষেত্রে ধর্ষণ অব্দি পৌঁছানোর আগেই নালিশ জানাতে মহিলাদের উৎসাহ দিন। অথবা একবার ধর্ষণের পরেই ব্যবস্থা নিয়ে বারবার ধর্ষণ আটকে দিন।
৭) ধর্ষকের কাছ থেকে পয়সা খাবেন না। ওই টাকায় বিরিয়ানি খেলে ভেদবমি হয়।
৮) প্রমাণ লোপাট না করে সঠিকভাবে তদন্ত করুন। শাস্তির নিশ্চয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করুন, যাতে ধর্ষণ করলে শাস্তি পেতে হবে, এই বোধ তৈরি হয়।
…. এসব। আরও অনেককিছু। সরকার, নেতা, পাড়ার মুরুব্বি, বাপ-মা… সকলের জন্যেই কিছু টিপস প্রয়োজন।









খুব সুন্দর উপস্থাপনা 🙏 ধন্যবাদ