সমাজের সুধীজনের বিক্রি হয়ে যাওয়া সমাজের অবক্ষয়ের মূল কারণ। হাজারটা দুর্বৃত্ত মস্তানের থেকে একজন বিক্রীত ও বিকৃতমনস্ক বিদ্বান ব্যক্তি সমাজের জন্য বড় থ্রেট। এখন কোন ডাক্তার সরকারি হাসপাতালের থেকে প্রাইভেট চেম্বারে বেশি এফর্ট দেন বা কোন শিক্ষক স্কুলের তুলনায় টিউশনে বেশি এফর্ট দেন- এসব খুচরো বিষয়ে আলোচনায় নামতে চাইনা। একটা সিস্টেমেটিক বিপর্যয়, যা হয়তো সাব-ক্লিনিকালি বহুযুগ ধরে ছিল কিন্তু যার উদাহরণ আমরা গত কয়েক বছরে চাক্ষুষ দেখছি, সেটা নিয়ে বলতে চাই…
ওকালতির পেশা বহু আগে অনিবার্য কারণেই বিভিন্ন পার্টির হাতে বিক্রি হয়ে গেছে- বহু নামজাদা উকিল কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সরকারের কুকীর্তিকে ডিফেন্ড করেন, কপিল সিব্বল মহাশয়ের নাম তো এই বিষয়ে অগ্রগণ্য 🙏🙏 আরজিকরের নির্লজ্জ নারকীয় হত্যাই হোক বা ২৬০০০ চাকরি নিয়ে নোংরা টাকার খেলা- সবেতেই এনারা মসিহা হয়ে অবতীর্ণ হন। দেশের আইনব্যবস্থা নিয়ে এত কথা হয়, আজ দেশের এই অবক্ষয়ের একটা কারণ যদি কিছু থাকে, সেটা আইনব্যবস্থার মূল্যবোধের দৈন্যদশা।
শিক্ষকদের দুর্নীতি নিয়ে আর নতুন করে কি বলবো!! বিকেলের টোলে না গেলে বিভিন্ন প্রকারের অত্যাচার তো আমরাই পেয়েছিলাম, ওই বাবুর কাছে পড়লে সেই বাবুর রাগ ইত্যাদি আগেই ছিল। তারপর দেখলাম মিড ডে মিলের ফান্ড এধার-ওধার। সব খতিয়ান নিয়ে বসলে লেখা শেষ হবেনা। কিন্তু টাকা দিয়ে চাকরি নিয়ে ছাত্র পড়ানোর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো বঙ্গদেশে এবং শিক্ষককুলের মধ্যেই যোগ্য-অযোগ্যের মধ্যে আর বিভাজন করা গেল না, এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রাইভেট স্কুলের সিস্টেমেটিক মানি-এক্সটর্শনের জন্য না হয় শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ দায়ী না-ই করলাম, কর্পোরেট কালচারের অবধারিত ফল এটাই।
ডাক্তার সমাজও গেছে মায়ের ভোগে- গেছে, যাচ্ছে, আরো যাবে। সরকারি চাকরি বাঁচাতে, ট্রান্সফার আটকাতে সরকারকে তেল, মিডিয়ায় মুখ বাঁচাতে মিডিয়াকে তেল, কর্পোরেট হাসপাতালে অস্তিত্ব বাঁচাতে প্রায় ‘টার্গেট’পূরণ করতে নেমে পড়া- এসব এখন উলঙ্গ সত্য। আগে ডাক্তার কম ছিল, লোকে বিনা চিকিৎসায় মরতো ঠিকই- কিন্তু অতিরিক্ত চিকিৎসায় কপর্দকহীন হতো না অন্ততঃ। সত্যি বলতে গরিব মানুষ এখনো বিনা চিকিৎসায় মরে, আমরা সেটা দেখতে চাই না… যাইহোক এসব মেডিক্যাল ফিল্ডের চরচরির বাইরে এসে সন্দীপ ঘোষ মহাশয় ডাক্তার সমাজের যে নারকীয় রূপটা সবার সামনে এনেছেন, আশা করি এরপর আর কোনো অবতারেই ডাক্তারেরা বেমানান লাগবে না- আসলেই ডাক্তারের ‘পিশাচ’ অবতার আমরা দর্শন করে ফেলেছি।
এরকম সব পেশা নিয়েই কমবেশি বলা যায়, বক্তব্য দীর্ঘায়িত করতে চাই না। শিক্ষা যে মানুষকে সর্বদা সঠিক পথের সন্ধান দেয়না, এটা তারই প্রমাণ। কিন্তু এটাও খুব একটা দুশ্চিন্তার হয়তো ছিল না…
কিন্তু তথাকথিত আধ্যাত্মিক জগতের সাধুবৃন্দ, যাঁরা সকল জাগতিক মায়ার ঊর্ধ্বে, যাঁদের সংসারের, কামিনী-কাঞ্চনের মোহ নেই- শেষে তাঁরাও বিক্রি হবেন!! ‘ফুরফুরে’ হাওয়ায় দুর্মূল্য গাড়ি চালিয়ে ঘোরা দাড়িওয়ালা- এদের ধর্মের ধ্বজাধারী কোনোদিন মানিনি, মানবোও না। কিন্তু শুভ্র/গৈরিক পোশাকে যাদের দেখলেই আমাদের মাথা সম্মানে ঝুঁকে আসে, তাদের একি দুরবস্থা! যে সন্ন্যাসীসমাজ ব্রিটিশশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, আজ পুঁজিবাদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে শাসকের পদলেহন বড়ই মর্মান্তিক!!
ভাগ্যিস জগন্নাথের হাত নেই, নয়তো সেই হাতেও অভয়ার রক্ত লেগে থাকতো….








