গতকাল সারাদিন ধরে ডিএ রায় নিয়ে বহু আজেবাজে পোস্ট করেছি। আজ থেকে ওই ব্যাপারে আর কিছু বলব না। এই ডিএ পাবার লোভটা এককথায় লোভই। আর কে না জানে,
‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু শাস্ত্রের বচন।
অতএব করো সবে লোভ সংবরণ’!
ফেসবুক ঘেঁটে দেখলাম, অতীতেও বহু পোস্টে আমার এই ডিএ পাবার লোভ আর না পাবার আক্ষেপ বড়ই প্রকট। বয়সের কারণে মৃত্যুও কাছে চলে এসেছে। আলটপকা মরে গেলে এই তোমরাই বলবে, লোভের জন্যই মরল।
তাই আজ থেকে কয়লা-বালি-পাথর-গোরু-চাকরি সাজানো এই লোভী পটচিত্র থেকে ডিএ লোভী হতভাগা নিজের ছবি মুছে দিল। নিত্যকার ওষুধের দাম আর বয়স পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। মরবে তো এমনিতেই। শুধু শুধু লোভীর লিস্টে নাম লেখানো… বেকার।
এহ বাহ্য, সেই পুরোনো পোস্টগুলোর কয়েকটা।
★
১)
খচ্চরের ডিএ
———————–
অ্যাই শোন, তোরা কিছু… সরকারি খচ্চর
ডিএ চেয়ে কেঁদেছিস নাকি সারা বচ্ছর?
আজীবন সেবা দিয়ে, প্রাণপাত হর্ষে
কাল যে চাকর, আজ কেন খচ্চর সে?
খচ্চর মানে গালি? মোটেই ভাবিস না
ভারবাহী জন্তু সে, নেই ক্ষিদে তৃষ্ণা।
গাধাদের চেয়ে যদি কিছু চাস বেশি… নে
হলফনামাটি ছাপা সরকারী মেশিনে।
আদালতে গিয়েছিস। ডিএ চেয়ে বাহানা?
চাইলেই পাওয়া সোজা, ব্যাপারটি তাহা না।
এই যে চতুর্দিকে এত পরিবর্তন
উন্নয়নের তাস রুইতন হরতন…
এত মেলাখেলা চলে, দেখেও থাকিস চুপ!
শ্রেণীসংগ্রাম খুঁজে পেল তার অভিরূপ।
এ’তো আর বিধায়ক-সাংসদ ভাতা না!
সরকার তোর বেলা তত বড় দাতা না।
দাম বেড়ে যায় বলে ডিএ পেতে বাসনা?
মূল্যবৃদ্ধি? আহা টমেটো তো খাসও না!
ওই সব দামি চিজ খেলে তোরা জানতি
কাকে যে মূল্য বলে, কীসে বিভ্রান্তি।
হলফনামাতে খুশি, জো হুজুর চামচা
মুখেতে কুলুপ আর পেটে বাঁধা গামছা।
হিটলারপুজো করে কৃমিকীট মচ্ছর।
বৃথা লড়ে যায় একা… ভারবাহী খচ্চর!
★
২)
দূর আকাশে আবছা মত দেখতে পাচ্ছি কী এ?
দূরবীক্ষণ বলছে ও’টাই স্বপ্নে দেখা ডিএ।
★
৩)
দেড় কোটি ফেক রেশন কার্ড।
কার্ড পিছু ভর্তুকি কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে মাসে প্রায় একশটাকা।
সে ভাবে ভাবলে, মাসে দেড়শ কোটি টাকার রেকারিং ডিপোজিট।
ডিএ দেবার নাম করে না হারামজাদারা অথচ দুর্নীতির পাঁচতলা মল, পুরোটাই চুরি।
★
৪)
লক্ষ কোটির গল্প দেখি ছেঁড়া কাঁথার আড়াল দিয়ে।
আমরা গাধা, নাটক দেখে মুগ্ধ। ভাবছি, সত্যি কি এ?
এর মধ্যেই কোথায় জানি,
দিন যাপনের আত্মগ্লানি…
হাজার দিনের কান্না যাপন গান্ধীমূর্তি দেয় কাঁপিয়ে।
আমরা বোকা… চ্যানেল-খোকা… দেখছি সেসব বেজায় ইয়ে
কলঙ্কিত নায়কবাবুর অপ্রকাশ্য কয়টি বিয়ে!
কোন রাউন্ডে কেমন তেজি
টাকার হিসেব সোনার কেজি…
হায় রে জীবন, এর মধ্যেই লোপাট তোমার পাওনা ডিএ।
★
৫)
হাঁটু
_____
চুলে তো কলপ লাগানোই যায়, হাঁটুতে লাগাব কী যে
ভাবনার চোটে দিশা পাচ্ছি না। ব্যথায় মরছি নিজে।
ফরেন ট্যুরের পরপরই আমি নরেনকে ফোন করে
উপায় শুধোই, দুই পায় ব্যথা। কী কঠিন অঙ্ক রে।
ডেঙ্গিও খুব লেঙ্গি মারছে। সহজ হিসেব কি এ?
ধর্মতলায় দণ্ডী কাটছে বেয়াদব কিছু ডিএ।
নরেন বলল, এ তো সাফল্য, বলে দেব বাইনারি?
পায়ে ব্যথা…এই অজুহাতে পালা। গ্যারান্টি দিতে পারি।
দশদিন রেস্ট নেওয়াটাই বেস্ট। ব্যাপার থিতিয়ে যাবে।
নরেন চ্যালারা প্রথম না হয়ে, প্রমিস… দ্বিতীয়ে যাবে।
রেস্টের দিন দশেক পরেই হাজির দুর্গামাতা।
পঞ্চমী থেকে খুলে যাবে পুজো উদ্বোধনের খাতা।
বাঙালি কিন্তু উৎসবে মেতে ভুলে যাবে তদ্দিনে,
সুপ্রিমটাকে ম্যানেজ করব, নগদ অর্থে কিনে।
কোথায় ডেঙ্গি, কোথায় বা ডিএ… চাকরি চাওয়ার দল।
উৎসবহীন ও লোকগুলোর কুৎসাই সম্বল।
সব ভুলে যাওয়া জাতটাকে দেব সর্বনাশের কাল…
উৎসবে মাতো। বিসর্জনের এসেছে কার্নিভাল!
★
৬)
ক্রীতদাস- নামা
শোনো সুপ্রিম,
রাবড়ি বা নিম,
যাই দাও… রাজি আছি।
হে মহামহিম,
প্লিজ্ সুপ্রিম,
খেলিয়ো না কানামাছি।
রায় সুপ্রিম…
ঘোড়াটির ডিম
স্বাদে তা অতুলনীয়
কিন্তু তা কবে?
কতদিনে হবে…
দয়া করে বলে দিয়ো।
পেয়ে যাব ডিএ।
প্রাণ ভরা ঘিয়ে
পোলাওয়ের কাছাকাছি
খাব হিমশিম
প্রিয় সুপ্রিম,
যদি ততদিন বাঁচি!
★
৭)
ডিএ
______
এক সুপ্রিমে
দেখা হল দুজনার
ডেট পিছোতে পিছোতে গেল মাস ছয়…
আসছে জুলাই মাস,
মন তাই ভাবছে কী হয় কী হয়…
কী জানি কী হয়!
★
৮)
কোন্ দেশেতে কেষ্টাগুলো
সকল দেশের চাইতে চোরা?
গায়ের জোরে জিতলে ভোটে
উড়তে থাকে টাকার তোড়া?
পাচার করার কয়লা বালি
পাথর কোথায় জোটে রে?
সে আমাদের এপার বাংলা,
এই পশ্চিম বাংলা রে!
কোথায় থাকে রাজীবকুমার
সায়গলেরা কোথায় আছে?
কোথায় নব জোয়ার চলে,
চোরেরা তার পাছে পাছে?
অপা কোথায় বাসা বোনে
ববিরা ভাগ যাচে রে?
সে আমাদের দগ্ধ কপাল
এই পশ্চিম বাংলা রে!
কার মিটিংয়ে অঢেল গালি
আকুল করে তোলে প্রাণ?
কোথায় চলে বক্তৃতাতে
খিস্তি ভরা মেশিনগান?
উন্নয়নের ভাঙা রেকর্ড
নিত্য কােথায় বাজে রে?
সে আমাদের পিছিয়ে পড়া,
এই পশ্চিম বাংলা রে!
কোথায় চাকরি বিক্রি হলে
সবার অধিক পাই রে দুখ?
কোথায় ডিএ চাইলে বলে
কুকুর বা চোর বা ভিক্ষুক!
মোদের পিতৃপিতামহের
হৃত স্বদেশ কোথায় রে?
সে আমাদের স্বপ্নে দেখা,
হারিয়ে যাওয়া বাংলা রে!
পুনশ্চঃ-
Arunachal, এর সঙ্গেই জুড়ে দিতে পারো কি না দেখো তো:
কোথায় এমন দেশ লুটেরার
মস্ত সে এক আড়ৎ রে
সে আমাদের দুঃখী দেশ,
আমাদেরই ভারত রে!
Amarendra দা’ যোগ করেছেন, এই মহাসত্যিটা।
★
৯)
কুনালের বেলায় পুলিশের গাড়িতে চাপড় মেরে আওয়াজ করত। আজ ডিএ মিছিলের আওয়াজ আটকাতে মাইকে তারস্বরে বাজালো রবীন্দ্রসঙ্গীত।
রবিঠাকুরের কী কপাল!
★
রাশিরাশি উর্দিধারী পুলিশেরা মিছিল দেখতে দেখতে সবাই ভাবছিল, ‘আহা! ডিএ বাড়লে, আমাদেরও বাড়বে’।
★
অভিষেক অভিষেককে না দেখিলে কে দেখিবে?
★
১০)
আমি রাজ-কোষাগারের টাকায় ডিএ পাইনি।
তাতে কী?
আমার মনুভাই তো পেয়েছে।
কোষাগার তছরুপের টাকা
চাকরি-চুরি কয়লা-বালি-পাথর-গোরু-স্কোয়ারফুটের টাকা।
মনুবাদই শেষ কথা বলবে।
★
১১)
মামলার ডেট
পিছিয়ে যায় পিছিয়ে যায় পিছিয়ে যেতে যেতে
পঞ্চমবার থমকে গেছে সুপ্রিম সঙ্কেতে
এই শুনানি স্বেচ্ছাসাধ্য ক্লান্ত ডিএ কেসের।
ভাগফল নেই,অপেক্ষা স্রেফ হতাশ অবশেষের।
অপেক্ষাকে জড়ো
করতে করতে খতম হব… ইচ্ছা এমনতরো
পিছিয়ে যায় পিছিয়ে যায়। পিছিয়ে যেতে যেতে
ঘেউ ঘেউ তাও বজায় রাখি জীবনে হাত পেতে
হতক্লান্ত কর্মী, দেবো আন্দোলনেই পাড়ি।
বদলে যাবে নবান্নের ওই চোদ্দোতলা বাড়ি
মিথ্যে টালির ঘরও…
যতই তুমি সততাহীন মূর্তিতে রঙ করো।
★
১২)
ছুটি শুরু হল আজ! শুভেচ্ছা নাও, জীবন আনন্দ নাও…
👇
হায় ডিএ
__________
হায় ডিএ, আইনি আশার ডিএ, এ উজ্জ্বল আশ্বিন প্রহরে
তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে-উড়ে মিথ্যেবাদী নবান্নের পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেভুল স্বপ্নের মত আটত্রিশ পার্সেন্ট মনে আসে;
পৃথিবীর ভাঙা ঘুম স্বপ্নদের মতো সে যে চ’লে যাবে দূরে সুপ্রিমের কাছে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!
হায় ডিএ, মনু সিঙ্ঘভির ফিজ্, আমারই ট্যাক্সে দেয়া হবে
তুমি আর উড়ে-উড়ে কেঁদোনাকো বেআইনি নবান্নের পাশে।
★
১৩)
যুদ্ধু-যুদ্ধু খেলা
গ্রেটার এবং লেসার মিলে… খেলচে যুদ্ধু যুদ্ধু খেলা
ভোট না দিয়ে ধনকরকে জেতায় লেসার, ভোটের বেলা।
গ্রেটার ব্যাঙ্কে সুদ কমাচ্চে, লেসার তখন রুখছে ডিএ।
সিঙ্ঘভির ফিজ দিচ্ছে লেসার, আমার করের পয়সা দিয়ে।
গ্রেটার লেসার দুইজনেরই কমন শত্রু যতেক বামরা
ছদ্মবেশী গ্রেটার-লেসার আম সাজিয়ে দিচ্ছে আমড়া
গ্রেটার বিলোয় মিথ্যে প্রবোধ, দিন আসবেই ব্যাপক আচ্ছে…
সংস্কৃতিমান লেসার তখন, সন্ধি পুজোয় ঢাক বাজাচ্ছে
★
এই হল লোভী আমার মহা (ডিএ) লোভের খতিয়ানের কিয়দংশ।
বাবু আর বিবিরা এই মহালোভীকে ক্ষমা করুন। আমি আমার অক্ষম লোভ ‘সংবরণ’ করেছি।










