তোর সব আছে, শুধু একটা জিনিস নেই। সেই কিলার ইন্সটিংটটা শুধু চাই।
কে বলেছিল খেয়াল নেই। হয়তো ছোটোমামা। ওর আইডল। যে নাকি গুরু পাকড়ে সন্ন্যাসী হবার জন্য ঘর ছেড়েছিল হায়ার সেকেন্ডারির আগে। সেই গুরুকে চিনত জগন্নাথ।
কিম্বা হয়তো বলেছিল বিপুলদা। যে ইন্ডিয়ার হয়ে খেলার কথা ভাবত কিন্তু জেলা টিমেও ঢুকতে পারেনি।
জগন্নাথ অনেক চেষ্টা করেছিল ওই কিলার ইনস্টিংট পেতে। চলনে বলনে চাউনিতে। হলিউডি বলিউডি খুনি নায়কদের দেখে এসে প্রায়ই রিহার্সাল দিত। বডি বিল্ডিং, এমনকি বক্সিং কারাটের ক্লাসে অবধি ভর্তি হয়েছিল ওই কিলার ইন্সটিংট নামের বস্তুটা অর্জনের জন্য। লাভ হয়েছিল লবডঙ্কা। সাহস করে কোনওদিন একটা পিঁপড়ে অবধি মারতে পারেনি।
হলেও হতে পারত শ্বশুর অসীম ভৌমিকের আদেশে প্রেমিকা রীনার বিয়েতে টানা সাত দিন ডিউটি দিয়েছে। বিয়েতে পরিবেশন মায় বিয়ের দুদিন বাদে খাট পালঙ্ক জহরের বাড়িতে পৌছোনো অবধি ওর মনেই পড়েনি কিলার ইন্সটিংট নামের অমূল্য রত্নটার কথা। যেটা থাকলে অসীমকে খুন করে ও রীনাকে নিয়ে উধাও হতে পারত। নিদেন বিয়ের আসরে হাঁদা জহরের থেকে জোড়ের গিঁট খুলে দিত।
অতঃপর অবশ্য ওর নিজেরও বিয়ে হয়েছে।
পঁচিশ বছরের ছেলে পিকলু মস্তান হয়ে গেছে।
সেদিন সামান্য শাসন করতে বলল, চুতিয়ার মত বেশি বাপগিরি ফলিও না।
সেদিনও প্রাণপণ চেষ্টা করেছে ওই ইয়েটা জাগিয়ে তোলার। ছেলে আর ওর ট্রেনার এলাকার দাদা গুলে বোসকে কিলার ইন্সটিংট থাকলে নিশ্চয়ই কবজা করতে পারত।
কাউকেই পারেনি।
নগন্য আপিসের বড়বাবুকে না। অকারণে অপমান করা টোটোওলাকে না। বাজারে ওর বেছে তোলা চিংড়িমাছ চাকরিবেচা হরিসাধন মান্না যখন একলপ্তে বেশি দামে কিনে নিল, তখনও না।
তদ্দিনে ও জেনে গেছে, ছোটোমামা বিষ্টুপদ হরিদ্বার পৌঁছুতেই পারেনি। রুক্মিনি দুসাদকে বিয়ে করে পানবিড়ির দোকান খুলেছে ইউপির এক গ্রামে।
বিপুলদা দুশো আটত্রিশ বাসের হেল্পার।
বেকার পিকলু যজ্ঞেশ্বর সাধুখাঁর মেয়েকে ঘরে তুলেছে। তার পেটে নাকি জগন্নাথের বংশধর। বাড়ছে।
অবশেষে গতকাল ছোটোমামার সেই গুরুদেব স্বপ্নে এলেন।
কিলার ইন্সটিংট হাতে তুলে দিলেন।
বেটা, ভয়ের ছায়াটাকে মেরে ফ্যাল।
তৎক্ষনাৎ ছায়াটাকে মেরে ফেলল সে।
এখন জগন্নাথ আছে। ছায়া নেই।
থাকবে কী করে? সন্ধে নেমে গেছে তো।
★










