সিরাজ প্রথম চেঁচিয়ে উঠলো, শালা আজ হঠাৎ হলো কি! বা-লে’র টিচারগুলোর এতো সাহস হলো কি করে?
কানের দুলটা একটু যথাস্থানে আছে কিনা দেখে নিয়ে মন্টু বলল,
নাঃ চমকানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।ঐ যে ওরা বলে ‘থ্রেট কালচার’, এটাই এদের ওষুধ।
আলোচনাটা হচ্ছিলো পাড়ার পার্টি অফিসে। কয়েক মাস আগে ঠান্ডা মেসিন বসলেও ভেতরের আবহাওয়া খুব গরম।
বালিঘাট আর নিরন্নের চোদ্দো তোলা থেকে নির্দেশ এসেছে এবার শিক্ষক দিবসে পাড়ায় পাড়ায় জমজমাট অনুষ্ঠান করতে হবে আর প্রতি পাড়ায় কয়েকজনকে শিক্ষকশ্রী সম্মান জানাতে হবে। ঝ্যামাক স্ট্রীট এর অফিস থেকে মুঠো ভর্তি টাকাও এসে গেছে এদিকে এই বিভ্রাট।
পাড়ার কোনো শিক্ষকই রাজি নন অনুষ্ঠানে আসতে। বিপ্লব আর মুসাফির দুজনকেই হাতজোড় করে ফেরত পাঠিয়েছেন পাড়ার প্রধান শিক্ষক অম্লান স্যার। কি এক ছাব্বিশ হাজারের গপ্পো ঝেড়েছেন।
আরে শ্লা, আমরা না থাকলে তুই এই পাড়ার স্কুলের ‘হেডু’ হতে পারতিস? না স্কুল চালাতে পারতিস!
সব মাল’কে টাইট দিতে হবে।
এই সময়ে ঝড়ের বেগে আসলাম পার্টি অফিসে ঢুকলো। বাইকটা স্ট্যান্ডে রেখে হুঙ্কার ছাড়ল, বান–ৎ! পুলিশ হেলমেট নেই বলে ‘কেস’ দিল।
-তুই ‘ফেজ’ টুপিটা তো মাথায় রাখতে পারতিস।
-শাল্লা, এতোদিন এ পাড়ায় ‘ছি এম ছি’ করছি পুলিশ চেনে না, আমাকে আবার ফেজ টুপি পরতে হবে? লাইসেন্স চেয়ে নামটাও তো দেখল, তারপরেও কেস!
ওদিকে নির্মল আর এক খারাপ খবর নিয়ে ঢুকলো, প্যান্ডেল হবে না।
সুমন ডেকরেটার্স -যে কিনা খবর দেওয়ার আগেই যেখানে বাঁশ ফেলে দিত সে এবারে বেঁকে বসেছে, ঐ ছাব্বিশ হাজারে নাকি ওর দুই ভাইপো আছে। তাই শিক্ষক দিবসের কোনো অনুষ্ঠানেও নেই।
অথচ কি দারুণ মঞ্চ-পরিকল্পনা করেছিল ওরা। গোটা মঞ্চটাই মনে হবে একটা বই, দূর থেকে মনে হবে ‘বর্ণপরিচয়’। একদম ওপরে বড় করে ‘ওনার’ হাসিমুখ।
দীপিকা দেখে বলল,’ হ্যাঁ রে তোরা বিদ্যেসাগরের ছবি রাখবি না।
সেই শুনে ওর ছবি কেউ খুঁজে পেল না, তখন মুস্কিল আসান মনোজিত হাজির। আমাদের আসল স্যার ব্রত বসু’র ছবিটা এডিট করে বললো, চলে যাবে। ওটা’ই মঞ্চের নীচের দিকে ছোটো করে লাগিয়ে দেওয়া হবে।
সব ঠিক এখন ডেকরেটার্স সরে যাচ্ছে।
যত সময় যাচ্ছে চারিদিক থেকে খবর আসছে কেবলই সবাই এর সরে যাবার। এবার কোনো পাড়ায় নাকি আমাদের ‘শিক্ষক দিবস ‘ পালন করতে দেবে না।
থ্রেট কালচারেও কাজ হচ্ছে না।
পার্টি অফিস আস্তে আস্তে খালি হচ্ছে। এদিকে একগাদা টাকা এসে গেছে।
-মইনুল, টাকাটা আপাতত তোর কাছে রাখ।
-না দাদা, তুমিই রাখো তোমার কাছে।
অবাক কাণ্ড, টাকা আসলেই যেখানে ভাগ-বাঁটোয়ারা শুরু হয়ে যায়, সেখানে আজ সবাই এড়িয়ে যেতে চাইছে। টাকা নিয়ে কেউ বাড়ি যেতে চাইছে না।
এ তো এক উলটপূরাণ।












বা!