এক অদ্ভুত অন্ধকারময় ভারাক্রান্ত সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। একের পর এক সম্ভাবনাময় প্রাণ নিভে যাচ্ছে সামনে থেকে। গত পরশু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর নিথর দেহ পাওয়া গেল ক্যাম্পাসের জলাশয়ে। অজস্র স্বপ্ন, সম্ভাবনা থেমে গেল হঠাৎ করেই।
আবার অন্যদিকে, আজ সকালে, মালদা মেডিকেল কলেজের আইসিইউ থেকে এলো আরও এক হৃদয়বিদারক খবর। আর জি কর মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের এক ছাত্রী যে গতকাল আই সি ইউ তে ভর্তি হয়েছিল ( সম্ভবত) বেশি মাত্রায় কোনো ওষুধের বিষক্রিয়ায় – লিভার এবং কিডনি ফেলিওর নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়ছিল সে – কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু তার আগেই থেমে গেলো সব।
এই দুই পরিবারের পাশেই আমরা সর্বতোভাবে আছি, সন্তানহারা পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু শুধু সমবেদনা নয় – দুটি ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ভাবে প্রাণ হারিয়েছে দুই ছাত্রী, একজন নিজের ক্যাম্পাসের ভিতরেই, অপর জনের পরিবারও মেয়ের মৃত্যুর পিছনে নানা ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা দেখছেন। তাই
আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট: দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই দ্রুত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষী(দে)র কঠোরতম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
কিন্তু এমন সব মৃত্যু আরও গভীরতর নানা প্রশ্নেরও জন্ম দেয়। আমাদের ক্যাম্পাসগুলো কি সত্যিই নিরাপদ? আমরা কি শিখছি পাশের মানুষটির যন্ত্রণা শুনতে? আমরা কি এই অবক্ষয়ের সময়ে আরও বেঁধে বেঁধে থাকার দর্শনে দীক্ষিত করতে পারছি নিজেদের? ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর পারস্পরিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো এইসব প্রশ্নের কোনো উত্তর আমরা পাব না, অথচ বাস্তবে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ক্ষমতার রাজনীতির দৌরাত্ম্য, উচ্ছৃঙ্খলতা, আদর্শহীনতা , আর তার সাথে আজকের এই নয়া উদারনীতির যুগে একা একা বাঁচার প্রবণতার অন্ধকারই আমাদের চারপাশকে গ্রাস করছে। এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই ই আজকে সময়ের দাবি।
ঠিক তেমনই অন্য এক লড়াই এর কিছু ছবি রইল সাথে। বার বার অকারণে বিভিন্ন প্রতিবাদী চিকিৎসকদের থানায় ডেকে হেনস্থা করার প্রতিবাদে আজ হেয়ার স্ট্রিট থানার সামনেই আয়োজিত হল অভয়া ক্লিনিক, সিনিয়র ও জুনিয়র চিকিৎসকদের যৌথ উদ্যোগে সবার জন্য স্বাস্থ্যশিবির। বারবার পুলিশের নোটিশ, বারবার ডাক – আমরা তার জবাব দিলাম পরিষেবা আর প্রতিবাদের মিলিত রূপে। পথচলতি বহু সাধারণ মানুষ (এমনকি পুলিশকর্মীরাও) আমাদের ক্লিনিকে নানা শারীরিক সমস্যা দেখালেন,ডাক্তারি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিলেন।
West Bengal Junior Doctors Front
(আজকের অভয়া ক্লিনিক এর কিছু মুহুর্ত)













