২১/০৯/২০২৫ তারিখটি জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চের কাছে এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। জলপাইগুড়ি শহরের শিরীষতলা ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশনকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে আজ সূচনা হলো,” অভয়া পাঠশালা “র। শুধু জলপাইগুড়ি কেন, সাম্প্রতিক সময়ের আবহে এই অভয়া পাঠশালা স্থাপনার ভাবনা ও তা সমাজের বুকে প্রয়োগ করবার কাজ অভিনব তো বটেই, ধারণাগত ভাবেও একেবারে মৌলিক। সকলের সাহচর্যে ও স্বেচ্ছা শ্রমে এই উদ্যোগ আরও বিকশিত হোক, দেবী পক্ষের সূচনায় একমাত্র কামনা।

আজকাল কমবয়সী শিশু, কিশোরদের স্কুলে যে প্রকৌশল অবলম্বন করে শিক্ষা দান করা হয়, তা মূলতঃ অত্যন্ত গতানুগতিক বই নির্ভর। পড়াশোনার অত্যধিক চাপ, ভালো রেজাল্টের জন্য ইঁদুর দৌড়, বাড়িতে মাইক্রো পরিবার হয়ে যাওয়ার জন্য কমবয়সীদের সাথে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার জন্য সৃষ্ট সংকট থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য আলোচনার ভিত্তিতে এই অভয়া পাঠশালা ধারণার জন্ম হয়েছে।
জলপাইগুড়ি শহরের শিরীষতলা, কলেজ পাড়া, তেঁতুলতলা এলাকার প্রান্তিক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার, মধ্য বিত্ত পরিবারের মোট ২৯ জন ছয় থেকে বারো বছর বয়সী ছেলে-মেয়েরা এই পাঠশালায় আজ যোগদান করেছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যাটি আরও বাড়বে। আজকে অভিভাবকদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিলো চোখে পড়বার মতো।

গল্প পাঠ, কবিতা পাঠ, গল্প বলা, কবিতা লেখা, গল্প লেখা, আবৃত্তি, সমবেত গান, একক সংগীত, ছড়া লেখা ও বলা, নৃত্য, মনোনিবেশ করবার জন্য সাধারণ যোগ- ব্যায়াম, ছবি আঁকা, নাচ, নাচের মাধ্যমে শরীরের ব্যায়াম, মূকাভিনয়, নাটকের প্রাথমিক পাঠ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সৃজনাত্মক কাজের মধ্য দিয়ে ঐ ছেলে- মেয়েদের সুস্থ সংস্কৃতি ও সহবৎ শিক্ষা সহ পড়াশোনার দিকে আগ্ৰহ সৃষ্টি করাই এই পাঠশালার উদ্দেশ্য।
প্লে-থেরাপি, মিউজিক-থেরাপি, ইত্যাদি নানা বিষয়ই প্রয়োগের চেষ্টা করা হবে।
অভয়া মঞ্চ ও শিরীষতলা ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন মানুষ, নানা দিকে সফল কৃতী ব্যক্তিত্ব নিজের থেকে এগিয়ে এসেছেন; আগামীতেও আসবেন কথা দিয়েছেন । মাঝে মধ্যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রোজেক্টারের মাধ্যমেও তাদের এইগুলো তুলে ধরা হবে বলে ভাবনার স্তরে রয়েছে।
একদম ছোটো বেলা থেকেই যাতে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের বোধ গড়ে উঠে, ন্যূনতম নীতি শিক্ষার পাঠ যাতে তারা পায় তার জন্য একটা চেষ্টা করা হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই পাঠশালা চলবে। সর্বোপরি ঐ ছেলে-মেয়েরা যাতে মজা করে বিষয়গুলি গ্ৰহণ করতে পারে, তার জন্য যা যা করা দরকার ধীরে ধীরে করা হবে। অভয়া মঞ্চের রিসোর্সের অভাব নেই, সেই রিসোর্স ঠিকঠাক কাজে লাগানোর জন্য ইতিমধ্যেই দায়িত্ব বন্টিত হয়েছে।
অভয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় স্তরের নেতৃত্ব সহ যুক্ত সকল গুণীজনদের কাছে আবেদন, এই অন্যরকম পাঠশালা যাতে বেঁচে থাকে তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।
জলপাইগুড়ি অভয়া মঞ্চ তার সীমিত সাধ্য ও ক্ষমতার মধ্যেও এই ধরনের কর্মসূচি যৌথভাবে গ্ৰহণ করেছে, লক্ষ্য একটাই ঐ প্রতিবাদের বৃত্তটাকে প্রসারিত করা।
অভয়া নেই। তাঁর ন্যায়বিচার এখনও অধরা। যে পাশবিক নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যারা অভয়াকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লাগাতর প্রতিবাদ জারি রাখতে এই পাঠশালাকে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য আবেদন জানাই।










