মেয়েরা সুখেও কাঁদে। ওটা আবেগের প্রকাশ। ঐ যে সেমিফাইনাল এর দিন মেয়েরা মাঠে কাঁদছিল বা কাল ঝুলন গোস্বামী মাঠে ট্রফিটা হাতে নিয়ে হাউ হাউ করে কাঁদছিল, কাঁদতে কাঁদতে চশমা টা মাথায় চলে যাচ্ছিল কিন্তু থামতে পারছিল না সেটা সুখের অনুভুতির। এর পেছনে গ্যালন গ্যালন ঘাম, রক্ত জল করা পরিশ্রম আর কেজি কেজি অপমান আছে। ট্রফি নিয়ে সেগুলোই কান্না হয়ে বেরিয়ে আসছিল।
আর ওই যে আমাদের কল্পিত ইস্পাত কারখানার মালিক, বাঙালী ক্রিকেট আইকনটি আছেন, যার কাছে হাসপাতালে অভয়ার ধর্ষন এবং খুন সামান্য একটি ঘটনামাত্র, যা নাকি সব রাজ্যেই ঘটে, যে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলে ক্রিকেট মেয়েদের খেলা নয়, তার মুখে কাল সপাটে একটা চড় মেরেছে মেয়েরা। সেই আওয়াজ আমরা শুনতে পেয়েছি।
আর ঐ যে ‘মেয়েরা কেন রাতে বেরোবে’ টাইপ কথা বলে যারা রাজনীতি করে তাদের মুখে পোঁচ পোঁচ কালি লাগিয়ে দিয়েছে আমাদের মেয়েরাই।
এই প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পরল। আমি একটা ছোট ক্যাফে চালাই উত্তরপাড়ায়। আমার কমপ্লেক্সের এক তথাকথিত ভদ্রলোক কে একদিন বালিখাল পর্যন্ত লিফট দিয়েছিলাম গাড়িতে। আমি নেমে ক্যাফে তে ঢুকে যাওয়ার আগে বলেছিলাম ‘ একদিন আসবেন ক্যাফে তে।’ এটা আমরা সবাইকে বলি। তিনি তৎক্ষণাৎ বলেন, ‘কাজের জন্য সময় পান না’। এর পর কথার পিঠে আমি যেমন বলি তেমন বলেছিলাম, ‘ছেলেমেয়েদের বলবেন সময় করে ঘুরে যেতে।’ তার উত্তর ছিল ‘ছেলে’ তো সময় পায় না, আর ‘মেয়ে’ বাড়ি থেকে বেরোয় না, এসব জায়গায় আসা তো দুরের কথা। তার দৃষ্টি আর বাচন ভঙ্গির অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল আমি ‘ক্যাফে’ এর বদলে ‘ কোঠা’ চালাচ্ছি। যেন সন্ধ্যার দিকে ‘আজ কি রাত’ শুরু হয় কফি নয় সুরা সহযোগে। সেদিন বলতে পারি নি, ‘ক্যাফে হোক বা কোঠা,
এমন তাচ্ছিল্য আমাদের প্রাপ্য নয়’।
আজ এই কথাগুলো মনে পরছে দুটো কারণে।
১। আমি চাই এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের ক্রিকেট যেন সাময়িক আবেগ না হয়ে যায়।
আমি চাই কাল থেকে আবার যেন ধর্ষণ আর শ্লীলতাহানির গল্পে কাগজ আর নিউজ পোর্টাল ভরে না যায়।
আর
২। আমি চাই ‘আজ কি রাত’ মনে পরলে যেন শুধু একটি স্বল্পবসনা নারীর উত্তেজক গান বা নাচ মনে না পরে, মনে পরে যেন ‘আজ’, ‘কাল’ বা ‘পরশু’ সব রাত মেয়েদের। তারা যেকোন রাতে বিশ্বজয় করে নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘষে দিতে পারে। পারেই।
তাই আজ গলা ফাটিয়ে বলব ‘মেয়েরা, তোমরা শুধু বিশ্বকাপ জেতোনি, জিতিয়ে দিয়েছো আমাদের মত সব মেয়েদের, যারা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের তাচ্ছিল্য সহ্য করি প্রতিদিন।
রাত প্রকৃতপক্ষে যেন মেয়েদের দখলেও থাকে।











দুরন্ত লেখাটি
দারুণ বলেছিস । একদম মনের কথা