আবারও আদালতে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজ্য সরকার! ন্যায়ের পথে আমাদের এই জয় শুধু এক মামলার রায় নয়, বেআইনি বদলি, ক্ষমতার দম্ভ আর গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিটি ডাক্তার, প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়যুদ্ধের প্রতীক।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর তিন সহযোদ্ধা জুনিয়র ডাক্তারকে বেআইনিভাবে কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে প্রতিহিংসামূলক পোস্টিং পরিবর্তন সংক্রান্ত মামলায় দু সপ্তাহ আগেই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারপতির কাছে কড়া ভর্ৎসনার সম্মুখীন হয় রাজ্য সরকার, এবং অতিদ্রুত ডাঃ অনিকেত মাহাতোকে (যিনি এখনো কাজে যোগদান করেন নি) তার প্রাপ্য আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়ার রায়দান করা হয়। সেই রায় কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্যসরকার, এবং প্রত্যাশিত ভাবেই সেখানেও তারা পরাজিত হল আজ। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাবে আজ জানিয়ে দিল যে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় ই বহাল থাকবে। আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে এই জয় আমাদের কাছে প্রত্যাশিত, কিন্তু এই রায় কে চ্যালেঞ্জ করে সরকার আবার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে এই আশঙ্কা যথেষ্ট রয়েছে। ‘আশঙ্কা’ বলা এই কারণে যে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও যে আমাদের জয় সুনিশ্চিত তা সবাই জানলেও, কেবলমাত্র অনৈতিক এই হেনস্থা দীর্ঘায়িত করার জন্যে রাজ্য সরকার কতটা চক্ষুলজ্জাহীন হতে পারে তার প্রমান আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। ইতিমধ্যে আর.টি.আই তে প্রকাশ যে ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ এই অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে ৬৫ কোটি টাকা খরচ করেছে বিভিন্ন মামলায় আইনজীবীদের পিছনে। (উল্লেখ্য এর মধ্যে ২০২৪ –২৫ অর্থবর্ষের হিসাব নেই, যার মধ্যে অভয়া মামলা, এসএসসি দুর্নীতি মামলা সহ আরো অসংখ্য মামলা আমরা শেষ দুবছরে দেখেছি।)
অদ্ভুত এই গণতন্ত্র! নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া একটা সরকার, তার নাগরিক দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা (অধিকাংশই মিথ্যে) করছে, অথবা অসংখ্য বেআইনি কাজ (কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে পোস্টিং পরিবর্তন, টাকা নিয়ে শিক্ষকতার চাকরি দেওয়া ইত্যাদি আরও অসংখ্য উদাহরণ) ডিফেন্ড করার জন্যে সেই নাগরিকদেরই দেওয়া ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা ব্যবহার করে। এমন ব্যবস্থায় একজন সাধারণ মানুষ, যার কাছে অর্থবল নেই বা সেই অর্থে জনসমর্থন নেই তার বিচার পাওয়ার ‘অধিকার’ও যে আদৌ নেই এই নগ্ন সত্য টুকু সবার সামনেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে!

এদিকে এর মধ্যে অন্য এক অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ (বা প্রাসঙ্গিক কিন্তু গুরুত্বহীন) কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। এই রায় যে ডিভিশন বেঞ্চে আসতে চলেছে তা কিন্তু অজানা ছিল না (ঠিক যেমন বাকি দুজন অর্থাৎ ডাঃ দেবাশিস ও ডাঃ আসফাকের ক্ষেত্রেও যে একই রায় আসবে সেটা বুঝতে কঠিন আইন জ্ঞান প্রয়োজন নেই) অন প্রিন্সিপাল রাজ্য সরকার যে অন্যায় করেছে তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল সিঙ্গেল বেঞ্চ, সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়ে আজ আবার মুখ পোড়ালো রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দফতর। বারবার চড় থাপ্পড় ও মুখে চুনকালি পড়ার অভিঘাত আগে থেকে কল্পনা করে মতিভ্রম হওয়া স্বাভাবিক। সেই মতিভ্রম এর চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবেই আমরা দেখলাম যে শাসক দলের দয়া দাক্ষিণ্যে খেতে পাওয়া ইয়েলো জার্নালিস্ট দের খোঁয়াড় হিসেবে বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত একটি সংবাদপত্রে (মাফ করবেন, ভদ্রতার খাতিরে টয়লেট পেপার কেও সংবাদপত্র বলতে হচ্ছে বলে) একটি দারুণ রোমহর্ষক হেডলাইন দিয়ে মুচমুচে ‘খবর’ বেরিয়েছে। যেখানে কোনো এক ‘ভাইরাল ভিডিও’ (সম্ভবত Rectum নামক যে বৃহদন্ত্রের যে অংশে প্রতিবেদক মাথার ঘিলু সুরক্ষিত রাখেন, সেখানে গুঁজে রাখার ফলে এখনও সেই ‘ভাইরাল ভিডিও’ প্রকাশ্যে আনতে পারেন নি।) ডেসিফার করে নাকি বোঝা গেছে ডাঃ অনিকেত মাহাতো একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে গিয়ে বেশ জমিদারি কায়দায় ‘অফার’ দিয়েছেন যে আবার আন্দোলন করতে হবে, যত টাকা লাগবে ‘আমি দেব’। প্রথমত, আপনি সংবাদের নামে গল্প লিখছেন লিখুন কিন্তু আপনার গল্পে পাঁচমাস ধরে বেতনহীন এক চরিত্র যদি এরকম বেপরোয়া জমিদারি দেখাতে শুরু করে তাহলে গল্পটাই তো অবিশ্বাস্য হতে শুরু করবে।
অবশ্যই আমরা সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের অফিসে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু নিছক আইনি নোটিশ দিয়ে এই মনুষ্যেতর দের ঠিক পথে আনা যাবে বলে আমরা মনে করিনা, মানুষের সম্মিলিত গণরোষের মুখোমুখি হলেই একমাত্র এদের উচিত শিক্ষা হতে পারে। (এবং সেটা কবে, কখন, কীভাবে হবে তা কিন্তু এদের রক্ষাকর্তা শাসকদেরও জানা নেই।)
আমাদের নজর থাকবে রাজ্য সরকার এই থাপ্পড়ে শিক্ষা পেয়ে অতিদ্রুত আদালতের নির্দেশ মেনে সঠিক পোস্টিং এর ব্যবস্থা করে নাকি আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি আইনজীবী পুষে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কোটি টাকা খরচ করে আরো বড় থাপ্পড়ের জন্য প্রস্তুত হন।











