পশ্চিমবঙ্গের নাম পালটিয়ে ধর্মবঙ্গ রাখা হোক। এতো ধর্মপ্রাণ মানুষ যে রাজ্যে থাকে, তার তো একটা উপযুক্ত নাম পাওয়ার অধিকার আছে। আর এই জমানায় নাম পাল্টানো তো কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার “মিনিস্ট্রি ফর চেঞ্জিং হিস্টোরিকাল নেমস” বলে একটা দফতর খুলতে পারে।
৬ এবং ৭ই ডিসেম্বর এই রাজ্যে পর পর দুটো ঘটনা ঘটলো-
১. ব্রিগেডে লক্ষ লক্ষ লোকের এক সাথে গীতা পাঠ হলো।
২. মুর্শিদাবাদ এর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হলো । তাতেও লাখো লাখো লোকের জমায়েত হয়েছিল। তাতে যে কত কোটি টাকা মানুষ দিয়েছেন; ১১ টা ট্রাঙ্ক ভর্তি হয়ে গেছে। মেশিন আনা হয়েছে টাকা গোনার জন্য। ১৯৯২ – এ এই দিনে পাঁচশো বছরের একটি সৌধ ভেঙ্গে দিয়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে সব চেয়ে বড় আঘাত হানা হয়। সুতরাং সাধারণ মুসলিমরা স্বাভাবিকভাবেই এতে যোগদান করবেন এবং দান করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কারণ এটা তাদের পরিচিতির (আইডেন্টিটি) প্রশ্ন। আয়োজক তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতা এবং বর্তমানে বিতাড়িত হুমায়ন কবির এটা খুব ভালভাবেই বোঝে।
প্রশ্ন হলো, এই রাজ্যে রাজনীতির এই ধর্মায়ন কে প্রথম শুরু করেছিল? বিজেপি একটা সাম্প্রদায়িক দল। তার এটাই কাজ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন সত্যিই দুর্বল। কংগ্রেস তো আরও অনেক বেশি দুর্বল। বামরা সাধারণভাবে এই সবের মধ্যে থাকে না। বাকি থাকলো তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেই ইমাম ভাতা চালু করলো। সেটা কাউন্টার করতে গিয়ে ক্লাবগুলো দুর্গা পুজোর আগে টাকা দিতে শুরু করলো। গত বছর প্রতি ক্লাবকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে সরকার তার কোষাগার থেকে ৩৭০ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে; এ বছর দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকা করে। রাজ্য সরকার দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের রেপ্লিকা বানিয়েছে। শিলিগুড়িতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির বানাবে। এই সবই সংবিধান বিরোধী। কিন্তু নানাভাবে সংবিধান এড়িয়ে এগুলো করা হচ্ছে।
‘ধর্ম’ ভারতবর্ষে সমাজের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়। এই দেশে মানুষের জীবনের সঙ্গে ধর্ম খুবই সম্পৃক্ত। ঠিক তেমন ধর্মীয় সম্প্রীতিই এই দেশের সংস্কৃতি। ভারতবর্ষের ইতিহাসই সামঞ্জস্যের ইতিহাস। না হলে আর্য্যরা বা মুঘলরা এদেশে এসে এই দেশকেই নিজেদের দেশ মনে করে থেকে যেতে পারতেন না। এই আবহে সব ধরণের বামরা পড়েছে সব চেয়ে মুশকিলে।
যে দেবতার দশটা হাত থাকতেও, নিজের খাবারটা নিজে বানাতে পারেন না বা নিজ হাতে খেতেও পারেন না বা যে আল্লাহ নিজে একটা থাকার ঘরও বানাতে পারেন না, তারা যে আপনাদের কোনো কাজে আসবে না, সেটা সাধারণ মানুষ যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই তাঁদের মঙ্গল ।
কাল থেকে আবার উদয়অস্ত পরিশ্রম করে, আপনাদের নিজেদের খাবারটা নিজেদেরই জোগাড় করতে হবে। সুতরাং এই যে এতো টাকা দিলেন মসজিদ গড়তে বা সময় নষ্ট করে ব্রিগেড গেলেন, রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট কিন্তু জিরো অথবা মাইনাস।











