দুশুঁড় ছ’পা’য় গড় দুপায়ে, ধর্মাবতার,
ভাবনা যেটা ধরতে গেলে সকল নেতার
তাকেই কেমন স্পষ্ট করে
বিনা সময় নষ্ট করে
বলেই দিলেন,
রাষ্ট্র ভাবেন কাদের ভিলেন
পাখির ভানে মরবে বলেই যাদের গজায় ডানা..
অবশেষে বেরলো সেই বেড়ালখানা
ত্যাগ করে তার ঝোলা..
আপনি চেনেন, শুনতে পেলাম,
তাই তো সেলাম করতে এলাম,
আমিই সে আরশোলা।
অগুন্তি সে বে-নাম ঝাঁকে,
আমার মতন কোটি থাকে
পায়ের নিচে সহজ পেষাই,
বস্তুত তে হয় হামেশাই..
আমি তো সে..
টেট পাশে যে গান্ধী-পায়ে অবস্থানে
আমি তো সে…
চাকরি খুঁজে কোথায় গেছি চটিই জানে,
আমি তো সে..
যে রোজ বোঝে কোনটুকু চাল কত ধানে,
আমি তো সে..
ভিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা যাকে ভাতার ভানে
আমি তো সে..
সবচে’ বেশি সংখ্যা যাদের চালিশাপাঠ আর আজানে.
আমি তো সে..
দেশ আগামীর দিকে যেতে চায় না যাদের বর্তমানে..
আমি তো সে ..
আমি তো সে..
বেকার জীবন রোজ যে চালাই ‘কাল খাবো কী’র অংক কষে,
এদিক খাড়াই ওইদিকে খাদ
আগামীকাল গুনছে প্রমাদ,
একটি না দ্বার খোলা..
ঠিক চিনেছেন আপনি হুজুর,
আমিই সে আরশোলা।
তবুও হে ধর্মাবতার, একটি ব্যাপার আছে ভাবার,
যা দেখেছি কেতাব পড়ে..
আরশোলারা এক রয়েছে তিরিশ কোটি বছর ধরে।
উলি ম্যামথ, শ্বদন্ত শের,
লোপ পেয়েছে বংশ তাদের,
আমরা এখন তুল্য যাদের মূল্যবিহীন অযুত বলে,
তারা কিন্তু আছে টিকে,
ছড়িয়ে গেছে চতুর্দিকে,
খিদের জিদে স্থির থেকেছে আম-দুনিয়ার ভোলবদলে।
কুর্সি থেকে নেমে যদি,
দেখেন দেশের পাহাড় নদী,
হয়তো মালুম হতেও পারে এই আমরাই দেশ আসলে..
যাদের কাঁধে দেশের ভাবী,
তুচ্ছ করেন তাদের দাবি,
ভাবেন আমরা পোকার বেশি নই..
একটু আবার ভাবুন সাহেব,
সময় করে করুন হিসেব,
আমরা যদি সুনামি হই
ভাসিয়ে নেবে কাদেরকে তার দোলা…
যাকগে সে সব,
সেই আগামীর জন্য তামাম হিসেবটা থাক তোলা..
কুশল বলার দেশি রীতি
বলেই এবার টানছি ইতি
ভারত-যুবার প্রতিনিধি আমিই সে আরশোলা।











