ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
“Music is a moral law. It gives soul to the universe, wings to the mind, flight to the imagination, and charm and gaity to life and to everything.”
মহান দার্শনিক প্লেটোর এই উক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের শাসক ঘনিষ্ঠ মেহবুব মল্লিক। সংগীতশিল্পী লগ্নজিতা সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন অনুষ্ঠানে। একটি সিনেমায় দেবী চৌধুরানীকে উদ্দেশ্য করে গাওয়া “জাগো মা” গানটি গাওয়ার সময় হঠাৎ আক্রমণ করতে উদ্যত হয়ে, মঞ্চে উঠে শিল্পীর কাছে চলে যান মেহবুব মল্লিক। তিনি নির্দেশ দেন এই গান বন্ধ করে অন্য গান গাইতে হবে, সেক্যুলার গান।
শিল্প সংস্কৃতির জ্ঞান ভান্ডার এখন এইসব দুষ্কৃতীর কব্জায়? তারাই ঠিক করে দেবেন সব কিছু? কাজী নজরুল শ্যামা সঙ্গীত গাইতেন যাতে বার বার মা বলে ডেকেছেন, রশিদ খান সরস্বতী বন্দনা করেছেন, বাউল সুফির এই বাংলায়। সঙ্গীতের থেকে উদার, ধর্মনিরপেক্ষ আর কি আছে? একজন শিল্পীর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা সব আজ প্রশ্নের মুখে।
এ কোন গাঢ় অন্ধকারের দিকে চলেছে আমাদের সোনার বাংলা।একদিকে ওপারে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ছায়ানট’ ধ্বংস করা হচ্ছে, এপারে সঙ্গীত শিল্পীর ওপর আক্রমণ!! বর্বরোচিত এই আক্রমণ সম্ভব হচ্ছে দিশাহীন প্রশাসনিক ব্যর্থতায়। মহিলাদের সম্মান, নিরাপত্তা আজ তলানিতে ঠেকেছে তার কারণ দুষ্কৃতীদের ছাড়পত্র প্রশাসনের হাতে।
লগ্নজিতার হেনস্থাকারীকে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং শিল্পীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
তা না করতে পারলে আগামী দিন আসছে যখন আর কেউ গান গাইবে না, কবিতা লিখবে না, অভিনয় করবে না, ছবি আঁকবে না। সেইদিন মানব সভ্যতার সমাপ্তি।
তা যদি না চাই লগ্নজিতার জন্য, সমস্ত নির্যাতিতর জন্য আমাদের গেয়ে উঠতেই হবে “ঢেউ উঠছে কারা টুটছে, আলো ফুটছে, প্রাণ জাগছে,জাগছে জাগছে।”









