১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নদীয়া জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত সেনপুর শ্যামনগর পাড়ায় রাবেয়া বিবির মরণোত্তর নেত্রদানকে কেন্দ্র করে যে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের বিস্মিত করেছে। রাবেয়ার সন্তান তার মায়ের ইচ্ছাকে পূর্ণ মর্যাদা দিতে চরম শোকের সময় রাবেয়ার নেত্রদান বিষয়টি সম্পূর্ণ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তারপরই স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীরা অঙ্গ বিক্রির অভিযোগ তুলে ঐ শোকসন্তপ্ত পরিবারের বাড়িতে চড়াও হয় ও স্থানীয় থানায় পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। পুলিশও অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে ঐ পরিবারের তিন মহিলা সদস্য সমেত মোট পাঁচজনকে গ্ৰেপ্তার করে ও তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ধারায় অভিযোগ নথিভুক্ত করে যে আদালত প্রাথমিক ভাবে তাদের জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়। আমরা আশ্চর্যের সঙ্গে দেখলাম যে আক্রমণকারী দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার হলো না, হল আক্রান্তরা। পুলিশ প্রশাসনের এই ভূমিকা একদিকে যেমন দুষ্কৃতকারীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও উৎসাহ যোগায় তেমনই অন্যদিকে কুসংস্কারকে লালিত পালিত করার সচেতন প্রয়াসকে সমর্থন করে, নেত্রদানের মত মহতী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরিচয় দেয়।
জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স পুলিশ প্রশাসনের এই ভূমিকাকে নিন্দা করে, ঘৃণা করে। আমরা সমস্ত বিজ্ঞান মনস্ক কুসংস্কারমুক্ত মানুষ জন ও সংগঠনকে প্রতিবাদে সামিল হতে আহ্বান জানাই। সকল প্রতিবাদীর কন্ঠে ধ্বনিত হোক ঐ পরিবারের আটক সকলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বাধ্য করার আওয়াজ।
এ রাজ্যের প্রায় প্রতিটি দৈনিক সংবাদপত্রে বিষয়টি বিভিন্ন শিরোনামে পরিবেশিত হয়েছে । আমরা আশা করছি পরবর্তী সময়ে এই ঘটনার প্রকৃত তথ্যবহুল পরম্পরা প্রকাশিত হবে ও নাগরিকরা সঠিক ভাবে প্রশাসনের ও বিচারালয়ের ভূমিকা বিষয়ে জানতে পারবেন।











