পাড়ার ক্লাবের যেসব ছেলেপুলে কারণে-অকারণে উৎসবে-পার্বণে সতেজে বক্স বাজিয়ে মদ্যপান করে হুল্লোড় করে, তাদের প্রতি শহুরে উচ্চমধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্তদের মধ্যে একধরনের উন্নাসিকতা ও অবজ্ঞার বোধ লক্ষ করা যায়।
অথচ শহরের যেকোনও উচ্চবিত্ত আবাসনে যান। গিয়ে দেখুন উৎসবের দিনে তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চ-উপার্জনশালী লোকজন ঠিক কী করে!
একেবারে সকালবেলা থেকেই মাইক বাজতে শুরু করে। শুরুতে রবীন্দ্রসঙ্গীত, বেলা বাড়তে কিশোরের বাংলা গান – আরেকটু পরে বাপ্পি লাহিড়ী হয়ে বালম পিচকারি – মাঝেমধ্যে বসন্ত এসে গেছে।
আর হ্যাঁ, সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপারও থাকে। মাইকে হিন্দি গান বাজিয়ে টিভি-তে যেমন দেখা যায়, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সেরকম নাচ। মাঝেমধ্যে হাউজিং-এর কোনও মহিলা – যাঁরা এসব দিনে মাইকটি কোলের ছেলের মতো আগলে রাখেন, কিছুতেই হাতছাড়া করেন না – তাঁর সুতীব্র কাংস্যকণ্ঠে চীৎকার, আমরা কিন্তু খুব জোরে হাততালি শুনতে চাই! হাততালি তিনি শুনতে পেলেন কিনা সেটা বড় কথা নয় – তাঁর কণ্ঠটি সকলে শুনতে পেলো, এটিই আসল পাওয়া।
এবং এসবের সঙ্গে সঙ্গে, উৎসবের সন্ধেবেলা – দোল ইত্যাদির ক্ষেত্রে দিনের বেলাতেও, দুপুর গড়াতে না গড়াতেই – প্রকাশ্যে পান না হোক, নিজ নিজ আবাসে পান করে এসে মাতলামো প্রকাশ্যেই।
তো, তথাকথিত শিক্ষা ও উচ্চ-উপার্জনশীল চাকুরি বলতে কী?
তারস্বরে মাইক বাজিয়ে মাতলামো করার জন্য কুড়ি টাকার পাউচের পরিবর্তে দামী বোতল কেনার স্বাধীনতা। ব্যাস, এইটুকুই। এর বেশী আর কিচ্ছু না।
রাজ্যের সরকার ও সরকারি দল বুদ্ধিমান। তাঁরাও দেখেছেন, এমন শিক্ষা থাকলেই বা কী, গেলেই বা কী! বাহুল্য বোধে তুলে দিলে ক্ষতি তো কিছু নেই। কেননা, যাঁরা বঞ্চিত হলেন, তাঁরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন – একবার কুড়ি টাকার পাউচে অভ্যেস করে নিতে পারলে, শিক্ষাদীক্ষা না পেলে আলাদা করে বিশেষ কিছুই মিস করার নেই। আর এখনও অব্দি, পাউচের জোগানে কোনও ঘাটতি নেই।










