গত দুটো সন্ধেতে গোটা শহরটা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো,
ঠিক যেন কেউ ‘চাক্কা জ্যাম’ ডেকেছিলো,
রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ,
প্রতিটি মোড়ে ‘নাকাবন্দি’,
ড্রোন থেকে দেখলে রিকশা-বাইক-উবের-প্রাইভেট-ছোটাহাতি-বাসের অবস্থানে মনে হতো
অদৃশ্য দৈত্যরা যেন ‘লেগো’ র খেলনা বানিয়ে
রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।
গত দুটো গোটা সন্ধ্যা জুড়ে,
অফিস-ফেরতা ঘেমো চাকুরিজীবিরা বিরক্তমুখে মোবাইলে ফের মুখ ডোবালেন,
ডেলিভারি বাইকগুলো বিরস মুখে সময়ে পৌঁছানোর ইনসেন্টিভ খোয়ালেন,
স্কুলের পরে ট্যিউশনি সেরে ফেরা ধ্বস্ত বাচ্চার মা’য়েরা ফোনে কা’কে যেন ঝাড়লেন,
রিকশার ভাড়া মিটিয়ে নেমে হাঁটা লাগালেন বেশ
কিছু মানুষ,
কেউ সোচ্চারে , কেউ ফিসফিসে আর অনেক বেশি লোক মগজে গালাগালি দিলেন,
সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কেউ টুক করে সেরে ফেললেন কাছের দোকানে গেরস্থালির টুকটাক কেনাকাটি,
কিন্তু কেউ .. একজনও কেউ ব্যারিকেড ঝাঁকিয়ে বললেন না, দেরি হচ্ছে, বাড়ি যাবো।
কারণ সকলেই জানেন,
সেই দাবি করে কোনো লাভ নেই।
জন-গণেশের কাছে যখনই আসেন কোনো ভোটের ভিখারি,
নাগরিক তাতে ভুগবেই।
বাধ্যত শুনতে হবে তাঁরা কত ভালো,
বাকিরা ঠিক কতটা খারাপ,
দেখতে হবে অলিগলি ভরে গেলো প্রতীক-নিশানে,
ভোটের পরে যাদের কেউ সরাতে হবে না,
মাঝ-গন্তব্যে আটকে নিজের ভাগ্যকে শাপ-শাপান্ত করা ছাড়া তাঁদের কোনো উপায় নেই।
আজ সকালে দেখলাম চার পাঁচজন শ্রমিক তিনতলা সমান সেই ভোট-ভিক্ষা-প্যান্ডেলের
সবচেয়ে উঁচু বিমগুলোর নাটবল্টু তার ওপরেই বসে খুলছেন,
না আছে কোনো নিরাপত্তা-বেল্ট,
না কাছাকাছি ধরবার মতো কিছু,
কোনোরকমে ভারসাম্য সামলে তাঁরা নিজেদের কাজ করে চলেছেন,
ঘরের চুল্লিটি যাতে জ্বলা থাকে,
তার জন্য চল্লিশ-ছুঁই গরমে খোলা আকাশের নিচে তাদের সেই শ্রম,
এতটুকু ফসকালে সোজা এসে পড়বেন নিচে একদম..
নেতারা কি আসবেন তখন?
ভোটটা পেরিয়ে গেলে তার চান্স কম,
দৈবাৎ বেঁচে গেলে একলা বইতে হবে তাবত জখম।
ভোটারের ভাগ্যও এর থেকে নয় কিছু আলাদা রকম।











