একাডেমীর এক ঘর ভর্তি মানুষ অসম্ভব যন্ত্রণা, কান্না আর নাছোড় প্রতিবাদী মন নিয়ে অভয়া মঞ্চ গড়ে তুলেছিল। তারপর ১৮ মাস পেরিয়ে গেছে। কেমন যেন এটা আমার নিজের কাজ নিজের জন্য করছি, এই অনুভবে, স্বাভাবিক এত দিনের জীবনযাত্রার বাইরে ছুটে চলেছি আমরা। বিচার পেতে হবে। অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেকে, ট্রান্সফার, হুমকি, থানা পুলিশ, নানা রকম অশান্তি, পারিবারিক বিবাদ, তাও থেমে যাননি। অনেকগুলি দাবি নিয়ে এই মঞ্চ চলছে।
আর জি করের আমাদের মেয়ের বিচারের দাবির সাথে সাথে যেখানে যে মেয়ে নির্যাতিতা হয়েছে, সাধ্যমতো ছুটে গেছেন যে পেরেছেন। আর কোনো অভয়ার কান্না, চিৎকার আমরা শুনতে চাইনা।
আমাদের মতের অমিল থাকতে পারে অনেক জায়গায়, আমরা ঝগড়া করি, আবার অনুতাপ করি, ক্ষমা চাই, ভালবাসি, ভুল ভ্রান্তি, না পারা, কিছু পারা, সব আছে। এই সব কিছুর ওপরে আছে আমাদের একটা স্বপ্ন দেখা। একটা সুন্দর পৃথিবীর। যা আমরা সবাই দেখি। আমাদের শিশু কন্যারা হেসে খেলে বড় হোক, আমাদের দুর্ভাগা এই দেশে, পোড়া এই রাজ্যে। অভয়ার ন্যায়বিচারের সাথে সাথে সব অন্যায়ের অবসান হোক।
আমরা বলেছিলাম শেষ পর্যন্ত লড়ব। তারই এক ধাপ এই ‘দিল্লী চলো’।অনেকে যেতে পারছি, অনেকে পারছিনা। কিন্তু আমরা নিশ্চিত সকলেই এক সাথে আছি এই লড়াইতে। কতরকম ভাবে কত জন চেষ্টা করছেন ,কতটুকু সহায়তা করা যায়। কতজনের মন খারাপ না যেতে পারার জন্য। সকলের গলা এক হয়ে আমরা দাবি তুলবো রাজধানীর বুকে We deserve justice। সীমিত সামর্থ্য, আর অনেক খানি স্পর্ধায় এই স্মরণীয় আন্দোলনের শরিক আমরা। দীর্ঘস্থায়ী এই লড়াইতে আমাদের মেয়েদের জয় পতাকা বয়ে নিয়ে যাবোই আমরা শেষ পর্যন্ত। মৃত্যুর চেয়ে তা অনেক বড়।








