২১ মার্চ, ২০২৬
যে হাসপাতাল জীবন দান করে, তাই হয়ে উঠেছে মৃত্যুপুরী। জন্মদিনের পায়েসের বাটি পড়ে রইলো ঘরে আর বাড়ির জোয়ান ছেলেটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে, খুন হয়ে গেলো। আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটের মধ্যে প্রাণ হারালেন অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩বছরের শিশুপুত্র দেখলো বাবার দেহ পিষে যাচ্ছে লিফটের গেটের মাঝখানে আর দেওয়ালে। অরূপবাবুর স্ত্রীর গায়ে তার স্বামীর রক্ত ঝরছে। দু ঘন্টা চিৎকার করেও কেউ এলো না বাঁচাতে। প্রাণটা চলে গেলো। বলা হচ্ছে গাফিলতি ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করছি এর জবাব কে দেবেন? আর জি কর আন্দোলনের সময় বলেছিলেন হাসপাতালে সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। অরূপবাবুর মৃত্যু একটি খুনের ঘটনা।লিফট ম্যান কেন থাকলেন না? বিপর্যয় মোকাবিলার কি ব্যবস্থা ছিল? এতক্ষণ সময় চলে গেল, দমকল বাহিনী এলো না কেন? এই সবগুলি বিষয়ে নজরদারি করার কথা কার? মাথায় কে বসে আছেন? তার বা তাদের কি শাস্তি হবে? ছোট্ট শিশুটি তার বাবাকে আর কোনোদিন দেখবে না, এই ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে? যে দুর্নীতি, অব্যবস্থার কথা আমরা বারবার বলে এসেছি এ তারই ফল। কেবলমাত্র সন্দীপ ঘোষ জেলে গেলেই সমাধান হবে না। মাথাকে ধরতে হবে। জরুরী পরিষেবার লিফট এভাবে বিকল হয় কি করে? সারানো হয়নি কেন? তাহলে কি সেখানেও টাকাপয়সার লেনদেন ছিল? এই সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে, কারণ তাকেই এই সব দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণ।
একই দিনে পিজি হাসপাতালে একজন সাফাইকর্মী ইমরান সর্দারের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গেল হাসপাতালের একটি ঘরে।অস্বাভাবিক মৃত্যু। এ হচ্ছেটা কি? এই ব্যর্থ প্রশাসনের কাছে আমরা জানতে চাই আর কত প্রাণ গেলে হবে এই কুশাসনের অবসান?
অরূপবাবুর পরিবার যেন বিচার পান তা নিশ্চিত করতে হবে। একজনের গাফিলতিতে এত বড় ঘটনা ঘটেনি। সঞ্জয় রাইয়ের মতো একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে, এই ঘটনার পেছনে থাকা বড় বড় দায়িত্বপ্রাপ্তদের আড়াল করা চলবে না। এই দুর্নীতির চূড়োয় যিনি বা যারা বসে আছেন তাদের চরম শাস্তি দিতে হবে।
অভয়া থেকে অরূপবাবু, না জানি আরও কত হতভাগ্যের আর্ত চিৎকার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এই হাসপাতালের দেওয়ালে দেওয়ালে। যাদের জন্য এই নিরীহ মানুষদের এই পরিণতি, আজ না হোক কাল জনগণের বিচারালয়ে তাদের অপরাধীর জন্য নির্দিষ্ট কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।









