পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ মাস্তান বলেছে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠিয়ে দেবে। আমাদের মানে পশ্চিম বঙ্গবাসীদের অবশ্য এ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এখানে জনগণ কথায় কথায় যে ভাবে প্রস্তর নিক্ষেপ করে, প্রস্তর যুগেও মানুষ এ বিষয়ে এতটা দক্ষ ছিল বলে মনে হয় না। প্রস্তর যুগে কি এত প্রস্তর উপলব্ধ ছিল? কে জানে?
একটা জিনিস আমার মাথায় ঢোকে না, কেউ না হয় পিছন থেকে উস্কানি দিয়েছে, কিন্তু উস্কানি দিলেই নাচতে হবে? স্বাভাবিক বোধবুদ্ধি কাজ না করলে তো প্রস্তর যুগের মানুষের থেকেও খারাপ অবস্থা ধরে নিতে হবে। সে যুগে তো মানুষ স্বাভাবিক বুদ্ধির জোরেই বেঁচে থাকতো।
যতদিন যাচ্ছে তত পুরো হতবাক হয়ে যাচ্ছি। রাজ্যের শাসকদল ঠিক কী চাইছে? SIR এ এত মানুষের হয়রানির জন্য কি পুরোটাই ইলেকশন কমিশন দায়ী? না, তাদের নানা অস্পষ্ট নির্দেশ ও অদ্ভুত সব criteria এর পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল?
কে কাকে খেলাচ্ছে সেটা পুরো পরিষ্কার নয়, তবে এটা বোঝা যাচ্ছে এ অতি ভয়ঙ্কর খেলা। শুধু ধন-প্রাণ নিয়ে নয়, মানুষের সামাজিক অস্তিত্ব বা identity নিয়েই চলছে মারাত্মক দড়ি টানাটানির খেলা।
প্রশ্নগুলো তো পরপর আসে—
অন্য কোনো রাজ্যে কি বিচারপতি দিয়ে adjucated cases এর নিষ্পত্তি হয়েছে? এই ব্যবস্থা হলো কার বিশেষ উদ্যোগে, সুপ্রিম কোর্টে কার নাটকীয় উপস্থিতিতে? বিচারকরা তো যা data upload করা হয়েছে, তার উপরেই সিদ্ধান্ত নেবেন। Upload কারা করলো আর কীভাবে করলো? সেখানেই ইচ্ছাকৃত ভাবে অপ্রতুল তথ্য দেওয়া হয়নি তো? এটা জানার তো কোনো উপায় নেই যে মানুষ যে তথ্যগুলো কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে, সেগুলো সঠিক ভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি হয়নি। নাম বাদ পড়ার জন্য কারণ দেখানোর আদৌ কোনো ব্যবস্থা আছে কি?
তাহলে, প্রস্তর নিক্ষেপের টার্গেট বা লক্ষ্যবস্তু হিসাবে বিচারকদেরই বেছে নেওয়ার যুক্তিটা কোথায়? ইচ্ছে করলেই বিচারকরা adjucated সমস্ত নামকে বৈধ ভোটার হিসাবে দেখিয়ে দিতে পারেন? তাহলে, তাদের আটকে রেখে বা ঘেরাও করে কোন্ সমস্যার সমাধান হবে? কী মনে হয়, মানুষ এত সরল/বোকা যে কিছুই বোঝেনা? এতো পুরাতন প্রস্তর যুগের মানুষও বুঝতো!!
আসলে, ক্ষমতা ছেড়ে যেতে কেউই চায় না। তা যত না দলগত, তার থেকে অনেক বেশি ব্যক্তিগত। তার জন্য যা যা করা দরকার, সবই করা যায়, কোনো অসুবিধা নেই। সংবিধানেও নিশ্চয়ই তার scope আছে। নাহলে, চালিয়ে যাচ্ছে কী করে?!
আসলে, সংবিধান যারা রচনা করেছিলেন (শুধু আমাদের দেশে নয়) তাদের মাথাতেই ছিল না, পরের যুগে এ রকম সব মারাত্মক elementরা ক্ষমতা দখল করে বসবে! Simply ভাবতেই পারেনি। কী আর করা যাবে? সংশোধনের নাম করে এখন তো আরও ভয়ঙ্কর সব কাণ্ড কারখানা চলছে।
গণতন্ত্রের নামে যা চলছে তা দেখে সত্যিই হৃদস্পন্দন বন্ধ হবার জোগাড়!!
ভালো করে ভেবে দেখলে মনে হয়, প্রস্তর যুগই অনেক ভালো সময় ছিল! সকলের কাজ ছিল, খাদ্যে সমান অধিকার ছিল, কেউই বাড়তি অস্ত্রবলে বলীয়ান ছিল না। দেশ রাষ্ট্র ইত্যাদির কৃত্রিম গণ্ডি ছিল না। শিক্ষাও ছিল, তবে প্রথাগত নয়, জীবন নির্বাহ করার শিক্ষা।থাকার জন্য খোলা প্রান্তর বা গুহা ছিল (কাশ্মীরে বুরজাহোমে আবার দেখেছি মাটির মধ্যে গর্ত করে থাকার ব্যবস্থা, ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য)..
বেঁচে থাকার জন্য আর কী চাই?
তাহলে, আর অসুবিধা কী? ইরানের আগেই আমরা পৌঁছে যাচ্ছি, ‘মন চলো নিজ নিকেতনে’, মানে প্রস্তর যুগে……….










