শমীকবাবু ট্রান্সফার উইন্ডো খুললেও খুলতে পারেন, এই বার্তা রটে যাবার পর বিগত দিনকয়েকে দিকে দিকে ‘ভালো তৃণমূল’-এর ঢল নেমেছে।
দল হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি কী করবে না করবে, সে তাঁদের একান্ত দলীয় সিদ্ধান্ত – তা নিয়ে চাট্টি ভালো-মন্দ কথা অথবা কোনও শ্লেষাত্মক মন্তব্য, এসবের কোনও কিছুই আমার বলার নেই, সেই অর্থে বলার অধিকারও নেই।
আমার একটিই কথা – যেটি নব-নির্বাচিত সরকারের প্রতি (কেননা, যে দলই পরিচালনা করুক, সরকার মাত্রেই সবার)।
বাসে-ট্রামে পকেটমার ধরা পড়লে যে দল পকেটমারটিকে মারতে মারতে নামিয়ে নিয়ে চলে যায় – কেউ কেউ বলে, তারা নাকি পকেটমারের দলেরই লোক। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ‘চোর চোর’ বলে দৌড়াতে থাকা দলের ভিড়ে চোর স্বয়ং মিশে গিয়ে পিঠটান দেয়, এরকমও শুনেছি। গত দেড় দশক যাবত মেরুদণ্ডহীন ও শাসকদলের তল্পিবাহক হিসেবে সুপরিচিত পুলিশ যেভাবে আচমকা ‘দাবাং’-অবতারে আবির্ভূত হয়েছে, তাতে এসব কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
পুলিশ দুষ্কৃতীদের হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাচ্ছে – এই দৃশ্য জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্যে যতখানি মানানসই, আইনের শাসনের বিজ্ঞাপন হিসেবে ততখানি নয়। কিন্তু নাটকীয় দৃশ্য দেখতে গিয়ে কয়েকটা প্রশ্ন ভুলে গেলে তো চলবে না। এই দুষ্কৃতীদের বাড়তে দিয়েছিল কারা? অপরাধ করলেও ধরেনি কে? হাজার অভিযোগ থাকলেও সেই অভিযোগে কান দেয়নি কে? আজ যিনি দড়ি পরাচ্ছেন, তিনিই আগের মাসে উপরোক্ত দুষ্কৃতীর ল্যাজ ধরে ঘুরছিলেন না তো?
বিগত দেড় দশকের অপশাসনের পেছনে তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের (দুষ্কৃতী এবং নেতা – তৃণমূল দলে দুইয়ের ফারাক করা কঠিন, যদিও এঁদেরই কেউ কেউ হয়ত আগামীদিনে ‘ভালো তৃণমূল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবেন) ভূমিকা যতখানি – এক শ্রেণীর পুলিশ ও সরকারি আধিকারিক/আমলার ভূমিকা তার চাইতে কম নয়। আমজনতার কাছে গুণ্ডা-বদমাইশের হুমকি-চমকানির চাইতেও, হয়ত, বেশী আতঙ্কের বিষয় ভুয়ো মামলা, সরকারি ধমকচমক ও তজ্জনিত অকারণ হয়রানি – এবং অবস্থা যা দাঁড়িয়েছিল, তাতে সকলেই একথা জানতেন যে শাসকদলের নেতা/কর্মী/আশ্রিত-গুণ্ডাদের হাতে হুমকি কিংবা মারধর খেতে হলেও পুলিশ বা সরকারের দ্বারস্থ হওয়া বাতুলতা মাত্র – এই সব অনাচারের পেছনে তো পুলিশ ও আধিকারিকরাই ছিলেন। এতগুলো বছর ধরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এমন সুচারুভাবে চালিয়ে যাওয়া – শাক নিয়ে নিয়মিত মাছ ঢাকতে পারা – আমলা কিংবা পুলিশের অকুণ্ঠ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল?
এই পুলিশ/আমলা/আধিকারিকদের হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হোক, এমনটা অবশ্যই চাই না – কিন্তু এঁদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তো? নাকি আস্তে আস্তে এঁরাও ‘ভালো পুলিশ’ ‘ভালো আমলা’ হয়ে যাবেন?











