৭ এপ্রিল ২০২৬
আজকের দিনটি আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গভীর বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। প্রায় ৩২ লক্ষ ৬২ হাজার মানুষ আজ কার্যত সমস্ত সংসদীয় দলের কাছে ব্রাত্য ও উপেক্ষিত হয়ে পড়েছেন। এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে রয়েছেন বিচারাধীন অবস্থায় থাকা ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষ, পাশাপাশি সেই ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার নাগরিক, যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে সরাসরি মুছে ফেলা হয়েছে। নাগরিকত্বের এই সংকট তাঁদের অস্তিত্বকেই অনিশ্চয়তার এক গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মিডিয়ার ভূমিকা। প্রকৃত ভুক্তভোগীদের এই সংখ্যার সঙ্গে মৃত, নিখোঁজ, স্থানান্তরিত বা একাধিক স্থানে নাম থাকার মতো স্বাভাবিক কারণে বাতিল হওয়া আরও ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার নামকে একত্রে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মোট সংখ্যা ৯০ লক্ষ ৮০ হাজারে পৌঁছালেও, এই উপস্থাপন ভয়াবহ বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। কারণ অন্যান্য বড় রাজ্যেও স্বাভাবিক কারণে নাম বাতিলের হার কম নয়; কিন্তু সেই প্রেক্ষিতকে উপেক্ষা করে পশ্চিমবঙ্গের এই বিশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে এক করে দেখানো হলে প্রকৃত সংকটের তীব্রতা আড়াল হয়ে যায়। এই বিশাল পরিসংখ্যানের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সেই মানুষগুলোর পরিচয়, যাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে বা যাঁরা এখনও অনিশ্চিত বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোথাও এই মাত্রায়—৩২ লক্ষ ৬২ হাজার—ডিলিটেড বা বিচারাধীন থাকা ভোটারের নজির নেই।

পরিসংখ্যানের এই গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে আসল সংগ্রাম আজ ফিকে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একজন সচেতন সহনাগরিক হিসেবে আমি অঙ্গীকার করছি—রাষ্ট্র ও রাজনীতির অবহেলার শিকার এই ৩২ লক্ষ ৬২ হাজার মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে আমি আপ্রাণ পাশে থাকব। ভিটেমাটি ও পরিচয়ের এই গভীর সংকটে তাঁদের ন্যায্য ও মানবিক অধিকার ফিরিয়ে আনা—এটাই হোক আমাদের আগামীর প্রধান লক্ষ্য।
#এই ৩২ লক্ষ ৬২ হাজারের মত ডিলিটেড ভোটার পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর কোথাও নেই।
# মৃত, নিখোঁজ, স্থানান্তরিত সব জায়গায় আছে যেমন ওপরের সারণীতে দেখা যাচ্ছে।









