দুর্গাপুজোয় রাজ্য জুড়ে একটার পর একটা বামদের বুক স্টলে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ দেখে মনে হচ্ছে বাঙালি নিজেকে খুবই অসহায়, নিরুপায়, অভাগা, ভীত সন্ত্রস্ত বলে মনে করছেন। তাই কি??
না এভাবে বলতে ইচ্ছে করছে না। বরং এটাই বলা দরকার যে স্টলে বসে মার খাওয়া আর ভাঙচুর হতে দেখার সময় পেরিয়ে গেছে। শমীক ভট্টাচার্যের সুললিত মিথ্যে আর হজম হচ্ছে না! হিন্দু ধর্মের নামে বইয়ের স্টল ভাঙচুর করছে যাঁরা তারা নাকি কেউ বিজেপি নন। একথা শোনার পর তাহলে একটা প্রশ্ন, ওই দুর্বৃত্তরা কি আদৌ হিন্দু ? হিন্দু ধর্মের কোন বইতে লেখা আছে যে বই সমাজের শত্রু, তাই এভাবে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে রাস্তায় ফেলে দিতে বলা হয়েছে। তাই ওরা তো বিজেপি নয় —-শুধু এই কথা বলে শমীকবাবু ভাবছেন পার পাবেন !!
কিন্তু কৈফিয়ত তো দিতে হবে রাজ্যের বিজেপি সরকারকেই। ভাঙচুর করল যাঁরা তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে সাজা হবে? সেই ক্ষমতা রাখেন শুভেন্দু অধিকারী । এই রাজ্যে একটার পর একটা বইয়ের স্টলে হামলা চালানো ছেলেগুলোকে তিনি তাহলে গ্রেপ্তার করতে পারছেন ? যদি ক্ষমতা রাখেন তাহলে করে দেখান, শুধুই ,”আমাদের দলের ছেলে নয় ” বলে ক্ষমতায় থেকে আপনারা দায় এড়াতে পারেন না।
অন্য দলের দুষ্কৃতী হলেও তো হা তাঁদের ধরার দায়িত্ব আপনাদের, কারণ রাজ্যের সরকার আপনাদের। এরা বিজেপি নয় বলে শমীকবাবু দায় এড়াতে চাইছেন, কিন্তু শুভেন্দুবাবু আপনি তো দায় এড়াতে পারেন না কারণ আপনিই পুলিশ মন্ত্রী,আর প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, কারণ? আপনারই অঘোষিত নির্দেশ?
হ্যাঁ, চার মাসের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন।গণতন্ত্র হত্যা করছেন প্রতিদিন। বিরোধী মত, বক্তব্য ও কণ্ঠ রোধ করতে রাজ্যময় একদল দলীয় গুন্ডা বাজারে ছেড়েছেন।তাঁরা বই ছুঁড়ে ফেলছে রাস্তায়, বই ছিঁড়ে উৎসব করছে! চমৎকার শুভেন্দুবাবু,এটাই আপনার নিজের এবং আপনার দল ও সরকারের আসল রূপ, গোটা দেশ, এমনকি গোটা বিশ্ব দেখছে।যে দুর্গাপূজার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বাংলার দুর্গোৎসব ইউনেস্কো সম্মান ও স্বীকৃতি আদায় করে ফেলেছে তাকে ধুলোয় মেশাবার কৃতিত্ব আপনি অর্জন করতে পেরেছেন! মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ!
বুলডোজার দিয়ে যাদবপুরে বামেদের স্টল ভাঙতে এগিয়ে আসছে পুলিশ। হে পুলিশ মন্ত্রী, আপনার রাজ্যে চলছে বই নিধন। কর্পোরেশনের গাড়ি নিয়ে এসে বই তুলে নিয়ে যাওয়ার যে অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা দেখে মনে পড়ে যাচ্ছে হিটলারের কথা। একমাত্র তিনিই গোটা বিশ্বে এভাবে বই ধ্বংস করে আনন্দ পেতেন। রাজনীতি একে বলে না এটা এক মানসিক বিকলাঙ্গতা যারা বইকে ঘৃণা করে, কারণ তারা বইতে ভয় পায়, তাই বই ধ্বংস করে। কারণ এরা চায় মানুষকে অন্ধত্বের মধ্যে রেখে নিজেদের শাসন চাপিয়ে দিতে। মানুষ বই পড়লে বেশি জানবে,সরকারকে বেশি প্রশ্ন করবে । তাহলে আর রাষ্ট্রবাদ টিকবে কি করে, আসলে রাষ্ট্রবাদ তো ফ্যাসিবাদের ভারতীয় সংস্করণ! তাই শুভেন্দুও হিটলারের মতোই এখন বইকেই শত্রু বলে মনে করছেন।
দুর্গোৎসবে বামেদের বুক স্টলে আক্রমণ ঘটিয়ে হিন্দুত্ববাদীরা বাংলার ইতিহাসে তাঁদের নাম লিখে রাখছেন।শত বছর ধরে বাঙালি মনে রাখবে।
এরপরেও কিছু বাঙালি টাকা আর ক্ষমতার লোভে এদেরকেই সমর্থন করছেন সমাজ মাধ্যমে,একশ্রেণির বিশ্বাসঘাতক বাঙালির এটাও ইতিহাস!তবে তাদের উপেক্ষা করেই দিকে দিকে এরপর গড়ে উঠবে সম্মিলিত প্রতিরোধ।বিজেপিকে ধন্যবাদ, শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন বাঙালিকে বোঝাতে পেরেছে যে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে প্রতিরোধ গড়ে তোলাটাই এই সময়ে বিকল্প পথ। তাই এখন চাই একতা। একতাই একমাত্র ধর্ম যা মানুষকে বাঁচতে শেখায় ।











