ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ সম্পাদিত “অভয়া আন্দোলন দ্রোহের দলিল” বা ডক্টরস ডায়লগ সংকলন এক কথায় এই দশকের প্রতিষ্ঠান বিরোধী গণ আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা বা দুর্নীতিপরায়ণ শাসকের জিঘাংসার এক অভিনব ডি সেক্সনের দলিল।আন্দোলনের জোয়ার ভাটার গতিপথে আলোড়ন সৃষ্টিকারী অভযার শারীরিক পীড়ন ও হত্যা এক দৃঢ় সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
ডাঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য, ডাঃ বিষাণ বসু, ডাঃ বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাঃ পার্থ ভট্টাচার্য, ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত, পিয়ালী দে বিশ্বাস, ডাঃ প্রলয় বসু, ডাঃ অমিত পান, ডাঃ সুকন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপ্পাদিত্য রায় প্রভৃতি জুনিয়র সিনিয়র ডাক্তার/ স্বাস্থ্য কর্মী/ সমাজ সংস্কারক চিন্তাশীল ব্যক্তিরা একদিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ন্যায় বিচারের দাবী; অন্যদিকে বাস্তু ঘুঘুদের অসততা, থ্রেট কালচার সৃষ্টির ধারাবাহিকতা, সিন্ডিকেট গড়ে স্বাস্থ্যের মত মানবিক পরিষেবাকে প্রহসনে পরিণত করার ধারাবাহিক উদ্যোগের কাটাছেঁড়া বিশ্লেষণ। অন্যদিকে, আন্দোলনরত ডাক্তারদের প্রতি ভুয়ো অভিযোগ এনে সাধারণ মানুষকে তাতিয়ে তোলার ঘৃণ্য ভণ্ডামি।
জুনিয়র সিনিয়র ডাক্তাররা RG Kar আন্দোলনকে মানুষের আন্দোলন হয়ে উঠতে অনুঘটকের কাজ করেছেন। তাঁরা প্রথমত ডাক্তার তাই আন্দোলনে থেকেও শত বাধার মধ্যে পরিষেবা অব্যাহত রেখেছেন শহর,গ্রাম গঞ্জে।
দফায় দফায় অবস্থান/ অবরোধ/ অনশন/ মিছিল/পদযাত্রায় প্রশাসন ভয় পেয়েছে। ওদের সততার প্রশ্ন তুলে উস্কাতে চেয়েছে মানুষকে… বারবার ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ দেখেছে, রিক্সাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, স্কুল ছাত্র, অশীতিপর বৃদ্ধ বৃদ্ধা এগিয়ে এসে তুলে দিয়েছে তাঁদের সারা দিনের সঞ্চয়।
মশাল হাতে রাত দখলের মুখ্য ভূমিকায় ছিল শহর গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী।
একথাও স্পষ্ট ব্যক্ত হয়েছে এখানে থামলে হবে না। এক শ্রেণির সাধারণ মানুষ বিচারের নামে টালবাহানায় আশাহত হয়েছেন। তারমধ্যে শাসকের অনুগ্রহধন্য ডাক্তারেরা আন্দোলন ভাঙার অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছে… সেই হুমকির পটভূমি।
৮০ টি সংগঠনের মিলিত জোট “অভয়া মঞ্চ” নির্দ্বিধায় ঘোষণা করেছেন দলীয় রাজনীতি বর্জিত তাঁদের উদার গণতান্ত্রিক মানবতার রাজনীতি।
দ্রোহের দলিল একবিংশ শতাব্দীর গণ আন্দোলনের মুক্তির আকুলতার এক নির্ভীক দলিল।
১১/৪/২৬










