সত্যি কথা বলতে কাউন্সিলের নির্বাচন নিয়ে রাজ্যের চিকিৎসকদের বড় অংশ খুব একটা খোঁজখবর রাখত বলে মনে হয় না। নির্বাচন কখন হয় কারা পরিচালনা করে, কিভাবে ভোট হয় বা আদৌ হয় কিনা এসব নিয়ে জানার বা বোঝার খুব একটা আগ্ৰহ ছিল কি! যারা একটু উৎসাহী তারা অবশ্যই খোঁজ খবর নিয়ে নির্বাচনে পদপ্রার্থী হত। তবে রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বা তাদের সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন সদস্য নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এমনটা ঘটেনি। আরও খোলসা করে বললে বলা যায় তার অন্যথা হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে রহস্য টা কোথায়?
কোন রহস্য নেই। মেডিক্যাল কাউন্সিলের আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার সমস্ত ক্ষমতাটা হল বিদায়ী কাউন্সিলের। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? আরও একটু চেষ্টা করি । ধরা যাক পশ্চিমবঙ্গের সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত দায়িত্ব ছিল বিদায়ী রাজ্য সরকারের উপর। নির্বাচন কমিশনার থাকতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও তদারকির দায়িত্বে ঐ সময়ের বিধায়করা। আইনশৃঙ্খলার সমস্ত ক্ষমতা রাজ্য পুলিশপ্রসাশনের। এবার কি মাথাটা তাজ্জিম -মাজ্জিম করছে ? কিন্তু ওয়েষ্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল এর নিয়মকানুন টা এমনই। শেষ সেই কবে ১৯৮০ সালে পুরানো কাউন্সিল আইনের ঝারপোঁছ করে সেই সময়ের কাউন্সিলের কেষ্টবিষ্টু রা নিজেদের রুচি অনুযায়ী সাজুগুজু করিয়ে সেই সময়ের সরকারের সলাজ সম্মতি নিয়ে গাঁটছড়া বেঁধে দিয়েছিলেন।
এবার যদি কোন দুর্মুখ বলে যে সে সময় ক্ষমতায় থাকা দলটা ভাবতেই পারত না তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় তাহলে কি খুব ভুল হবে। পরে ২০১১ তে রাজ্যে যে দল ক্ষমতায় এলো তারা এরকম হাতে গরম পরম সুস্বাদু ও খুশবাই ওয়ালা খাবার টা কোন আক্কেলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার আহাম্মকি টা করে।
এই দলটাও ভাবল আমরাই তো ক্ষমতায় আছি, থাকব।তাই সযত্নে সব আইনকানুন অপরিবর্তিত রেখে ক্ষমতায় থাকার সুখ ভোগ ও ঐশ্বর্য বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করল। তাদের নিজস্ব স্বভাব ও চরিত্র কে অক্ষুণ্ণ রাখতে ও আরও অধঃপাতে যাওয়ার জন্য যা যা করনীয় করে গেল দেড় দশক ধরে।
ঐ কহানির মাদকতায় অনেকেই বিস্মৃত হয়ে গেছে এই কাউন্সিলের আইনকানুন টা তামাদি ও অপ্রাসঙ্গিক অকেজো হয়ে গেছে। মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা,পঞ্জীকৃত চিকিৎসক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। সেজন্য ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। সেই অনুপাতে তার প্রতিনীধিত্ব বৃদ্ধি হয়নি।এল এম এফ এসব ভোটার অবলুপ্ত অথচ তাদের প্রতিনিধিত্বের অধিকার বর্তমান। মোদ্দা কথা কাউন্সিলের আইন কানুন অবয়ব কে আর প্রসাধনের আড়ালে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা আর কিছু করা যাবে না। অবিলম্বে এর আগাপাশতলা বদলে দিতে হবে। অনেক কিছু সংশোধন সংযোজন পরিমার্জন পরিবর্ধন অবশ্য করণীয়। এবং অবশ্যই সেই কাউন্সিল হবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিসরের স্বীকৃতি এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রগতি র জন্য উদাহরণ যোগ্য।










