Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

কতটা কাজ করলে তবে কর্মী হওয়া যায়?

Oplus_131072
Dr. Bishan Basu

Dr. Bishan Basu

Cancer specialist
My Other Posts
  • May 1, 2026
  • 8:12 am
  • No Comments
গত শতকের তিনের দশকে জন মেনার্ড কেইনস বলেছিলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি শিগগিরই এমন সুদিন এনে দেবে, যাতে মানুষকে সপ্তাহে পনের-ষোল ঘণ্টা কাজ করলেই চলবে।
ভদ্রলোক আশাবাদী প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, বলাই বাহুল্য। তো এসব ক্ষেত্রে যা হয়, আশা দুরাশায় পরিণত হতে সময় লাগে না। মোটামুটি ছয়ের দশক অবধি জনগণ ওর’ম স্বপ্নটপ্ন দেখতেন – সুদিন আসবে, প্রযুক্তির অগ্রগতি হাড়ভাঙা খাটুনির সময় কমিয়ে এনে স্বচ্ছল অবসরের সময় বাড়াতে সক্ষম হবে, সবাই মিলে এক সুন্দর ও সুখী পৃথিবী গড়ে তোলা যাবে – কিন্তু তার পর, মোটামুটি আট কি নয়ের দশক থেকেই হিসেবটা বদলে গেল। স্বচ্ছলতা ও সুখের সংজ্ঞা বদলে গেল। সুখ ও স্বচ্ছলতার পেছনে লাগাতার দৌড়-ই নিয়ম হয়ে দাঁড়াল। প্রযুক্তি এসে অনেক কাজই সহজ করে ফেলল বটে, কিন্তু কাজের সময় কমার পরিবর্তে তা যেন উত্তরোত্তর বেড়েই চলল – এবং তার চাইতেও বড় কথা, প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও ‘ওয়ার্কিং আওয়ার্স’-এর এই বেয়ারা রকমের বেড়ে চলাটাকে কেউই অস্বাভাবিক মনে করলেন না, বরং অনেকেই একে অত্যন্ত স্বাভাবিক, এমনকি কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছনীয় বলে মনে করতে থাকলেন। কেন বা কীভাবে এই বদল সম্ভব হতে পারল, তার ব্যাখ্যা দিতে হয়ত সমাজতাত্ত্বিক ও অর্থনীতিবিদরা পারলেও পারতে পারেন, কিন্তু বিষয়ের অতখানি গভীরে ঢোকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তো দিনের মধ্যে দশ-বারো ঘণ্টা কাজ করাটাকে আজকাল কেউই আর খুব একটা অস্বাভাবিক বলে দেখে না। বিশেষ করে আইটি সংস্থার কর্মীরা কোভিডের সময় থেকেই ‘ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম’-এর চক্কোরে পড়ে গেছেন – ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ হাতে ল্যাপটপ খুলে বসেন, রাত্তির দশটাতেও কানে ব্লুটুথ ইয়ারপড লাগিয়ে জরুরি কল নিতে থাকেন – কোনটা যে ‘ফ্যামিলি টাইম’ আর কোনটা ‘’ওয়ার্কিং আওয়ার’, সেসব তুচ্ছ কথা মাথায় আনার অবকাশ তাঁদের আর নেই। এমনিতেও বাজারের যা হাল, এত করেও মাইনে বাড়া তো দূর, চাকরিটি বজায় রাখাই চ্যালেঞ্জ – এবং চাকরি হারালে সমবেতনে অন্যত্র চাকরি পাওয়া দুরূহ।
এমতাবস্থায় আইটি-গুরু তথা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী নারায়ণমূর্তি সাহেব যখন বলে বসেন, যে, দিনে অন্তত পনের ঘণ্টা কাজ না করলে কিছুই হওয়ার নয়, তাতে অন্তত এদেশে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি-কর্মীরা খুব যে বিস্মিত হন, এমন নয়। দিনে বারো-চোদ্দ ঘণ্টা কাজ তাঁরা এমনিতেই করেন – ইন ফ্যাক্ট, বিরল কোনও দিনে দশ ঘন্টা কাজের পর ছুটি হলে তাঁরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন, কেউ কেউ হয়ত সেসব দিনে বউ-বাচ্চা নিয়ে ‘ডাইন-আউট’ করতেও বেরিয়ে পড়েন। তবু নারায়ণমূর্তি সাহেবের বক্তব্যের যে মূল ব্যাঞ্জনা – অর্থাৎ এ পোড়া দেশে কর্মীরা সেভাবে পরিশ্রমী নন, পনের ঘণ্টা কাজ না করলে যে কিছুই হওয়ার নয়, সেই সাধারণ বোধটুকুনি কর্মীদের মাথায় ঢোকে না – তা হতবাক করে দেওয়ার মতো বইকি!
দিনে পনের ঘণ্টা কাজ না করলে কিছুই হওয়ার নয়। কিন্তু ‘হওয়া’-টা কার? নারায়ণমূর্তি মালিক গোত্রের মানুষ। কর্মীরা পনের ঘণ্টা কাজ করলে মালিকপক্ষের যে লাভ হয়, সে তো বলা-ই বাহুল্য। বিশেষ করে, পনের ঘণ্টা কাজ করাটাই যে বাঞ্ছনীয় – অন্তত অস্বাভাবিক কিছু নয় – কর্মীদের এমনটা বিশ্বাস করানো গেলে মালিকপক্ষের সুবিধেটা স্বতঃসিদ্ধ। কম লোক দিনে বেশি সময় কাজ করলে মালিকের লাভ কেন, তার ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু নারায়ণমূর্তি কথাটা এমনভাবে বলেছেন, যেন এতে কর্মীদেরও লাভ – কর্মজীবনে উন্নতি, কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নাই, বাণীটি এই গোত্রের – সংশয় এখানেই। দেখে নেওয়া যাক, কর্মীদের ‘লাভ’ ঠিক কীরকম।
ইউরোপের কয়েকটি দেশের তথ্য একসঙ্গে জুড়ে ২০২১ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়, প্রথমসারির একটি জার্নালে। দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘসময় যাঁরা কাজ করেন (সপ্তাহে পঞ্চান্ন ঘণ্টার বেশি), কমসময় কাজ করা (সপ্তাহে তিরিশ থেকে চল্লিশ ঘণ্টা) মানুষদের তুলনায় তাঁদের হার্টের অসুখ, সংক্রামক ব্যাধি বা ডায়াবেটিস-এ ভোগার সম্ভাবনা বেশি – পঁয়ষট্টি বছর বয়সের আগে মারা যাবার সম্ভাবনাও বেশি।
১৯৯৮ থেকে ২০১৮, এই কুড়ি বছর ধরে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত ছেচল্লিশটি গবেষণাপত্রের তথ্য একত্র করে ২০১৯ সালে একটি মেটাঅ্যানালিসিস প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় কাজের সঙ্গে কর্মীদের শারীরিক স্বাস্থ্য তথা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি সরাসরি জড়িত। এবং সপ্তাহে পঞ্চান্ন ঘণ্টার বেশি সময় কাজ বহুপ্রকার অসুখবিসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০০০ থেকে ২০১৬, এই ষোল বছর ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিশ্বের একশ চুরানব্বইটি দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ২০২১ সালে তাঁদের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। দেখা যায়, বিশ্ব জুড়ে প্রায় উনপঞ্চাশ কোটি মানুষ সপ্তাহে পঞ্চান্ন ঘণ্টার বেশি কাজ করেন এবং এই অতিরিক্ত সময় কাজ করা বছরে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মৃত্যুর কারণ। হার্ট অ্যাটাক এবং সেরিব্রাল অ্যাটাক-এ (স্ট্রোক) মৃত্যুর কারণ। মৃত্যুর সংখ্যা বছরে সাড়ে সাত লক্ষ এবং অসুস্থতাজনিত কর্মক্ষমতা-হ্রাসের পরিমাপ তার বহুগুণ বেশি। সপ্তাহে যাঁরা পঞ্চান্ন ঘণ্টার বেশি কাজ করেন, সপ্তাহে পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ ঘণ্টা কাজ করা মানুষের তুলনায় তাঁদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা পঁয়ত্রিশ শতাংশ বেশি, হৃদরোগে ভোগার সম্ভাবনা প্রায় কুড়ি শতাংশ বেশি। এবং পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সের পর যাঁরা সপ্তাহে পঞ্চান্ন ঘণ্টার বেশি কাজ করতে থাকেন, অবসরগ্রহণের পরেও তাঁদের এরকম অসুখবিসুখ বা মৃত্যুর সম্ভাবনা বাকিদের চাইতে ঢের বেশি। মনে রাখা জরুরি, এই হিসেব সপ্তাহে পঞ্চান্ন ঘণ্টার বেশি কাজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার – নারায়ণমূর্তি সাহেব চাইছেন দিনে পনের ঘণ্টা, অর্থাৎ সপ্তাহে পঁচাত্তর ঘণ্টা, শনি-রবিও দু’চারটে কল ইত্যাদি ধরানো গেলে ব্যাপারটা আশি-নব্বই হতে বাধা কিছু নেই, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী দাঁড়াবে নিজেই হিসেবে করে নিন।
আরেকটি পৃথক গবেষণায় মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি খতিয়ে দেখা হয়। মানসিক চাপ বা স্ট্রেস-এর দিকগুলো এবং তদ্জনিত সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরা হয়। দেখা যায়, অতিরিক্ত সময় কাজের সঙ্গে নিদ্রাহীনতা সরাসরি যুক্ত – মদ্যপানে আসক্ত হওয়ার প্রবণতাও – সাংসারিক অশান্তি ইত্যাদিও।
অবশ্য এর জন্য গবেষণাপত্রের প্রয়োজন ছিল না। দিনের চোদ্দ-পনের ঘণ্টা কাজ করতে কাটলে নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য সময় বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না – অবকাশ বা রিল্যাক্স করার সময় বলতে যেটুকু অবশিষ্ট থাকে, সেটুকু চুটিয়ে উপভোগ করার নামে হুল্লোড় ও মদ্যপানের প্রবণতা বাড়ে, চোখকান খোলা রাখলে নিজেই আশেপাশে তার উদাহরণ দেখতে পাবেন। এও দেখতে পাবেন, চল্লিশের কোঠায় পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই সুগার-কোলেস্টেরল-ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার প্রবণতা – সেসব সামলাতে কেউ পায়ে দামি স্নিকার পরে ভোর পাঁচটায় হাঁটতে বেরিয়েছেন, কেউ রাত্তির সাড়ে দশটায় দৌড়াচ্ছেন – শারীরিক পরিশ্রম বা নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই, কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপ ও তদ্জনিত স্ট্রেস না কমানো গেলে, চাপমুক্ত অবসরের সময় বাড়ানো না গেলে, বিভিন্ন ‘মেটাবলিক সিন্ড্রোম’-এর হাত থেকে মুক্তি নেই।
প্রশ্নটা হলো, নারায়ণমূর্তি সাহেব কি এসব কথা জানতেন না? বা পনের ঘণ্টা কাজের নিদান দেওয়ার সময় তিনি এমন কথাগুলো ভুলে গিয়েছিলেন? আমার সন্দেহ, না।
দেশের হর্তাকর্তারা – এবং এক শ্রেণীর অর্থনীতিবিদরাও – মাঝেমধ্যেই দেশের বেড়ে চলা বৃদ্ধ-জনসংখ্যা নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন। বুড়োরা দেশের ‘’অর্থনৈতিক উন্নয়ন’-এর রথযাত্রার অংশীদার হন না। না তাঁরা উপার্জন করেন, না তাঁরা লাগাতার কেনাকাটা করে বাজার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখেন। এককথায় তাঁরা ‘ফালতু’। উলটে তাঁদের চিকিৎসা ইত্যাদির পেছনে সরকারের খরচা বাড়ে – আর পেনশন দিতে হলে তো কথাই নেই! সেক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় পঞ্চান্ন-ষাট নাগাদ বেশ কয়েক হাজার টেঁসে গেলে মন্দ কী!! সচেতনে না হলেও অবচেতনে এমন দেশপ্রেমিক চিন্তা নারায়ণমূর্তি সাহেবের মাথায় এসেছিল কিনা বলা মুশকিল।
তবে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির চিন্তা তো ছিলই। প্রথমত আইটি ইন্ডাস্ট্রি তথা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নতি। কম মানুষকে দিয়ে বেশি সময় কাজ করিয়ে নেওয়া গেলে মালিকের মুনাফা বেশি, সে তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু আধাসুস্থ এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কর্মীদের দিয়ে সেই মুনাফা কতখানি সম্ভব, তা প্রশ্নযোগ্য। নারায়ণমূর্তিদের সুবিধে হলো, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় অধিকাংশ কর্মীদের দিয়েই যে-ধরনের কাজ করানো হয়, তাতে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের সুযোগ বিশেষ থাকে না। একটা চালু লব্জ আছে – আইটি কুলি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রয়োগ হতে থাকলে এই শ্রেণির কর্মীদের অধিকাংশই অবান্তর হয়ে পড়বেন, কিন্তু যতদিন না তা হতে পারছে, ততদিন আধাসুস্থদের দিয়ে বাড়তি সময় খাটিয়ে কাজ আদায় করে নিতে নারায়ণমূর্তিদের কোনও অসুবিধে নেই।
এবং দ্বিতীয়ত – অনিবার্যভাবেই – হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি। প্রথমটির চিন্তা নারায়ণমূর্তি সাহেবের মাথায় সচেতনভাবে থাকলেও এটির উন্নতির কথা তিনি সরাসরি ভেবেছিলেন কিনা জানি না। তবে তাঁর সদুপদেশের বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি অনিবার্য। এ কথা কিছু গোপন নয়, যে, স্বাস্থ্যব্যবসার মূল লাভ আসে – সারিয়ে দেওয়া যায়, এমন অসুখের চিকিৎসা করে নয় – বরং ক্রনিক অসুখের চিকিৎসায়, যার চিকিৎসা ‘’চলতে থাকে, চলতেই থাকে”। আগে সেসব অসুখ মূলত বয়স্কদের হতো, এখন বিভিন্নরকম উদ্যোগ ও কারণে ব্যাপারটা ‘ক্যাচ দেম ইয়ং’ করে ফেলা গিয়েছে। কেমন হয়, কাজের সময়-টময় বাড়িয়ে আরও একঝাঁক তরুণ-তরুণীদের প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা গেলে? আর এছাড়া গাছের শিকড়ের কথা ভুলে আগায় জল ঢালার যে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, তার সুবাদে মানসিক চাপের জন্য কাজের চাপ কমানোর পরিবর্তে কাউন্সেলিং, অল্পবয়সে ক্রনিক অসুখের সম্ভাবনার কারণে তিরিশ বছর বয়স হতে না হতেই বিভিন্ন হেলথ চেক-আপ, থরো স্ক্রিনিং এসব সুযোগসুবিধা তো থাকছেই।
আর তৃতীয়ত, বীমা ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি। বিশদ ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। হেলথ ইনশিওরেন্সের প্রিমিয়াম কী হারে বেড়ে চলেছে, সেটা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবীমা করানোর প্রবণতা বাড়বে (মুনাফামুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই বাজারে স্বাস্থ্যবীমা যে প্রায় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে, সে নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে কি?), আরেকদিকে বীমাপূর্ব স্বাস্থ্যপরীক্ষায় টুকটাক গোলযোগ ধরা পড়লে (চূড়ান্ত স্ট্রেসের কারণে যা খুবই সম্ভব) তরুণ-তরুণীদের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়মও বাড়িয়ে ফেলা সম্ভব হবে – যাকে বলে উইন-উইন সিচ্যুয়েশন!!
অতএব ‘“সব কা সাথ সব কা বিকাশ” না হোক, মালিকপ্রজাতিভুক্ত কতিপয়ের জন্য চমকপ্রদ ‘বিকাশ’-এর সুবর্ণ সুযোগ তো দেখা-ই যাচ্ছে। আর এমন ‘সব’-এর বিকাশ ঘটাতে গিয়ে দু-দশ হাজার উটকো মানুষ শব হয়ে গেলে, সে আর এমন কী! স্রেফ কোল্যাটারাল ড্যামেজ-ই তো। বড়ি বড়ি দেশোঁ মে অ্যায়সি ছোটি ছোটি বাতেঁ… ওই যাকে বলে, এমন তো কতোই হয়।
স্বাস্থ্যের বৃত্তে পত্রিকায় পূর্বে প্রকাশিত।
PrevPreviousট্রেন থেকে স্বাধীন ভারতবর্ষ যেরকম দেখায়
Nextনারী ও শ্রম: ছক ভাঙ্গা গল্পNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

নারী ও শ্রম: ছক ভাঙ্গা গল্প

May 1, 2026 No Comments

ঊনবিংশ  শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডের সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ রবার্ট আওয়েন আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম এবং আট ঘণ্টা খুশি মত সময় কাটানোর দাবি তোলেন যা  শ্রমিক

ট্রেন থেকে স্বাধীন ভারতবর্ষ যেরকম দেখায়

May 1, 2026 No Comments

মাঝখানে উজ্জ্বল একফালি জমি, দুধারে ঢাল বেয়ে তরল অন্ধকার গড়িয়ে গিয়েছে, কিনারায় ছায়ার ফাঁকে ফাঁকে তালসুপারিহিজলতমাল যেখানে যেমন মানায় নিপুন হাতে গুঁজে দেয়া, আর্দ্রতার প্রশ্রয়

রুচিহীন, কুৎসিত, ব্যক্তি আক্রমণ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত

April 30, 2026 No Comments

না! আমি কাউকে বেইমান বলাটা সমর্থন করি না। সন্তানহারা মাকে বলাটা তো নয়ই! এটা অপ্রার্থিত, এবং আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়! তবে, রাজনীতির আখড়ায় প্রাচীনযুগ থেকেই এসব

অশ্লীল মিম নয় মৃত্যুহীনতা এই নির্বাচনের থিম

April 30, 2026 No Comments

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে বিশেষ করে ২০১১ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চায়েত – পুরসভা থেকে বিধানসভা – লোকসভা প্রতিটি নির্বাচন ঘিরে শাসক দলের প্রশ্রয়ে

ভারতে হাম: একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবু এত ঝুঁকি কেন?

April 30, 2026 No Comments

২৭ এপ্রিল ২০২৬ ফেসবুক লাইভে আলোচিত।

সাম্প্রতিক পোস্ট

নারী ও শ্রম: ছক ভাঙ্গা গল্প

Gopa Mukherjee May 1, 2026

কতটা কাজ করলে তবে কর্মী হওয়া যায়?

Dr. Bishan Basu May 1, 2026

ট্রেন থেকে স্বাধীন ভারতবর্ষ যেরকম দেখায়

Debashish Goswami May 1, 2026

রুচিহীন, কুৎসিত, ব্যক্তি আক্রমণ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত

Dr. Koushik Lahiri April 30, 2026

অশ্লীল মিম নয় মৃত্যুহীনতা এই নির্বাচনের থিম

Bappaditya Roy April 30, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

620133
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]