দু কোটি নব্বই লক্ষ (৪৬%) ভোট পেয়ে বিজেপি আজ পশ্চিমবঙ্গের মসনদে। কারা এদের এতো ভোট দিলেন? সরকারি আর বেসরকারি তৃণমূলীরা যথারীতি এদের পুরো নির্বাচকমন্ডলিকেই (electorate) সাম্প্রদায়িক ভোট বলে, নিজেদের দুর্নীতি, গুণ্ডাগিরি, তোলাবাজিকে আড়াল করতে চাইছে; মানতে চাইছে না যে এই জনাদেশের সবচেয়ে বড় কারণ নো মমতা/ নো তৃণমূল। সত্যিই কি পশ্চিমবঙ্গের প্রায় অর্ধেক লোক, অথবা প্রতি তিনজন হিন্দুর মধ্যে দুই জন সাম্প্রদায়িক?
আপনার নিজের অভিজ্ঞতা কি বলে? “এই সরকারকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না, যে ভাবে হোক, একে তাড়াতেই হবে”, ” সবাইকে তো একবার দেখা হলো, বিজেপিকেও একবার দেখা হোক”, “যে আসবে, আসুক, এর চেয়ে কি আর খারাপ হবে?” – এই কথাগুলো কি সাম্প্রদায়িক মনে হয়? না মনে হয়, আর্থ – রাজনৈতিক অজ্ঞতা? এরা বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলোর অবস্থা জানে না বা জানতে চান না! সব তথ্যই তো পাবলিক ডোমেইনেই পাওয়া যায় । তাই এদেরকে তথ্য দিয়ে বোঝানো দরকার, সত্যিটা কি?
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ। হিন্দু ধর্মকে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে এক ধরনের এক বলগা জাতীয়তাবাদ- হিন্দু – হিন্দুত্ব- হিন্দুস্থান, যার কপি রাইট বিজেপি নিয়ে বসে আছে।
তারা খুব সহজেই এটা করতে পারে কারণ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে নানা রঙের জাতীয়তাবাদ এর উন্মেষ ঘটেছিল। তার একটাকে এরা খুব ধূর্ততার সাথে ব্যবহার করছে। জাতীয় কংগ্রেস তার উদারনৈতিক জাতীয়তাবাদ দিয়ে সেটা ঠিক মতন প্রতিরোধ করতে পারেনি; আর আমরা বামপন্থীরাও আমাদের আন্তর্জাতিকতা দিয়ে সেটা ঠেকাতে পারিনি।
আমাদের ব্যর্থতা মানুষকে ঠেলে দিয়েছে উলটো দিকে। এই মানুষগুলোকেও আমি ঠিক সম্প্রদায়িক বলবো না। কিন্তু অবশ্যই তাদের চেতনতার অভাব। এই কাজটা মানে এই মানুষগুলোকে সচেতন করা সব চেয়ে কঠিন কাজ।
এর পর আসে, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা ক্রমবর্ধমান, এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই । কিন্তু এই তিন কোটির মধ্যে ঠিক কত ভাগ লোক সম্প্রদায়িক? ঠিক কখন একজন মানুষকে সাম্প্রদায়িক বলা যেতে পারে? এটা প্রশ্নগুলো ভাবা দরকার।
রাজনীতিতে শব্দ চয়ন খুব সাবধানে করা উচিত। মনে রাখবেন, আপনি হাজারো ক্যামেরার পর্যবেক্ষণে। লেখাতে, বক্তৃতায়, স্লোগানে খুব ভেবে চিন্তে শব্দ ব্যবহার করা উচিত। যেহেতু বিজেপি সব চেয়ে বড় শত্রু, এবং তারা ধর্মীয় জাতীয়বাদ দিয়ে এক বিরাট সংখক মানুষকে দলে টেনে আনতে পেরেছে, সেইটা মনে রেখে খুন সচেতনভাবে শব্দচয়ন এবং ব্যবহার করতে হবে। এই নিয়ে উদাহরণ দিয়ে পরে একটা লেখার ইচ্ছা আছে।
আপাতত বিজেপির গুন্ডাদের আক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ।











সময়োপযোগী, যুক্তিপূর্ণ লেখা।
ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ প্রতিরোধের পথ না জানাতে পারলে তো সাম্প্রদায়িকতা বাড়তেই থাকবে। এখন তাই সেই পথটা খোঁজা দরকার।