সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর ছোট-মাঝারি ডাক্তার আর বড় ডাক্তার নিয়ে এক ধরনের সোশ্যাল ছ্যাবলানি সারাক্ষণ সহ্য করতে হয়। এটা যে আগে ছিল না, তা নয় কিন্তু! রোমান সাম্রাজ্যের সময়েও এই বিষয় নিয়ে ক্যাঁচালের সন্ধান পাওয়া যায়! বিষয়টি নতুন নয়।
এবার ‘ইয়া বড়’ মানে বিরাট বড় ডাক্তার হতে চাইলে কী কী করণীয়, কী কী গুণাবলী থাকা দরকার, এই বিষয়ে আমি অনেকের মতামত নিয়েছি। এবং এটা শুধু একদিন একটা ইন্টারভিউ নিয়েছি, এমন নয়। সুদীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই কাজটি আমি করেছি- অবশ্যই গোপনে। কারণ, এরকম গবেষণায় সরকারি অনুমোদন মেলে না। অনুদান তো নয়ই! 😥
এটি এক রকমের সায়েন্টিফিক পদ্ধতি, যাকে বলা চলে ‘সিঙ্গেল ব্লাইন্ড স্টাডি’। মানে যাদের মতামত নিয়েছি, তারা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে আমি নিজে ডাক্তার। এটাও বোঝেনি যে কেন এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করেছি। ফলে তাদের উত্তরগুলোর একটু হলেও মূল্য আছে… থাকা উচিত।
মেডিকেল সিস্টেমে থাকা লোকজন থেকে শুরু করে নন-মেডিকেল—এমন অনেকের কাছ থেকে মূল্যবান মতামত সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি। দু-একজন ভিন্ন পেশার মানুষ, যেমন: শিক্ষক, উকিল, রাজনীতিবিদ—এদেরও মতামত নিয়েছি। বিষয়টা আরও আট-নয় বছর আগে থেকে করা উচিত ছিল; মানে ছাত্রাবস্থায় যখন এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করি। কিন্তু হয়নি।
সত্যি বলতে, তখন বড় ডাক্তার বলতে যাদের বুঝতাম, বেশিরভাগই আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকা। কারণ, তার বাইরের জগৎ তখন অজানা ছিল। এবার সবাই বুঝবেন—ছাত্রছাত্রীদের চেতনায় শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি একরকম ‘বায়াস’ তৈরি হবেই। তাই এই বায়াসড পর্যবেক্ষণ আমি এই লেখায় উল্লেখ করব না।
এমনকি ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও বাদ দিলাম, কারণ এরাও কোনো না কোনোভাবে বায়াসড হতে পারেন। আরও কিছু মানুষ এক্সক্লুডেড… যেমন ধরুন ডাক্তারের পরিজন, বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, এক্স-ক্রাশ ইত্যাদি প্রভৃতি। 😋
এবার ফলাফল জানার জন্য উন্মুখ হয়ে পড়েছেন, তাই তো? সবুর করুন।
আমি ডাক্তার… ফলে পরিসংখ্যান তৈরিতে যে ফের বায়াসড হব না, সেটি সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে নিন। না হলে এমন গবেষণা থেকে যেটা পাবেন, সেটা কোনো কাজে লাগবে না। আপনি হয়তো ভাবছিলেন আমি নিজে বিরাট বড় ডাক্তার হওয়ার জন্য এমন গবেষণা করেছি! এই ভুলটা প্রথমেই মগজ থেকে ডিলিট করুন। ডাক্তার হওয়ারই কোনো ইচ্ছে কোনোকালে ছিল না, তার ওপর আবার বড় ডাক্তার! রাজনীতিবিদ না হলেও জনস্বার্থে এরকম দু-একটা কাজ বিনামূল্যে আমি মাঝে মাঝেই করে থাকি। 😋
যাইহোক, ফলাফলটা একটু বলে নিই।
পরিসংখ্যানের কচকচানি লিখছি না, লেখা বড় হবে বলে। বড় ডাক্তারদের ক্যাটেগরিতে—ফি কম/বেশি, ব্যবহার ভালো/খারাপ, দারুণ কথা বলতে পারা/ইন্ট্রোভার্ট, দেখতে ভালো/অ্যাভারেজ/খারাপ, হেব্বি বক্তৃতা দিতে পারা/লজ্জা পাওয়া, মুচকি হাসতে পারা/গোমড়ামুখো, রাজনীতি করতে পারা/না পারা, ইনকাম কম/বেশি, তেলের বোতল পকেটে রাখতে পারা/না পারা, জিভ ছোট/বড়, স্যুট-বুট-টাই পরা, গানে-কবিতায়-ছবি আঁকায় পারদর্শী, ভালো ভিডিও রিল থেকে পেপার পাবলিশ করতে পারদর্শী, জুনিয়রকে খিস্তি মারা/দোস্তি করা, কাজ করা/ফাঁকি মারা, পড়াতে পারা না পারা/ডাক্তারি করতে পারা না পারা… এরকম শ-খানেক ক্যাটেগরিতে বড় ডাক্তারদের শ্রেণিবিভাজন পেয়েছি।
ফলে এরকম একটি গবেষণার ফলাফল হাতে নিয়ে ঘেঁটে ঘন্ট হয়ে শেষমেশ যে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি, সেটা বলা বাহুল্য।
এইরকম একটি পণ্ডশ্রম এক যুগেরও বেশি সময় ধরে করে একটা বিষয় বুঝতে পেরেছি—বিরাট বড় ডাক্তার বিষয়টি হয় একটি তৈরি করা মিথ, নয়তো সেটি যাচাইযোগ্য বিষয়ই নয়!! হতে পারে বিজ্ঞাপনী ফাঁদ, নয়তো আমার গবেষণার চূড়ান্ত ব্যর্থতা।
তাই এটি পড়ার পর যাদের মানতে কষ্ট হবে, তাদের বলব—আপনি আমাকে একটু বড় ডাক্তারের ক্রাইটেরিয়াগুলো বলবেন। আমি না হয় আর এক যুগ ধরে গবেষণা করব এবং ২০৩৮ সালে ফের আরেক পর্ব লিখব এই নিয়ে। এরপরও যদি আপনি সত্যিই বড় ডাক্তার হয়ে থাকেন বা বিরাট বড় ডাক্তারের খোঁজ পেয়ে থাকেন, আমাকে একটু জানাবেন পিলিজ। গণদেবতার ‘বিরাট বড় ডাক্তার’দের নিয়ে ক্যাঁচালের যদি একটু হলেও সুরাহা হয়, মন্দ কী?
এবার শেষ ভাটটুকু লিখেই শেষ করব।
এরকম একটি জঘন্য গবেষণা কেন করছিলাম জানেন? ভাবছিলাম ঘরোয়া বিষয় ঘরেই ছিটকিনি লাগিয়ে আটকে রাখব, পারলাম না কিছুতেই। উপরোক্ত বিরাট বড় ডাক্তারদের কোনো ক্যাটেগরিতেই পড়ি না বলে আমার কোনো আফসোস নেই, বিন্দাস আছি।
শুধু তেরো বছর ধরে কানের কাছে গিন্নির ঘ্যানঘ্যান আর সহ্য হচ্ছে না! উঠতে-বসতে, শুতে, এমনকি ডাক্তারি করার সময় অব্দি ফোন করে খোঁটা দেয়—”ডাক্তার হয়েছে! একটুখানি বড় হতে পারলে না? এক যুগ ধরে তোমার শর্ট সাইজের জামাকাপড় খুঁজতে খুঁজতে আমার জান কয়লা হয়ে গেল!”
আর যা যা বলে সেসব… না, থাক! 🥱











