মহার্ঘ্য ভাতা প্রসঙ্গে দু একটা কথা বলে রাখি। এটা অধিকার নাকি সরকারের দয়ার দান সেই বিতর্কে না গিয়েই বলছি, রোজগার বাড়লে কা’র না ভালো লাগে, বিশেষ করে সেই সব সরকারি কর্মচারী যারা সৎ পথে থেকে চাকরিটা করেন, উপরি টুপরি নেন না। তাই আশায় আশায় থাকি। এই নতুন সরকারের আমলেও আশায় আছি। যদি বাড়ে, নিশ্চয়ই খুশি হবো, কেন মিথ্যে বলবো। সঙ্গে তিনটি বাড়তি কথা বলতে চাই।
সরকারি কর্মী হিসেবে আমাদের সবার উপলব্ধির মধ্যে আমাদের নিয়োগকর্তা অর্থাৎ রাজ্য সরকারের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে আমরা ওয়াকিবহাল। সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে কোনো রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রীয় হারে ভাতা না বাড়াতে পারেন তাতে দুঃখ পেলেও মেনে নিতে আপত্তি ছিলনা যেমনটা বাম আমলে দেখেছি। কিন্তু সেই আমলে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের সময় রাজ্যের প্রধান নিয়োগকর্তাকে বলতে শুনিনি যে, “ঘেউ ঘেউ করবেন না”। কুকুর ব্যক্তিগত ভাবে আমাদের অনেকেরই প্রিয় পোষ্য তাবলে কুকুরের সাথে তুলনা ! খুব বেদনাদায়ক।
দ্বিতীয় কথা এই যে ডি এ বাড়লে, আনন্দের দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবো সেই সব সংগ্রামী কর্মচারীদের অবদান যারা আন্দোলন না করলে ওই আনন্দের দিন দেখতে পেত না আমার মতো সুবিধাবাদী গা বাঁচানো কর্মীরা।
তৃতীয় কথা, ওই আনন্দের দিনে অফিসে অফিসে আবির খেলা নিশ্চয়ই হবে। তাতে আপত্তি নেই। হয়তো আবির এর রং এবার সবুজের বদলে কমলা। তাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু আমার পাশের টেবিলে যে ভাইটি বোনটি কাজ করে ন্যাশনাল হেলথ মিশনের চুক্তি ভিত্তিক কর্মী, যাদের চুক্তিতে “মহার্ঘ্য ভাতা” শব্দটাই নেই, যে হয়তো আমার সাথে একই ভাবে হেসে আমার দেওয়া লাড্ডুটা মুখে পুরবে, তার ওই হাসিটার পেছনে কতটা বঞ্চনা, লাঞ্ছনার দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকবে সেটা আমরা সরকারি কর্মীরা বুঝতে পারব তো? আর কিছু বলার নেই। নতুন সরকারের কাছে আবেদন, তাদেরও কিছু বাড়ুক। ওরা আমাদেরই ভাইবোন।












