Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

পশ্চিমবঙ্গের জনক নন শ্যামাপ্রসাদ, ২০ জুনে পূর্ণতা পায় নি এই রাজ্য

Oplus_131072
Parichay Gupta

Parichay Gupta

My Other Posts
  • June 22, 2026
  • 6:43 am
  • One Comment

২০ শে জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে বলে কার্যত শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বিকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে তাইই নয়, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বিভাজিত বঙ্গের ইতিহাসের কবর খুঁড়ে বের করে ফের বর্তমান প্রজন্মের মনে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে,, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখে বাংলাকে ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ গঠন করা হয়েছিল এবং হিন্দু বাঙালির ভূখণ্ড হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের জনক ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

না। একেবারেই নয়। এই তথ্য অতিরঞ্জিত। মিথ্যে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে বাংলা ভাগ নিয়ে আইনসভায় সদস্যরা বিভাজিত হয়ে যায়। কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট দল চেয়েছিল বাংলা ভারতেই থাকুক ধর্ম নিরপেক্ষ রাজ্য হিসেবে। বিভাজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ভোটাভুটির মাধ্যমে তাতেই প্রস্তাব ছিল বাংলা খণ্ডিত হলে কোন রাষ্ট্রে থাকতে চায়? মুসলিম লীগ চেয়েছিল অখণ্ড বঙ্গ থাকুক পূর্ব পাকিস্তানে। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র। লীগের এই ঘোষণা বাধ্য করে কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টিকে বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দিতে, হিন্দু অধ্যুষিত অংশকে ভারতের মধ্যে রাখতে। কারণ, ঘোষণা হয়েছিল ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। হিন্দু বাঙালিরা ধর্ম নিরপেক্ষ ভূমিতেই থাকতে চায় বলে ভোটাভুটির সময় বাংলা ভাগের পক্ষে ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করে ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের প্রদেশ হিসেবে থাকতে। শুধুমাত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় চেয়েছিলেন হিন্দু বাঙালির জন্য পৃথক রাষ্ট্র। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তৎকালীন হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। তবু বাংলা দ্বিখন্ডিত হলেও হিন্দু মহাসভার ফর্মুলা মেনে সেটা হয় নি। কারণ হিন্দু মহাসভার ভোট ছিল মাত্র একটি। অন্যদিকে ৩৪ জন কংগ্রেস প্রতিনিধি ও ৩ জন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখে বাংলার আইনসভায় ভোটাভুটি হয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে থাকার অঙ্গীকারেই পশ্চিমবঙ্গের ভারত ভুক্তি হয় । একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়া কেউ হিন্দু রাষ্ট্রের দাবি তোলেন নি। হিন্দুত্বের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ অংশের ভারত ভুক্তি একমাত্র হিন্দুসভা ছাড়া কেউ চায় নি।

শ্যামা প্রসাদ ও বাংলা ভাগ

জিন্নার মতই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় চেয়েছিলেন দেশভাগ হোক। জিন্না চেয়েছিলেন মুসলিমদের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্র, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় চেয়েছিলেন হিন্দুদের জন্য বাংলা ভাগ।

স্বাধীনতার প্রাক্কালে গান্ধীজি নিজে এবং কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি, অন্যান্য বামপন্থী দল-কেউই দেশভাগ তথা বাংলা ভাগের পক্ষে ছিলেন না। ‘হিন্দু-হোমল্যান্ড’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ তাঁদের লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু হিন্দুদের জন্য বাংলাভাগ ও দেশভাগের পক্ষে ছিল গেরুয়া রাজনীতি। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালি দাঙ্গার পর বাংলায় হিন্দুরাও বাংলা ভাগের পক্ষে আওয়াজ তুলতে থাকে। নজিরবিহীনভাবে বাংলায় হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠে। হিন্দু মহাসভা ‘হিন্দু’ বাঙালিদের জন্য পৃথক প্রদেশের দাবি তুলতে থাকে। প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে ১৬ মার্চ (১৯৪৭) কলকাতার ভারত সভা হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে হিন্দু বাঙালির জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তোলা হয়। সভাপতির ভাষণে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বলেন, পৃথক হিন্দু প্রদেশ হোক বাংলা, যদিও সংখ্যালঘুদের জন্য ‘সর্বপ্রকার সুবিধা দেওয়া হবে এবং পূর্ব বঙ্গের হিন্দুদের নাগরিক অধিকার দেওয়া হবে। সভায় বঙ্গবিভাগের প্রস্তাব উত্থাপন করেন নির্মলচন্দ্র চ্যাটার্জি। (যুগান্তর, ১৭ মার্চ ১৯৪৭) এদিকে হুগলীর তারকেশ্বরে বাংলা ভাগের দাবিতে হিন্দু মহাসভা ১৯৪৭ সালের ৪-৬ এপ্রিল প্রাদেশিক সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলাকে ধর্মের ভিত্তিতে দু’ভাগ করার দাবি তোলেন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে সংযুক্ত সার্বভৌম বঙ্গ প্রদেশ গঠনের পক্ষেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। শ্যামাপ্রসাদ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। তিনি তখন তৎকালীন বাংলার আইন সভায় হিন্দু মহাসভার একমাত্র সদস্য হিসেবে ১৯৪৭ সালের ১১ মে সর্দার প্যাটেলকে চিঠি লিখে বলেন, “পাকিস্তান হোক বা না হোক, বাংলা প্রদেশ ভেঙ্গে দু’টি প্রদেশ করতে হবে।” (দুর্গা দাস সম্পাদিত, সর্দার প্যাটেলস করসপন্ডেন্স, ভলিউম চার, পৃষ্ঠা ৪০)

আসলে ১৯৪৬-এর ভোটে সুরাহওয়র্দীর মন্ত্রীসভার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলায় হিন্দুরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। জেগে ওঠা হিন্দুত্ব। এসব দেখে শ্যামাপ্রসাদ বিশেষ উৎসাহ পান। ওই সময়ে দুর্ভিক্ষ হয়। দুর্ভিক্ষ সামাল দিতে ব্যর্থ সুরাহওয়র্দীর শাসন হিন্দুমনে জন্ম দেয় প্রবল ক্ষোভ। ছেচল্লিশের কুখ্যাত দাঙ্গা তাতেই আরও ইন্ধন দেয়। কলকাতার রাস্তায় ঘটে চলা রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধ দেখে বাংলার বহু হিন্দু দেশভাগ ও বাংলা ভাগ চাইতে থাকে। বাংলা ভাগের পক্ষে মত দিতে থাকে। হিন্দুদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা তৈরী হয়ে যায় যে “মুসলমানদের সরকার” গঠন হলে হিন্দুদের থেকে যেতে হবে মুসলমানদের অধীনে। তখন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ বলতে থাকলেন, হিন্দু বাঙালিদের জন্য পৃথক প্রদেশ চাই। “বাংলা যদি পাকিস্তান হয়ে যায়, বাঙালী হিন্দুদের যদি পাকাপাকি মুসলমান শাসনে থাকতে হয়, তাহলে সেটা হবে বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির শেষ অধ্যায়…নীচু জাতের কিছু হিন্দু যারা মুসলমান হয়েছে, তাদের খুশী করতে হিন্দু সংস্কারকে বলি দেওয়া…(”হাতে লেখা ড শ্যামাপ্রসাদের ছেচল্লিশ সালের নোট।) একসময় যিনি ছিলেন “অবিভক্ত বাংলা”-র সমর্থক, সেই শ্যামাপ্রসাদ শেষ পর্যন্ত হিন্দুত্বের ভিত্তিতে বাংলা ভাগের পক্ষে চলে গিয়েছিলেন।

বিজেপি এখন এই রাজ্যে সেই হিন্দুত্বের উত্থান চাইছে। তাই তারকেশ্বরে মোদিকে এনে উৎসব সূচনা করছেন, যে মাটিতে দাঁড়িয়ে হিন্দুদের জন্য পৃথক রাজ্য চেয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। ২০ জুনকে তাই তারা ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করে এটাই মনে করিয়ে দিতে চায় যে একদিন ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ হয়েছিল। উদ্দেশ্য, বিভাজিত বাঙালির সত্তায় আবার হিন্দুত্বের জিগির তোলা। স্কুল কলেজেও তাই  ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করতে নির্দেশ দিয়েছে। উদ্দেশ্য বর্তমান প্রজন্মের মনে সাম্প্রদায়িক চিন্তা ঢুকিয়ে দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ, হিন্দু বাঙালির পৃথক ভূমি এটা ফের মনে করিয়ে দেওয়া, এভাবেই এ রাজ্যের বাঙালিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়িয়ে দেওয়া।

বাংলা ভাগের কৃতিত্ব কার? একটি মিথ

শ্যামাপ্রসাদ লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে চিঠি লিখে বাংলা বিভাজনের প্রস্তাব দেন ১৯৪৭ এর মে মাসে। পাশাপাশি স্বাধীন অবিভক্ত বাংলার বিরোধিতা করেন। লর্ড মাউন্টব্যাটেন হিন্দু মহাসভাকে একেবারেই গুরুত্ব দিলেন না। ৩ জুন তিনি শুধু পণ্ডিত নেহরু, জিন্না আর শিখদের প্রতিনিধি সর্দার বলদেব সিংহকে নিয়ে বৈঠক করলেন। বৈঠকে হিন্দু মহাসভা বা শ্যামাপ্রসাদ ডাক পান নি। সেখানে তিনি ভারত ও পাকিস্তান দুটি পৃথক রাষ্ট্রের বিষয়টি চূড়ান্ত করলেন। দুদিন পরে শ্যামাপ্রসাদ খবরের কাগজ থেকে এই সংবাদ জানলেন।

এর ঠিক পরেই স্থির হল বাংলাকেও দুই ভাগে ভাগ করা হবে। মাউন্টব্যাটন রোয়েদাদ অনুযায়ী আহূত বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেমব্লিতে সদস্যদের বৈঠক বসে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন। বাংলাভাগ এবং ভারত বা পাকিস্তানের গণপরিষদে যোগদানের প্রশ্নে সভার সদস্যদের মতামত নথিভুক্ত করা হয়। ভোটাভুটি হয় তাই নিয়েই।

অবশেষে ২০ জুন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে (আইন সভায়) ২৫০ সদস্য বিশিষ্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেমব্লিতে সভায় (১৯৪৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল অনুযায়ী) প্রধান শক্তিশালী দল ছিল-১১৩ আসনে জয়ী মুসলিম লিগ এবং ৮৬ আসনে জয়ী জাতীয় কংগ্রেস। সি পি আই-র ছিল ৩টি আসন-জ্যোতি বসু, রতন লাল ব্রাহ্মণ ও রূপনারায়ণ রায়, মাত্র একটি আসন ছিল হিন্দু মহাসভার যার প্রতিনিধি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভোটে কী হয়েছিল দেখা যাক।

ভোট হয়েছিল তিনবার। বাংলা ভাগ হবে নিয়ে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ জেলাগুলির প্রতিনিধিরা কী ভাবছে ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির প্রতিনিধিরা কী ভাবছে জানার জন্য দুবার ভোট হয়েছিল। শেষে আরেকবার ভোট হল পশ্চিমবঙ্গ ভারতে না পাকিস্তানে থাকবে। মুসলিম লীগ প্রভাবিত মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ জেলাগুলির প্রতিনিধিরা চেয়েছিলেন অখন্ড বাংলাকে পাকিস্তান ভুক্ত করতে। তাই নিরুপায় হয়েই বাংলাভাগ করে হিন্দু অধ্যুষিত অংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে কংগ্রেসের সঙ্গে কমিউনিস্টরাও প্রথমে বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেয়, পরে হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলো নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করতে মত দান করে। বাংলার আইন সভায় সেই সময় সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধি ছিল মুসলিম লীগের। ১০৭ জন মুসলিমপ্রধান এলাকার বিধায়করা ভোট দিলেন পাকিস্তান ও বিভাজনের পক্ষের প্রস্তাবে। আর ৩৪ জন ছিলেন বিপক্ষে। হিন্দু এবং অমুসলিমরাও ৫৮-২১ ভোটে বিভাজনের জন্য ভোট দিলেন এবং বললেন ভারতের সঙ্গে থেকে যাবেন। যথারীতি তাদের দাবিতে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলি নিয়ে পূর্ববঙ্গ গঠিত হয় যা পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে থাকে পশ্চিমবঙ্গ অংশটি, যা মূলত হিন্দু অধ্যুষিত। সেই অংশকে ভারত ভুক্তির পক্ষে ভোট দেন ৫৮ জন যার মধ্যে মাত্র একা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি ছিলেন। জ্যোতি বসু সহ তিন জন কমিউনিস্ট প্রতিনিধি ছিলেন। বাকিরা সকলেই কংগ্রেসি। তাহলে শুধুমাত্র একা শ্যামাপ্রসাদ চেয়েছিলেন বলেই বাংলা ভাগ হলো, একথা কি করে ঠিক হয়? আর তিনি একা চেয়েছিলেন বলেই কি পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ঢুকে গেল? দুটোই মিথ্যে। বারংবার প্রচার করে সেই মিথ্যে কথাটাকে একটা মিথে পরিণত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এখানে উদ্দেশ্য একই। বাংলার আগামী প্রজন্ম যেন ভাবতে ও বিশ্বাস করতে শুরু করে যে একমাত্র হিন্দুত্বের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ জন্ম নিয়েছিল আর সেই পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র জনক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

বাঙালিকে রাজনৈতিকভাবে দখল করা হয়ে গেছে। এখন সাংস্কৃতিকভাবে বাঙালি মনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য এভাবেই বাংলার ইতিহাসকে বিকৃত করে তোলার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০ জুন বাংলা বিভাজন হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে, এবং হিন্দুদের জন্য তৈরি হয় পশ্চিমবঙ্গ। তাহলে এই পশ্চিমবঙ্গ হিন্দুদের, মুসলিমরা কেন এখানে থাকবে? এধরনের সাম্প্রদায়িক মিথ্যে ভাষণ এর সঙ্গে জুড়ে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবটা হল, হিন্দু মুসলিম সকলে মিলে যাঁরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে তাঁরা ঠিক করেছিলেন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানে যাবেন না। যে সমস্ত মুসলিম ধর্ম নিরপেক্ষতা পছন্দ করেন তাঁরাও সেদিন এই পশ্চিমবঙ্গে থেকে যান এই আশ্বাস পেয়ে যে ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ বলে ঘোষণা করছে, তাই তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ থাকবেন। এখন এই পশ্চিমবঙ্গ শুধুই হিন্দুদের বলা মানে ইতিহাসের চরম বিকৃতি। আর সেটাই করার অপলক্ষণ এই পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের পিছনে উঁকি দিচ্ছে। রাজ্যটাকে ফের হিন্দুত্বের আখড়া করার জন্যই পশ্চিমবঙ্গের জন্ম দিন আর জনক নিয়ে এত হইচই। এটাও আসলে ইতিহাসের আড়ালে হিন্দুত্ববাদীদের রাজনীতিতে শান দেওয়া।

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর তাই এবছর ২০ জুন থেকে ঢাক ঢোল পিটিয়ে শুরু হলো শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন। বাংলা ভাগের জনক হিসেবে। কিন্তু যাঁরা বঙ্গ বিভাজন নিয়ে উৎসব পালন করতে চান নতুন খণ্ড পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন হিসেবে তাঁরা কি জানেন শেষ পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ বঙ্গ বিভাজনের জন্য আক্ষেপ করতেন। বাংলা ভাগের পর লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু হয়ে এই বঙ্গে আসা আর তাদের অবর্ণনীয় কষ্ট ,দুর্দশা দেখে ১৯৫২ সালে চাকদহের এক জনসভায় শ্যামাপ্রসাদ আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাগের জন্য মানুষের এত কষ্ট হবে, এ যদি আগে বুঝতে পারতাম, তাহলে বাংলা ভাগ চাইতাম না। এখন মনে হচ্ছে, যোগেন বাবুরা বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করেছিলেন, তা সঠিক ছিল।’

কথাগুলো কি শ্যামাপ্রসাদ ভক্তরা মনে রেখে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে উদ্বাস্তু আর দুর্দশাগ্রস্ত বাঙালির পাশে এসে দাঁড়াবে?

PrevPreviousশুধু, এক মুঠো নুনের জন্য ……
Nextঅবিলম্বে NEET SS ২০২৫ কাউন্সেলিং শুরু করতে হবে।Next
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Dr. Jayanta Bhattacharya
Dr. Jayanta Bhattacharya
3 months ago

ভালো লেখা। তবে আরও আধুনিক কিছু গবেষণা ব্যবহার করা যেত।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

লগ্নভ্রষ্টা

September 22, 2026 No Comments

নিচের গল্পটা আমার লেখা, কিন্তু সুকন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। যে বন্ধুরা আমার লেখা মাঝেমধ্যে হলেও পড়ে থাকেন, তাঁদের মধ্যে কেউ যদি বুঝতে পারেন কেন এটা সুকন্যা

গণেশ চতুর্থী: পেট পুজো না পেটকাটা?

September 22, 2026 No Comments

কিছুদিন আগে জন্মাষ্টমীর দিন কলকাতার বিভিন্ন নার্সিংহোমে একদিনে প্রায় দশ কুড়িটা করে সিজার হয়েছিল। সাধারণত প্রতিদিন যা হয় তার দুই থেকে তিনগুণ। আজ গণেশ চতুর্থী

দীর্ঘ আলাপচারিতা: এমসিডিএসএ, এবিজেডিএফ ও অভয়া আন্দোলন, শ্রমিক কৃষক মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ…

September 22, 2026 No Comments

একজন তরুণী রাজনৈতিক কর্মীকে পাঠানো জীবননাশের হুমকির নিন্দা করুন।

September 21, 2026 1 Comment

সমসাময়িক ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণ কণ্ঠস্বর নেহা বোরা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের পিএইচডি গবেষক এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর জাতীয়

একটা গল্প বলি।

September 21, 2026 No Comments

মামুনি কীভাবে আমাদের পরিবারকে একসাথে বেঁধে রেখেছিল, আগেই বলেছি। এর পেছনে একটা কারণ ছিল। ঠাকুমা মারা যাবার পর আমাদের পরিবারটা যেন হঠাৎ ভিত হারিয়ে ফেলল

সাম্প্রতিক পোস্ট

লগ্নভ্রষ্টা

Dr. Sukanya Bandopadhyay September 22, 2026

গণেশ চতুর্থী: পেট পুজো না পেটকাটা?

Dr. Indranil Saha September 22, 2026

দীর্ঘ আলাপচারিতা: এমসিডিএসএ, এবিজেডিএফ ও অভয়া আন্দোলন, শ্রমিক কৃষক মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ…

Dr. Punyabrata Gun September 22, 2026

একজন তরুণী রাজনৈতিক কর্মীকে পাঠানো জীবননাশের হুমকির নিন্দা করুন।

Kanchan Sarker September 21, 2026

একটা গল্প বলি।

Dr. Arjun Dasgupta September 21, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

678358
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]