ইসকন আর তার এনজিও ‘অক্ষয় পাত্রের’ মিড ডে মিলের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে আগেও বহু রাজ্যে ঝামেলা হয়েছে। খানিক ইন্টারনেটে খোঁজ নিলেই দেখা যাবে, যেখানেই ইস্কনকে মিডডে মিলে সংযুক্ত করা হয়েছে, সেখানেই প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গবেষণা করতে হবে, এমন নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম শিশুদের জন্য উচ্চমানের প্রোটিন, অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, আয়রন, জিঙ্ক ইত্যাদির অন্যতম সুলভ উৎস। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে ডিম প্রাণিজ প্রোটিনের একমাত্র উৎস। কিন্তু ইস্কনের বারবার স্কুলে নিরামিষ চাপিয়েছে। বারবার ছাত্রছাত্রী, বাবা-মা, সমাজকর্মী, পুষ্টিবিদরা আপত্তি করেছেন। পরিস্থিতি সামলাতে অন্ধ্রপ্রদেশে সরকারকে আলাদা ব্যবস্থা করে ডিম বিতরণ করতে হয়েছে। রাজস্থান ও ওড়িশাতেও পুষ্টিবিদ এবং খাদ্য-অধিকার কর্মীরা তর্ক করেছেন যে শিশুদের পুষ্টিগত অধিকার আগে, কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খাদ্যসংক্রান্ত বিশ্বাস সেখানে বাধা হতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গেই বরং সব বেশ চুপচাপ।
এছাড়া, কর্ণাটকে অক্ষয় পাত্রের রান্নায় পেঁয়াজ ও রসুন বর্জনের ফলে বিস্বাদ খাবারে ছাত্রছাত্রীদের খাদ্যগ্রহণে অনীহার কথাও নানা সমীক্ষায় উঠে এসেছে। কর্ণাটক স্টেট ফুড কমিশনের তদন্তে দেখা যায় যে বহু ছাত্রছাত্রী খাবারকে স্বাদহীন, একঘেয়ে বলে মনে করছে। একারণে শিক্ষক সংগঠনগুলোও চেয়েছে, ইস্কনের হাতে দায়িত্ব না দেওয়া হোক। আমাদের এখানে শিক্ষকরা ডিএ পেয়েছেন, চুপচাপ আছেন। পেঁয়াজ ও রসুন আবার আয়রন ও জিঙ্কের শোষণে সাহায্য করে। কিছু রাজ্যে সরকার এরপর ইস্কনকে নির্দেশ দেয়, ডিম না হলেও তারা পেঁয়াজ রসুন অন্তত ব্যবহার করুক। কিন্তু অক্ষয় পাত্র তাদের ‘সাত্ত্বিক’ খাদ্যনীতির কথা উল্লেখ করে এই সুপারিশ মানতে রাজি হয়নি।
পুষ্টিমান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলে CAG। ক্যাগের একটি পারফরম্যান্স অডিটে দেখা যায় যে ইস্কনের কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে সরবরাহ করা ১৮৭টি খাদ্য নমুনা নির্ধারিত পুষ্টিমানের মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ। অডিটে ক্যালরি ও প্রোটিনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশ ও বিশাখাপত্তনম সহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে খাবারের নিম্ন মান, অপর্যাপ্ত পরিমাণ এবং সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ এসেছে।
অক্ষয় পাত্রের কেন্দ্রীভূত ‘মেগা কিচেন’ মডেলও সমালোচিত। খাবার প্রস্তুত করে বহু দূরের বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। এতে খাবার পচে যেতে পারে, টাটকা খাবার না-ও পাওয়া যেতে পারে।
তাছাড়া এই মডেলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি আটকে দেওয়া গেল। দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা, দলিত নারী, আদিবাসী নারী এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মহিলারা যুক্ত ছিলেন। কর্ণাটকের মাঙ্গালুরু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত রান্নাঘরের বিস্তারের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাঁধুনি ও শ্রমিক সংগঠনগুলি আন্দোলনও করে।
মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্প সুপ্রিম কোর্টের খাদ্যের অধিকারের রায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি অধিকারভিত্তিক কর্মসূচি, যার লক্ষ্য শিশুদের পুষ্টিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পে কী খাদ্য পরিবেশন করা হবে তা নির্ধারণ করার কথা পুষ্টিবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য নীতি এবং স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির ভিত্তিতে। কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাস-অবিশ্বাস তার নিক্তি হতে পারে না।
পুনশ্চ: শুভেন্দুবাবু বলেছেন সমাজমাধ্যমে যত সমালোচনা হবে, কাজের গতি তত বাড়বে। তাই গতিবর্ধক সমালোচনা করলাম৷











