আপনি কখনো কোনো রাজনীতি দলের নন।
আপনি পরীক্ষার্থী ছিলেন না এবারের নিটে।
রাওলাট আইনের দেশী সংস্করণে ক’দিন আগেই তো গ্রেপ্তার হন ।
আই টি সেল আর ওয়াশিং মেশিনের যুগে,
আপনার লাগেনি তিল কর্দম-ছিটে।
গুনে গুনে চোদ্দটা দিন পেরিয়ে গিয়েছে আজ আপনার অনশন।
দাবীটা সামান্য। সত্যি বলতে, অপরাধ অনুপাতে সেটা তুচ্ছই।
চালুনিকে লজ্জায় ফেলা প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে
শিক্ষার মন্ত্রীটি ইস্তফা দিন।
ফাঁস শুধু নিট নয়, গত একটা দশকে সংখ্যাটা মাত্রই ঊননব্বই,
অন্তত এ কটাই ধরা পড়ে গেছে। বিগত বছর দশে কোশ্চেন লিক হওয়া হয়েছে রুটিন।
আপনি কোনো পরীক্ষার্থীর অভিভাবক নন। অথবা কোচিংএর মালিক।
তবু আপনি অনশনে চোদ্দটা দিন।
সরকার নিস্পৃহ। মিডিয়াও গা ছাড়া, হয়তো বা নিরুপায়,
কভারেজে চাকরিটি যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে রিলের মিছিল, এই সব বললেই অ্যাকাউন্টটি ব্লক।
আরশোলা নাকি পাখি বলে কত ব্যঙ্গের পোস্ট, কেউ নেই সমস্যা জরুরি যে ভাবে।
আরে বাবা পরীক্ষা হলো তো আবার! কেন এত গোলমাল করে যে নিছক!
শুধু এক কলিজায় রয়ে গেছে বেলচাকে বেলচাই বলবার ধক।
সারবে না এ অসুখ,
সোনাম ওয়াং চুক।
ভিতু এক নীরবতা থিতু হয়ে বসে আছে কুয়াশার মতো,
নিরাময়হীন। যত যাবে দিন তত বেড়ে যাবে ক্ষত।
এই প্রায়-মৃত দেশে ,
কেন যে এখনো আছে আপনার মতো লোক টিকে!
হে মোর দুর্ভাগা দেশ,
নিজের আগামী নাও হেসে হেসে ধ্বংসের দিকে।
লজ্জিত দেশমাতা কাঁপা হাতে চলেছেন প্রিয়
সন্তানটির ইতিহাস লিখে।










