
ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানা রাজ্যে। চারিদিকে যখন শুধুই বৃক্ষ সংহার পর্ব চলছে, সবুজ সরিয়ে পটভূমি ধূসর করে উন্নয়নের নামে গাছপালা কেটে সাফ করে ফেলা হচ্ছে তখন তেলেঙ্গানা রাজ্যের জগুলাম্বা গাডওয়াল জেলার রাজোলি মণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত পেড্ডা থানড্রাপাডু গ্রামের মানুষজন এককাট্টা হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা জমিতে ৭৫ বছর বয়সী একটি অশথ গাছকে (Ficus religiosa) কেটে ফেলার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।
জমির মালিক গাছটিকে কেটে ফেলার উদ্যোগ নিচ্ছেন এমন কথা জানতে পেরেই গ্রামবাসীরা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবাদ জানান। গ্রামের প্রায় মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা পিপল গাছটির সঙ্গে গ্রামবাসীদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। তাঁরা জমির মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন যে তিনি সরকারি জমি বেদখল করে রেখেছেন ফলে জমির ওপর তাঁর দাবি খারিজ করা হোক। গাছ নিয়ে এমন আবেগে অবাক হয়েছেন মণ্ডলের আধিকারিকরা।
এদেশে দুরাত্মার অভাব নেই, অভাব নেই তাঁদের লাগামহীন ছলচাতুরির। গাছটি বিপদজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, তাকে কেটে না ফেলা হলে ভবিষ্যতে বড়ো রকমের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে – এমন দাবি করেছেন বর্তমানের জমি মালিক। এই খবর শোনার পর গ্রামের মানুষজন রীতিমতো ক্ষেপে ওঠে। তাঁরা সত্যিটা জানিয়ে নতুন করে আবেদন করেন সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। বনবিভাগের কর্তাদের কড়া বার্তা পাঠান তাঁরা।
গ্রামের মানুষজন প্রকৃতি পরিবেশের সঙ্গে এখনও নিবিড় সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে থাকতে ভালোবাসে। কয়েক পুরুষ ধরে যে গাছের সঙ্গে তাঁদের সখ্যতা তাকে এমনভাবে ঘাতকদের কুঠারাঘাতে বিদায় দিতে সায় দেয়নি তাঁরা। পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে এই পিপল গাছের ডাল,পাতা তাঁরা ব্যবহার করেন লোকাচারের রীতি নিয়ম মেনে। এই গাছটি সকল গ্রামবাসীর অস্মিতা ও পরম্পরাগত ঐতিহ্যের প্রতীক, তাঁদের গর্বিত হেরিটেজের অংশ।একে কাটা চলবে না। যে গাছ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, ছায়া দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে এতোকাল তাকে কেবলমাত্র বয়সের দোহাই দিয়ে কেটে ফেললে তা হবে চরম অকৃতজ্ঞতা। এ কাজ করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবাদ দানা বাঁধে।
কুর্ভা রামুডুর শেষ কথাকটি বুকের গভীরে এসে ধাক্কা মারে, যন্ত্রণা বিদ্ধ এক কাটা পিপল গাছের অনুচ্চারিত আর্তনাদের মতো।
ঋণ স্বীকার: দ্যা হিন্দু পত্রিকা
আগস্ট ২৭,২০২৬













এমন আন্দোলন দিকে দিকে হোক। সেই সঙ্গে বট,অশ্বত্থ, নিম, বেল ,পাকুড় এর মত দেশি গাছের সংখ্যা বাড়ুক। পাখিরা সমস্ত গাছে আশ্রয় পাবে, খাদ্যও পাবে।
মানুষ কে মানুষ করতে না পারলে এতো চলবেই।এই লেখা গাছকে এক জীবন্ত চরিত্র বানিয়ে তুলেছে।তার অসহায়তা আমাদের মনকে নাড়িয়ে দেয়। মণিকা দাশগুপ্তের মন্তব্য।