
সম্ভাব্য ২৩৯,০০০ মৃত মানুষের মানুষের তালিকায় শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা আফ্রিকার সোহেল অঞ্চলের। গরমের প্রভাব অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে এই অঞ্চলের প্রায় ৬৬,৮০০ মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা। নাইজেরিয়ায় মারা যেতে পারেন ৩১,৪০০ জন। ভারতবর্ষে অতিরিক্ত প্রাণহানি ঘটতে পারে ১৫,৮০০ জনের, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯৩০০ জনের, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন্স, ভিয়েতনাম,কাম্পুচিয়া এবং থাইল্যান্ডে সম্মিলিতভাবে মারা পড়তে পারেন ১৯৪০০ জন, ব্রাজিলের ১৩,৩০০ অধিবাসী প্রাণ হারাবেন এই প্রত্যাসন্ন বিপর্যয়ের কারণে। ভাবলে কেমন শিউরে উঠতে হয়। যাঁরা বেঁচে যাবেন তারা বিপন্ন হবে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে। স্বস্তি নেই।
হালের এই সমীক্ষা থেকে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমাদের জন্য এক উষ্ণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে আছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এই পরিস্থিতিই হতে চলেছে আগামী পৃথিবীর নতুন স্বাভাবিকতা – নিও নর্মাল। এই তাপীয় পরিস্থিতি কতদিন বজায় থাকবে তা বলা মুশকিল। তবে সকলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বলে যে , পৃথিবীর ভবিষ্যৎ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই গরম হয়ে উঠবে। আগে করা সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী এর ফলে ভুল বলে প্রমাণিত হতে চলেছে এই অভাবিত তাপীয় পরিস্থিতির কারণে। এর আগে মনে করা হয়েছিল যে উষ্ণায়নের ফলে স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে।এল নিনোর কারণে সেই পূর্বানুমানও হয়তো ভেঙে যাবে। এই তাপীয় পরিস্থিতি শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে এবং তা স্থায়ী হবে উত্তর গোলার্ধের আগামী বসন্ত অর্থাৎ মার্চ এপ্রিল মাস পর্যন্ত। এরফলে অতি উষ্ণ দিনের সংখ্যা এই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৪% বেড়ে যাবে।
এই গবেষণার সূত্র ধরেই খোঁজ করতে হবে বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা ও মানুষের মৃত্যু হার বেড়ে যাওয়ার অন্ত: সম্পর্কের বিষয়টিকে। বিষয়টি যে অত্যন্ত জরুরি তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। পরিণতির কথা ভেবে হাত পা গুটিয়ে, মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে সম্ভাব্য মৃত্যুর মিছিলকে প্রতিহত করা যায়।
এল নিনোর শক্তি বৃদ্ধির কারণে এই বছর দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেকটাই কম হয়েছে – প্রায় ১২. ৫% । এমনিতেই বৃষ্টিপাতের চরিত্রে রদবদল হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের বিস্তির্ণ অংশ সহ মহারাষ্ট্র এখন প্রবল খরা কবলিত। খরা বন্যা দুইই আমাদের কৃষি তথা খাদ্য নিরাপত্তার পক্ষে বড়ো অভিশাপ। এল নিনো এসবে নিরন্তর ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে। এই অস্থিত অবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়াই আগামীর সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট, ডাউন টু আর্থ পত্রিকা।
এই বিষয়ে লেখকের পৃর্ববর্তী নিবন্ধ সমূহ। ছবির জন্য প্রচলিত চিত্র উৎসগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ।
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬












Ek bhoyonkar bhobishyot amader jonyo opekkha korchey ! Prokritir upor eto otyachar hoyechey, jey eii obhishaap thekey amader Mukti nei ! Ekmatro path holo dushon komano, ar joto beshi shombhob brikkhoropon.
বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে লেখাটির জন্য লেখককে ধন্যবাদ